Home /News /local-18 /
Durga Puja 2021: সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষে শিলিগুড়ির চক্রবর্তী বাড়ির পুজো

Durga Puja 2021: সুবর্ণ জয়ন্তী বর্ষে শিলিগুড়ির চক্রবর্তী বাড়ির পুজো

photo source local 18

photo source local 18

Durga Puja 2021: শিলিগুড়ির লেকটাউন এলাকাস্থিত নিরঞ্জন চক্রবর্তীর পরিবারে একচালা সাবেকি প্রতিমায় আজও মহামায়া পূজিতা হন সম্পূর্ণ নিষ্ঠা, ভক্তি ও আনন্দমুখর হয়ে।

  • Share this:

    #শিলিগুড়ি: পুজো মানেই হৈ-হুল্লোড়, মাতামাতি, সপরিবারে ষষ্ঠী থেকে দশমী জমজমাটে আড্ডা! কিন্তু করোনা কেড়ে নিয়েছে সেই সবই। বনেদি বাড়ি থেকে বারোয়ারি পুজো সবেতেই থাবা বসিয়েছে করোনা (coronavirus)।

    কোথাও শতাব্দি প্রাচীন পুজো(Durga Puja 2021) বন্ধ, আবার কোথাও ১৫০ বছরের আদি বনেদি পুজোও বন্ধ। তবে শিলিগুড়ির লেকটাউন এলাকাস্থিত নিরঞ্জন চক্রবর্তীর পরিবারে একচালা সাবেকি প্রতিমায় আজও মহামায়া পূজিতা হন সম্পূর্ণ নিষ্ঠা, ভক্তি ও আনন্দমুখর হয়ে।

    নিরঞ্জনবাবু ১৯৭২ সালে এই পুজোর স্থাপনা করেন(Durga Puja 2021)। সেই পুজো আজ ৫০-এর গণ্ডি পেরিয়েছে। চক্রবর্তী পরিবারের কথায়, তাদের এই পুজো এবার ৫১তম বর্ষ হত। তবে ২০১৯ সালে পারিবারিক এক সমস্যার কারণে সেবছর পুজো হয় না। স্বভাবতই এবছর তাদের পুজোর সুবর্ণ জয়ন্তী।

    চক্রবর্তী বাড়ির বর্তমান কর্তা তপন চক্রবর্তী নিউজ ১৮ লোকালকে (News 18 Local) শারদীয়ার শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, 'আমার বাবা নিরঞ্জন চক্রবর্তী ১৯৭২ সালে জগদ্ধাত্রী পুজো (Durga Puja 2021)দিয়ে শুরু করেন মাতৃ আরাধনা। সে বছর এবং পরবর্তী দু'বছর জগদ্ধাত্রী পুজো হয় আমাদের এই নাটমন্দিরে। তারপর বাবাকে দেখেছি দুর্গাপুজোর আয়োজন করতে।

    আমাদের এই নাটমন্দিরে দেবীর পাশাপাশি মা কালি,‌ মা মনসা ও শিতলা মায়েরও আরাধনা হয়। বাবা এখন আর (Durga Puja 2021)আমাদের মাঝে নেই। তবে তাঁর হাতে তৈরি এই পুজো বন্ধ হয়নি। আমরা গোটা পরিবার সমস্ত নিয়মনীতি ও নিষ্ঠাভরে এই পুজো করে আসছি। আর আগামীতেও করব।'

    চক্রবর্তী বাড়ির বড় বউ কৃষ্ণা চক্রবর্তী কিন্তু সমস্ত বাসন আসবাব পরিষ্কারে ব্যস্ত। কারণ ষষ্ঠী থেকে দশমী মহামায়াকে দিতে হবে ভোগ। সেই ভোগের সম্পর্কে জানতে চাইলে কৃষ্ণাদেবী (Durga Puja 2021)বলেন, 'ষষ্ঠীতে পঞ্চাঙ্গ ভোগ, নাড়ু, ফল-ফলাদি, নৈবেদ্য, মিষ্টি, সন্দেশ, মিষ্টান্ন, লুচি-পায়েস ইত্যাদিতে মাকে ভোগ দেওয়া হয়। সপ্তমীতে অন্নভোগ দেওয়া হয়।

    এই যেমন ছোলার ডাল, আলু-ফুলকপির তরকারি, ছানার তরকারি, পাঁচ রকম ভাজা, চাটনি ইত্যাদি। অষ্টমীতে আবার খিচুড়ি ভোগ দেওয়া হয়। সঙ্গে থাকে পাঁচ রকম সবজি দিয়ে লাবড়া, সেই পাঁচ রকমের ভাজা, চাটনি, মিষ্টি, লুচি এবং পায়েস। নবমীতে ভোগ একটু আলাদা। ঐদিন মাকে আমরা পোলাও ভোগ দেই। সঙ্গে থাকে পনিরের তরকারি, পাঁচ রকমের ভাজা, ছানার তরকারি, চাটনি, মিষ্টি, লুচি এবং পায়েস। আর দশমীতে মাকে পান্থা ভাত, কচুর শাক ও শ্যাপলা শাক দেওয়া হয় ভোগ। তারপর পুঁটি মাছের যাত্রা অতঃপর বিসর্জন(Durga Puja 2021)।'

    চক্রবর্তী বাড়ির জামাই তথা শিক্ষক বিশ্বজিৎ রায় অবশ্যই অন্য আঙ্গিক তুলে ধরেন। তিনি নিউজ ১৮ লোকালকে (News 18 Local) বলেন, 'প্রতিটি বাড়ির পুজোর বা বনেদি বাড়ির পুজোর সূচনাকালে যিনি এই পুজোর সূত্রপাত করেন তাঁর মনের মধ্যে যে আবেগটি কাজ করে তা হল, বাড়ির বা পরিবারের সকলকে একটি সময়ে একটিবারের জন্য একত্রিত করা। এই প্রবণতা কিন্তু সব বাড়ির পুজোর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। আসলে আমরা বাঙালীরা প্রত্যেকেই খুব উৎসবমুখী(Durga Puja 2021)।

    যে কোনো উৎসবই আমরা ভালোবাসি। বর্তমানে যে সময় আমরা বসবাস করি সেই সময়ে প্রায় প্রত্যেকেই আমরা ব্যস্ততার সাগরে ডুবে। ফলত কোন পরিবারই এখন বর্তমানে একান্নবর্তী পরিবার আর নেই। পরিবারের প্রত্যেককে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত। বিক্ষিপ্ত হয়ে টুকরো পরিবারে অবস্থান। স্বভাবতই এই পুজো হলে সেই টুকরো পরিবারগুলি মূল পরিবারে ফেরার একটা অবকাশ থেকে যায়। পুজোর এই কয়টা দিন হইহুল্লোড় করে, আনন্দ করে, ভাব বিনিময় করে মাকে আবাহনে ব্রতী হওয়া যায়। সেই সঙ্গে সব থেকে বড় একটা বিষয় পরবর্তী প্রজন্ম তারা তাদের আত্মীয়দের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার জায়গাটাও কিন্তু সুবিস্তৃত করে দিচ্ছে এই পুজোই(Durga Puja 2021)।'

    বিশ্বজিৎবাবু বলেন, 'আমার শ্বশুরবাড়ির এই পুজো গতবছর বন্ধ থাকে। মনটা আনচান করছিল। তখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবছর যেকোনওভাবেই হোক মাকে বরণ করতেই হবে। আর করোনা আমাদের দেখিয়ে তো দিয়েইছে যে আমরা কতটা অসহায়। সেখানে এই উৎসবগুলোই না হয় প্রাণখোলার এক বিকল্প হয়ে থাক। আমরা সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে যতটা সম্ভব দূরত্ব বজায়(Durga Puja 2021)রেখেই না হয় ফের উৎসবমুখর হব।'

    Vaskar Chakraborty

    Published by:Piya Banerjee
    First published:

    Tags: Chakraborty Family, Durga Puja, Siliguri

    পরবর্তী খবর