ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ডায়েটে রাখতে পারেন ভারতীয় খাবার, রয়েছে একাধিক উপকারিতা

ডায়েট বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি যথাযথভাবে রান্না করা যায়, তাহলে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে ভারতীয় খাবার।

ডায়েট বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি যথাযথভাবে রান্না করা যায়, তাহলে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে ভারতীয় খাবার।

  • Share this:

#কলকাতা: ওজন কমানোর প্রসঙ্গ এলেই ডায়েটে সাধারণত পাশ্চাত্য খাবারগুলিকেই স্থান দেওয়া হয়। তা সে ওটস হোক কিংবা নানা ধরনের ফ্রুট স্যালাড। কারণ অনেকেরই একটি বদ্ধ ধারণা রয়েছে। ভারতীয় খাবার মানে রুটি বা ভাতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট আর কারিতে অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট। কিন্তু আদতে ভারতীয় খাবারে সমস্যা নেই। সমস্যা রয়েছে তা তৈরি করার পদ্ধতিতে। ডায়েট বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি যথাযথভাবে রান্না করা যায়, তাহলে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী হতে পারে ভারতীয় খাবার। পাশাপাশি এটি আপনার শরীর ফিট রাখতেও সাহায্য করে। এবার কারণগুলি জেনে নেওয়া যাক।

ফ্রেশ খাবার

ডায়েট বিশেষজ্ঞদের কথায়, ভারতীয় ডিসগুলির একটি বড় গুণ হল, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলি খুব ফ্রেশ হয়। এগুলি প্রসেসড ফুড নয়। কারণ ব্রেকফাস্ট থেকে লাঞ্চ সবকিছুই সময় নিয়ে ভালো করে রান্না করা হয়। তা সে রুটি, চাপাতি হোক বা কারি, সমস্ত ক্ষেত্রেই নানা ধরনের খাদ্যশস্য বা মরশুমি সবজি ব্যবহার করা হয়। তাই একাধিক ভিটামিন সমৃদ্ধ পুষ্টিকর এই খাদ্য উপাদানগুলি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারে।

পুষ্টিকর খাদ্যশস্য

সাধারণত গম দিয়ে রুটি বা চাপাতি তৈরি করে খাওয়া হয়। তবে ভারতীয় খাবারে একাধিক খাদ্যশস্যের ব্যবহার রয়েছে। গম ছাড়াও, জোয়ার, বাজরা, রেগির তৈরি রুটি, পরোটা, চাপাতি খায় মানুষজন। আর এই খাদ্যশস্যগুলিতে প্রোটিন, ফোলেট, ক্যালশিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম সহ একাধিক উপাদান থাকে। এগুলি শরীর ফিট রাখার পাশাপাশি ওজন কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।

রান্নার মশলা

ভারতীয় খাবারে নানা ধরনের মশলা ব্যবহার করা হয়, যা খাবারের স্বাদ ও গন্ধ দুটি বাড়াতে সক্ষম। হলুদ, গোল মরিচ, লবঙ্গ, এলাচ, দারচিনি, সরষে থেকে শুরু করে এই রকম আরও একাধিক মশলা রয়েছে। এগুলির মধ্যে থাকা অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান বহু রোগ দূর করতে পারে। এগুলিকে যদি যথাস্থানে সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করা যায়, তাহলে মেটাবলিজম রেট ঠিক থাকে। ওজন কমানোর ক্ষেত্রেও একাধিক সুবিধা পাওয়া যায়। এদিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে ভারতীয় খাবার।

স্বাস্থ্যকর ফ্যাট

অনেকেরই বিভিন্ন ধরনের কারি বা কড়া করে ঝোল রেঁধে খাওয়ার অভ্যাস থাকতে পারে। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হল, এই কারি তৈরি করতে ঠিক কী ধরনের বা কতটা পরিমাণ ফ্যাট ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারতীয় খাবার তৈরি করতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সরষের তেল, নারকেলের তেল ও ঘি ব্যবহার করা হয়। যদি এগুলি সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করা যায়, তাহলে শরীরের পক্ষে যথাযথ এই ফ্যাটগুলি। কিন্তু অতিরিক্ত তেল ব্যবহার করলেই বিপদ। এতে ওজন কমার বদলে বাড়তে পারে। শরীরে অন্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

রকমারি খাবার

রোজ এক খাবার খেয়ে ক্লান্ত হয়ে যেতে পারেন। তাই প্রায় সময় সবাই খাবারে একটু ফ্লেভার বা ভ্যারাইটি খোঁজে। এক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান ডিস পারফেক্ট কম্বো হতে পারে। পোহা, ইডলি, সাবু দানার খিঁচুড়ি, উপমা। একের পর এক নানা ডিস আপনার অপেক্ষায় রয়েছে। এগুলি স্বাদেও আলাদা আর ওজন বাড়ারও খুব একটা সম্ভাবনা নেই।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: