Ramadan 2021 : রমজান মাসে শরীর চনমনে রাখতে জেনে নিন কী খাবেন, কী খাবেন না?

কম শর্করা এবং ভালো ফ্যাটজাতীয় খাবার খান ছবি : সংগৃহিত

অনেকেই সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে ইফতারের (Ramadan Roza Fast) পর অনেক বেশি খেয়ে ফেলেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় সবাই যেন খাবারের প্রতিযোগিতাতে নেমে পড়েন...

  • Share this:

    রমজানে (Ramadan) সুস্থ থাকাটা অত্যন্ত জরুরি। তাই এ সময় পরিমিত খাবার গ্রহণ করতে হবে। অনেকেই সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে ইফতারের পর অনেক বেশি খেয়ে ফেলেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় সবাই যেন খাবারের প্রতিযোগিতাতে নেমে পড়েন। কে কত খেতে বা রান্না করতে পারে। কিন্তু এ সময় ভাজা-পোড়া, গুরুপাক খাবার খেলে অসুস্থ হয়ে পড়ার আশংকা খুব বেশি।

    কারণ এই সময় সারা দিন রোজা রেখে পাকস্থলী খুব ক্ষুধার্ত ও দুর্বল থাকে। তারপর যদি এত রকম গুরুপাক খাবার একসঙ্গে খাওয়া হয়, তাহলে পেটের সমস্যা, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, অবসাদ, আলসার, অ্যাসিডিটি, হজমের সমস্যা ইত্যাদি হয়তো হয়ে উঠবে রোজার নিত্যসঙ্গী। এমনকি দেখা যায় অনেকের ওজনও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এই একমাসে।

    তাই রমজানে জেনে বুঝে খাবার গ্রহণ করুন। এর উপরই আপনার সুস্থতা নির্ভর করবে। জেনে নিন রমজানে সুস্থ থাকবেন যেভাবে:

    বেশি করে জল খান:

    সারাদিন রোজা রাখার কারণে জল খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হয় রোজার উপোসে। এজন্য ইফতার থেকে সাহরির আগ পর্যন্ত ঘন ঘন জল খাওয়া খুবই জরুরি। তবে কখনোই একসঙ্গে অনেক জল পান করবেন না।

    ফলের রস ও দুধ:

    শরীর ঠাণ্ডা রাখতে তাজা ফলের রস বা দুধ খেতে পারেন। তরমুজ বা মাল্টার মতো রসালো ফল-মূল খেতে হবে। বেশি করে শাক-সবজি খেতে হবে, যেমন- শসা, লাউ, পালং শাক, পেঁপে ইত্যাদি।

    চা-কফি খাবেন না:

    রমজানে কফি, চা এবং সফ্ট ড্রিঙ্কস সেবন করলে প্রস্রাব বেড়ে যায়। এর ফলে শরীর দ্রুত জলশূন্য হতে থাকে। এ কারণে ইফতার বা সাহরিতে চা, কফি বা সফ্ট ড্রিঙ্কস ইত্যাদি পানীয় না খাওয়াই ভাল।

    অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহার করুন:

    রোজায় সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে মিষ্টি এবং ফ্যাটজাতীয় খাবারের প্রতি আমাদের আসক্তি বাড়ে। তাই ইফতারে ভাজা-পোড়া বা ভারি খাবার এড়িয়ে চলুন। বাদাম খাওয়ার চেষ্টা করুন। তেল-মশলা ছাড়া ছোলা খেতে পারেন।

    জাঙ্ক ফুড একেবারেই নয় 

    ভাজা-পোড়া খাবারের পরিবর্তে গ্রিলড, বেকড বা স্টিমযুক্ত খাবার বেছে নিন। ইফতারের সময় একসঙ্গে বেশি খাবার খাবেন না। প্রয়োজনে পরিমাণে অল্প অল্প করে কয়েকবার খান। মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

    বিশ্রাম এবং শরীরচর্চা:

    এক মাসের টানা উপবাস। তাই শরীর ফিট না রাখলে কাজ-কর্ম সব অচল হয়ে পড়বে যেটা কখনোই কাম্য নয়। একদিন রোজা রাখার পর আবার পরের দিনের জন্য শরীরকে প্রস্তুত করতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ওয়ার্ক আউট করা। এজন্য শরীরকে পুষ্টি দিতে হবে। যার মাধ্যমে শরীর আপনাকে শক্তি দেবে। তাই ফল, শাক-সবজি, মাংস, মাছ এবং হাঁস-মুরগির ডিম, দুধ, দই বা পনির এবং স্বাস্থ্যকর চর্বিজাতীয় খাবার বেশি করে খেতে হবে। খাবার খাওয়ার সময় ধীরে ধীরে সময় নিয়ে খাবেন। তাহলে খাবার দ্রুত হজম হবে।

    রোজায় ফাইবারযুক্ত খাবারের জুড়ি মেলা ভার। এ সময় যদি কম শর্করা এবং ভালো ফ্যাটজাতীয় খাবার খান; তাহলে শরীর অনেক শক্তি পাবে। শরীর কখনও ক্লান্ত হবে না। শরীরকে সচল রাখতে রমজানে নিয়মিত হাঁটাহাঁটি করুন। প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন। পাশাপাশি বিশ্রামও নিতে হবে, তাই বলে সারাদিন শুয়ে-বসে থাকবেন না। রমজানের সময় প্রতিদিন দুপুরের পর একটু ঘুমিয়ে নিন।

    Published by:Sanjukta Sarkar
    First published: