পয়সার চেয়ে পরিবার আগে, কেরিয়ারের চেয়ে স্বাস্থ্য! সমীক্ষায় বেরিয়ে এল নতুন তথ্য

পয়সার চেয়ে পরিবার আগে, কেরিয়ারের চেয়ে স্বাস্থ্য! সমীক্ষায় বেরিয়ে এল নতুন তথ্য

বিগত ছয় মাসে এক ধাক্কায় বদলেছে আমাদের বাঁচার ধরন, জীবনের থেকে আমাদের চাওয়া পাওয়া।

বিগত ছয় মাসে এক ধাক্কায় বদলেছে আমাদের বাঁচার ধরন, জীবনের থেকে আমাদের চাওয়া পাওয়া।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: কোভিড পরিস্থিতি কিন্তু রাতারাতি বিপুল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে আমাদের বেঁচে থাকায়। বিগত ছয় মাসে এক ধাক্কায় বদলেছে আমাদের বাঁচার ধরন, জীবনের থেকে আমাদের চাওয়া পাওয়া।

কিন্তু জীবনযাপনের মূলে রয়েছে যে প্রাথমিক অর্থ উপার্জনের প্রয়োজন, সেই জায়গায় কোনও বদল ঘটেছে কি? কেন না, সমাজে বেঁচে থাকতে হলে হাতে টাকা থাকাটা যেমন দরকার, তেমনই স্বাভাবিক। তা না হলেই প্রতি পদে পড়তে হবে বিপদের মুখে। খাবার মিলবে না, পোশাক মিলবে না, এমনকি অসুস্থ হয়ে পড়লে মিলবে না ওষুধটুকুও!

কিন্তু সম্প্রতি এক সমীক্ষায় উঠে এল এই বাস্তবতার প্রায় বিপরীত নতুন ধরনের তথ্য। এই প্রজন্ম, যাকে কি না আজকাল বলে জেনারেশন জেড, তারা আর সফল কেরিয়ারকে জীবনের মূল লক্ষ্য বলে মনে করছে না। তার পরিবর্তে পরিবার, সুস্বাস্থ্য এ সবকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

আইসোবার এবং ইপসস নামের দুই সংস্থা যৌথভাবে সমীক্ষা চালিয়ে এই সিদ্ধান্তে এসেছে যে ১৩ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের বাঁচার মানেটাই

বেশ খানিকটা বদলে গিয়েছে নিউ নর্মাল সময়ে।  দিল্লি, কলকাতা, ভুবনেশ্বর, মুম্বই, বেঙ্গালুরু এবং বিজয়ওয়াড়া এই আটখানা শহরের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে চালানো হয়েছিল সমীক্ষা। এদের সবার জন্ম ১৯৯৫ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে।

সমীক্ষাকারী সংস্থা ইপসসের ভারতীয় শাখার ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিবেক গুপ্তর মতে, কোভিড ১৯ রাতারাতি আমাদের চারপাশ, আমাদের দৈনন্দিন জীবন অনেকটা বদলে দিয়েছে।  আমাদের জীবনের অর্থটাই খুব অল্প সময়ের মধ্যে বদলে গিয়েছে এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়ে। দেখা যাচ্ছে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা সফল কেরিয়ার, ভালো বেতনের চাকরি, ভালো কাজের সুযোগ এ সবের চাইতে নিজেদের স্বাস্থ্য, কাছের মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ভালো সময় কাটানো- এগুলোর ওপর বেশি জোর দিতে চাইছেন।

আইসোবার এর চিফ অপারেটিং অফিসার গোপা কুমারের বক্তব্যে ধরা দিয়েছে এ হেন পরিবর্তনের ধারা। তিনি অনুমান করেছিলেন যে লকডাউনের ঠিক আগে দিয়ে তাঁরা যে সমীক্ষা করেছেন, করোনা পরিস্থিতি তার ফলাফল অনেকটা পাল্টে দিতে পারে। তাঁরা সমীক্ষাটি প্রথমে করেছিলেন মার্চ মাসে, লকডাউনের ঠিক আগে। তার পর তাঁদের মনে হয়, জেনারেশন জেড-এর মধ্যে ইতিমধ্যে বেশ কিছু পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে। তাই তাঁরা আবার নতুন করে সমীক্ষা চালিয়ে এই বদলগুলো ধরার চেষ্টা করেন।

মজার ব্যাপার, প্রাথমিক পর্বে এই সমীক্ষার ফলাফল বলেছিল- জেনারেশন জেড জীবনে সব চেয়ে আগে একটি সফল পেশাগত জীবন চায়, অল্প বয়সে বেশি পরিমাণ পয়সা রোজগার করতে চায়, খ্যাতি-জনপ্রিয়তা লাভ করতে চায়।  শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকা এবং পরিবারকে সময় দেওয়া এই দুটি অগ্রাধিকার তালিকায় পরের দিকে থাকে। মানে খুব স্পষ্ট- করোনা পরিস্থিতি মাস ছয়েকের মধ্যে রাতারাতি ছবিটা বদলে দিয়েছে।

Published by:Akash Misra
First published: