লাইফস্টাইল

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

ম্যাক্সি ড্রেসেই বাজিমাত হবে পুজো, পরেও আরাম, দেখতেও অনবদ্য

ম্যাক্সি ড্রেসেই বাজিমাত হবে পুজো, পরেও আরাম, দেখতেও অনবদ্য

জিনস, টপ, স্কার্ট, কুর্তি, সালোয়ার সব্বাইকে ইঁদুর দৌড়ে পিছনে ফেলছে ম্যাক্সি ৷ এ বারের পুজো তাই জমিয়ে দেবে ম্যাক্সি ড্রেস ।

  • Share this:

#কলকাতা: এই কিছুদিন আগে পর্যন্তও ঘরে পরার ঢিলে ঢালা, বালিশের খোলের মতো পোশাকগুলো ম্যাক্সি নাম জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল ৷ অবশ্য প্রায় একই রকম ঘরে পরার পোশাককে অনেকে ভালবেসে নাইটিও বলে থাকেন ৷ আর এখন ? অন্দরমহল ছেড়ে রাজপথে এসে, এই গনগনে গরমে, চনমনে হৃদয়ে যিনি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং অবলীলায় রমনী হৃদয় অধিগ্রহণ করে জাঁকিয়ে বসছেন, তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং ম্যাক্সি ৷

কী মনে হচ্ছে ? আপনার মনের কথাটা একদম ঝপাং করে ধরে ফেলিছি ? আসলে এতো শুধু আপনার নয়, সকলের মনের কথা ৷ জিনস, টপ, স্কার্ট, কুর্তি, সালোয়ার সব্বাইকে ইঁদুর দৌড়ে পিছনে ফেলছে ম্যাক্সি ৷ গরমে কুল থাকার ইচ্ছেকে আরও খানিকটা আস্কারা দিয়ে ফ্যাশন জগতটিকে আরামসে বগলদাবা করতে সত্যিই এর জুরি মেলা ভার ৷ আর এ হেন ম্যাক্সির মহিমা যে অবলীলায় পুজোর বাজার দখল করবে, এ তো জানা কথাই ৷

কিন্তু এই ম্যাক্সি বস্তুটির আমদানিটা হল কী করে ? কয়েক বছর পিছনে পিছিয়ে গেলেই মনে পড়ে যাবে হিন্দি ছবির দু’টি বিখ্যাত মুখের কথা ৷ পশ্চিমী এই লং ম্যাক্সি বা গাউনের ফ্যাশনটা জনপ্রিয় হল তাঁদের হাত ধরেই ৷ একজন পরভিন ববি অন্যজন জিনত আমন ৷ ‘ইয়ে মেরা দিল’ ছবিটা মুহূর্তে চোখের সামনে ভেসে উঠতে বাধ্য ৷ তার সঙ্গে ‘পিয়া তু’ তো রয়েইছে ৷ সাধারণের মধ্যে এই প্রথম হৈ হৈ করে ঢুকে পড়ল ম্যাক্সির মহিমা ৷

আসল ইতিহাসটা কিন্তু পশ্চিমী তারে বাঁধা ৷ ‘নেটিভ’ ভারতীয়দের চোখে প্রথম গাউনের কনসেপ্ট নিয়ে এসেছিল অবশ্যই মেম সাহেবরা ৷ বেশিরভাগই সাদা নেট বা হালকা রঙের গাউন ৷ লম্বা হাতা ৷ হাতের তালু ঢাকা সুন্দর কারুকার্য করা গ্লভসে ৷ লেসের মাধুরী বেয়ে নামতো গোরালি পর্যন্ত ৷ পরে এই গাউনের মধ্যেই ধীরে ধীরে ঢুকল দেশি ফ্লেভার ৷ তখনও মেমদের পোশাক ব্যবহার করার চল হয়নি এ দেশে ৷

সেই চলটাই ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন পরভিন, জিনতরা ৷ শুধু দেশি রং-ঢং-মশলা নয়, নানা রকম নতুনত্বের ছোঁয়া লাগতে থাকল ম্যাক্সি ড্রেসে ৷ ছোট-বড় হতে থাকল ঝুলও ৷ কখনও মাটি ছুঁয়ে, কখনও অ্যাঙ্কেল লেন্থ, কখনও হাঁটু অবধি, কখনও বা আরও ছোট ৷ পরবর্তিত হতে থাকল হাতের দৈর্ঘ্যও ৷ ফুল হাতার ফ্যাশন তো আগেও ছিল ৷ এ বার এল শর্ট স্লিভস ৷ কখনও বা ঘটি হাতা ৷ কখনও নেটের হাতা ৷

ম্যাক্সির লোয়ার পার্টও একেক সময় একেক রকম ৷ কখনও ঘেরালো, কখনও স্কিন ফিট, কখনও বা ফিস কাট, কখনও আমব্রেলা কাট ৷ তবে কাটিং আর ঢং যতই আলাদা হোক না কেন ম্যাক্সি ড্রেস সব সময় ইন ৷ ‘সে আসিয়াছে ফিরিয়া’র মতো করে বীর বিক্রমে, পূর্ণ দাপটে আবারও এ বছরের পুজোর আরামদায়ক ফ্যাশন তাই ম্যাক্সি ড্রেস ৷ তাই পুজোর বাজার-হাট করতে গেলে মনে রাখতেই হবে ম্যাক্সি ড্রেস কিন্ত মাস্ট চাই-ই-চাই ৷ তবে হ্যাঁ, এই করোনা আবহে পুজোর শপিং করতে গেলে সাবধান থাকুন । চেষ্টা করুন ফাঁকা কোনও দোকানে যেতে, আর সবচেয়ে ভাল হয় যদি অনলাইনেই কাজটা সেরে নিতে পারেন । আর ম্যাক্সির মস্ত বড় সুবিধা হল, এটা ওয়ান পিস । সালোয়ার, জিন্স-টপ, কুর্তি-লেগিংস বা শাড়ির মতো অনেকগুলো পোশাক একসঙ্গে পরতে হয় না । এই প্যানডেমিকের সময় অনেকেই প্রতিদিন জামাকাপড় কেচে নিচ্ছেন । সে ক্ষেত্রে ম্যাক্সি ড্রেস পরলে কাচতেও সুবিধা হবে ।

কিন্তু আসল কথা হচ্ছে, বাজারে ম্যাক্সি ড্রেসের এত ছড়াছড়ির মধ্যে আবার গুলিয়ে ফেলবেন না যেন ৷ তা হলে কী ধরণের ড্রেস কেনা উচিত ?

কেনার আগে কতগুলি জিনিস অবশ্যই মনে রাখুন ৷ প্রথম কথা ফ্যাব্রিক ৷ গরমের কথা ভেবে ম্যাক্সি কেনার সময় সবার আগে নজর দিতে হবে ড্রেসের ফ্যাব্রিকের উপর ৷ কারণ ম্যাক্সি ড্রেস, পুজোর দিনগুলোয় সকালের ফ্যাশন হিসেবে রাখতে পারেন ৷ তাই ক্যাজুয়াল লুক যাঁদের পছন্দ তাঁদের জন্য ম্যাক্সি-ই বেস্ট ৷ আর এখন তো পুজো মানেও বেশ গরম ৷ আর গরম মানেই দু’টো জিনিস কিন্তু মাস্ট ৷ খাদি আর লিনেন ৷ আর পিওর সুতিও হতে পারে ৷ এর মধ্যে সবচেয়ে আরামদায়ক লিনেন ৷ তবে লিনেন ম্যাক্সির দাম একটু বেশির দিকে ৷ তার চেয়ে নাগালের মধ্যে খাদি আর সুতির দিকেই নজর দেওয়া ভাল ৷ আজকাল কলমকারি, ব্লক প্রিন্ট, বাগড়ু, শিভোরি কাজের নানা রকম ম্যাক্সি ড্রেস পাওয়া যায় বাজারে ৷ এ ছাড়াও রেয়ন নিতে পারেন ৷ যত্ন করার বেশি ঝামেলা নেই ৷ আবার গরমেও ভাল ৷ তবে ভাল হবে ভিসকাস বা সিন্থেটিক না কেনা ৷ জর্জেট কিনলেও অবশ্যই নিতে হবে নরম জর্জেট ৷ বাজার চলতি একঘেয়ে কালেকশন পছন্দ না হলে অর্ডার দিয়ে বানিয়েও নেওয়া যায় ৷ তা না হলে ঢুঁ মারতে পারেন শহরের এক্সক্লুসিভ বুটিকগুলোতে ৷ আজকাল অনলাইন বুটিকেও ড্রেসের কালেকশন বেশ ভাল ৷ আর পুজো হিসেবে একটু জরিওয়ালা, গর্জিয়াস হতেই পারে ৷ এরপর নজর দিতে হবে রঙের উপর ৷ পুজো মানেই ব্রাইট কালার ৷ আর ম্যাক্সি ড্রেসে তো গাঢ় রং বেশি মানায় ৷ কালো এড়িয়ে ইন্ডিগো, ব্রাউন, পেস্তা রং বেছে নিতে পারেন ৷ লাল বা ব্রাইট ইয়েলোও ফ্যাশন ইন ৷ সুতি বা খাদির মধ্যে নিলে গাঢ় রং বাছুন ৷ জর্জেট বা সিফন নিলে ভাল লাগবে প্যাস্টেল শেডস ৷

এ বার ভাবতে হবে লেন্থের কথা ৷ আর এ টুকু তো সকলেই জানেন, হাইট শর্ট হলে মাটি পর্যন্ত ঢাকা পোশাক না পরাই ভাল ৷ এতে আরও বেঁটে লাগে ৷ তবু যদি লং গাউন পরতে ইচ্ছেই হয়, অন্তত অ্যাঙ্কেল লেন্থ বা আর একটু উঁচু পর্যন্ত পরুন ৷ যাঁদের লম্বার দিকে গড়ন, তাঁরা লং গাউন পরতে পারেন চোখ বন্ধ করে ৷

নানা রকম স্লিভসও ট্রাই করতে পারেন ৷ কোল্ড শোল্ডার এখন খুবই ফ্যাশন ইন ৷ অফ শোল্ডার আর বাটারফ্লাই স্লিভসও ট্রাই করতে পারেন ৷ তা ছাড়া গরমে স্লিভলেস তো সব সময়ই ট্রেন্ড ৷ পরতে পারেন ঘটি হাতা বা থ্রি কোয়ারটার হাতাও ৷ একটু এথনিক ড্রেস হলে কুঁচি দেওয়া হাতাও পরতে পারেন ৷

এর সঙ্গে নতুন যোগ হতে পারে ম্যাচিং মাস্ক । অনেক জায়গায় তো জামার কাপড়ের সঙ্গেই মিলিয়ে মাস্ক বিক্রি হচ্ছে । সেটা যদি নাও পান, অন্তত কালার ম্যাচিং করে মাস্ক তো কিনতেই হবে । কারণ এ বারের পুজো স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঠাকুর দেখার পুজো ।

Published by: Simli Raha
First published: October 16, 2020, 1:27 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर