• Home
  • »
  • News
  • »
  • life-style
  • »
  • ম্যাক্সি ড্রেসেই বাজিমাত হবে পুজো, পরেও আরাম, দেখতেও অনবদ্য

ম্যাক্সি ড্রেসেই বাজিমাত হবে পুজো, পরেও আরাম, দেখতেও অনবদ্য

জিনস, টপ, স্কার্ট, কুর্তি, সালোয়ার সব্বাইকে ইঁদুর দৌড়ে পিছনে ফেলছে ম্যাক্সি ৷ এ বারের পুজো তাই জমিয়ে দেবে ম্যাক্সি ড্রেস ।

জিনস, টপ, স্কার্ট, কুর্তি, সালোয়ার সব্বাইকে ইঁদুর দৌড়ে পিছনে ফেলছে ম্যাক্সি ৷ এ বারের পুজো তাই জমিয়ে দেবে ম্যাক্সি ড্রেস ।

জিনস, টপ, স্কার্ট, কুর্তি, সালোয়ার সব্বাইকে ইঁদুর দৌড়ে পিছনে ফেলছে ম্যাক্সি ৷ এ বারের পুজো তাই জমিয়ে দেবে ম্যাক্সি ড্রেস ।

  • Share this:

#কলকাতা: এই কিছুদিন আগে পর্যন্তও ঘরে পরার ঢিলে ঢালা, বালিশের খোলের মতো পোশাকগুলো ম্যাক্সি নাম জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল ৷ অবশ্য প্রায় একই রকম ঘরে পরার পোশাককে অনেকে ভালবেসে নাইটিও বলে থাকেন ৷ আর এখন ? অন্দরমহল ছেড়ে রাজপথে এসে, এই গনগনে গরমে, চনমনে হৃদয়ে যিনি দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন এবং অবলীলায় রমনী হৃদয় অধিগ্রহণ করে জাঁকিয়ে বসছেন, তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং ম্যাক্সি ৷

কী মনে হচ্ছে ? আপনার মনের কথাটা একদম ঝপাং করে ধরে ফেলিছি ? আসলে এতো শুধু আপনার নয়, সকলের মনের কথা ৷ জিনস, টপ, স্কার্ট, কুর্তি, সালোয়ার সব্বাইকে ইঁদুর দৌড়ে পিছনে ফেলছে ম্যাক্সি ৷ গরমে কুল থাকার ইচ্ছেকে আরও খানিকটা আস্কারা দিয়ে ফ্যাশন জগতটিকে আরামসে বগলদাবা করতে সত্যিই এর জুরি মেলা ভার ৷ আর এ হেন ম্যাক্সির মহিমা যে অবলীলায় পুজোর বাজার দখল করবে, এ তো জানা কথাই ৷

কিন্তু এই ম্যাক্সি বস্তুটির আমদানিটা হল কী করে ? কয়েক বছর পিছনে পিছিয়ে গেলেই মনে পড়ে যাবে হিন্দি ছবির দু’টি বিখ্যাত মুখের কথা ৷ পশ্চিমী এই লং ম্যাক্সি বা গাউনের ফ্যাশনটা জনপ্রিয় হল তাঁদের হাত ধরেই ৷ একজন পরভিন ববি অন্যজন জিনত আমন ৷ ‘ইয়ে মেরা দিল’ ছবিটা মুহূর্তে চোখের সামনে ভেসে উঠতে বাধ্য ৷ তার সঙ্গে ‘পিয়া তু’ তো রয়েইছে ৷ সাধারণের মধ্যে এই প্রথম হৈ হৈ করে ঢুকে পড়ল ম্যাক্সির মহিমা ৷

আসল ইতিহাসটা কিন্তু পশ্চিমী তারে বাঁধা ৷ ‘নেটিভ’ ভারতীয়দের চোখে প্রথম গাউনের কনসেপ্ট নিয়ে এসেছিল অবশ্যই মেম সাহেবরা ৷ বেশিরভাগই সাদা নেট বা হালকা রঙের গাউন ৷ লম্বা হাতা ৷ হাতের তালু ঢাকা সুন্দর কারুকার্য করা গ্লভসে ৷ লেসের মাধুরী বেয়ে নামতো গোরালি পর্যন্ত ৷ পরে এই গাউনের মধ্যেই ধীরে ধীরে ঢুকল দেশি ফ্লেভার ৷ তখনও মেমদের পোশাক ব্যবহার করার চল হয়নি এ দেশে ৷

সেই চলটাই ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন পরভিন, জিনতরা ৷ শুধু দেশি রং-ঢং-মশলা নয়, নানা রকম নতুনত্বের ছোঁয়া লাগতে থাকল ম্যাক্সি ড্রেসে ৷ ছোট-বড় হতে থাকল ঝুলও ৷ কখনও মাটি ছুঁয়ে, কখনও অ্যাঙ্কেল লেন্থ, কখনও হাঁটু অবধি, কখনও বা আরও ছোট ৷ পরবর্তিত হতে থাকল হাতের দৈর্ঘ্যও ৷ ফুল হাতার ফ্যাশন তো আগেও ছিল ৷ এ বার এল শর্ট স্লিভস ৷ কখনও বা ঘটি হাতা ৷ কখনও নেটের হাতা ৷

ম্যাক্সির লোয়ার পার্টও একেক সময় একেক রকম ৷ কখনও ঘেরালো, কখনও স্কিন ফিট, কখনও বা ফিস কাট, কখনও আমব্রেলা কাট ৷ তবে কাটিং আর ঢং যতই আলাদা হোক না কেন ম্যাক্সি ড্রেস সব সময় ইন ৷ ‘সে আসিয়াছে ফিরিয়া’র মতো করে বীর বিক্রমে, পূর্ণ দাপটে আবারও এ বছরের পুজোর আরামদায়ক ফ্যাশন তাই ম্যাক্সি ড্রেস ৷ তাই পুজোর বাজার-হাট করতে গেলে মনে রাখতেই হবে ম্যাক্সি ড্রেস কিন্ত মাস্ট চাই-ই-চাই ৷ তবে হ্যাঁ, এই করোনা আবহে পুজোর শপিং করতে গেলে সাবধান থাকুন । চেষ্টা করুন ফাঁকা কোনও দোকানে যেতে, আর সবচেয়ে ভাল হয় যদি অনলাইনেই কাজটা সেরে নিতে পারেন । আর ম্যাক্সির মস্ত বড় সুবিধা হল, এটা ওয়ান পিস । সালোয়ার, জিন্স-টপ, কুর্তি-লেগিংস বা শাড়ির মতো অনেকগুলো পোশাক একসঙ্গে পরতে হয় না । এই প্যানডেমিকের সময় অনেকেই প্রতিদিন জামাকাপড় কেচে নিচ্ছেন । সে ক্ষেত্রে ম্যাক্সি ড্রেস পরলে কাচতেও সুবিধা হবে ।

কিন্তু আসল কথা হচ্ছে, বাজারে ম্যাক্সি ড্রেসের এত ছড়াছড়ির মধ্যে আবার গুলিয়ে ফেলবেন না যেন ৷ তা হলে কী ধরণের ড্রেস কেনা উচিত ?

কেনার আগে কতগুলি জিনিস অবশ্যই মনে রাখুন ৷ প্রথম কথা ফ্যাব্রিক ৷ গরমের কথা ভেবে ম্যাক্সি কেনার সময় সবার আগে নজর দিতে হবে ড্রেসের ফ্যাব্রিকের উপর ৷ কারণ ম্যাক্সি ড্রেস, পুজোর দিনগুলোয় সকালের ফ্যাশন হিসেবে রাখতে পারেন ৷ তাই ক্যাজুয়াল লুক যাঁদের পছন্দ তাঁদের জন্য ম্যাক্সি-ই বেস্ট ৷ আর এখন তো পুজো মানেও বেশ গরম ৷ আর গরম মানেই দু’টো জিনিস কিন্তু মাস্ট ৷ খাদি আর লিনেন ৷ আর পিওর সুতিও হতে পারে ৷ এর মধ্যে সবচেয়ে আরামদায়ক লিনেন ৷ তবে লিনেন ম্যাক্সির দাম একটু বেশির দিকে ৷ তার চেয়ে নাগালের মধ্যে খাদি আর সুতির দিকেই নজর দেওয়া ভাল ৷ আজকাল কলমকারি, ব্লক প্রিন্ট, বাগড়ু, শিভোরি কাজের নানা রকম ম্যাক্সি ড্রেস পাওয়া যায় বাজারে ৷ এ ছাড়াও রেয়ন নিতে পারেন ৷ যত্ন করার বেশি ঝামেলা নেই ৷ আবার গরমেও ভাল ৷ তবে ভাল হবে ভিসকাস বা সিন্থেটিক না কেনা ৷ জর্জেট কিনলেও অবশ্যই নিতে হবে নরম জর্জেট ৷ বাজার চলতি একঘেয়ে কালেকশন পছন্দ না হলে অর্ডার দিয়ে বানিয়েও নেওয়া যায় ৷ তা না হলে ঢুঁ মারতে পারেন শহরের এক্সক্লুসিভ বুটিকগুলোতে ৷ আজকাল অনলাইন বুটিকেও ড্রেসের কালেকশন বেশ ভাল ৷ আর পুজো হিসেবে একটু জরিওয়ালা, গর্জিয়াস হতেই পারে ৷ এরপর নজর দিতে হবে রঙের উপর ৷ পুজো মানেই ব্রাইট কালার ৷ আর ম্যাক্সি ড্রেসে তো গাঢ় রং বেশি মানায় ৷ কালো এড়িয়ে ইন্ডিগো, ব্রাউন, পেস্তা রং বেছে নিতে পারেন ৷ লাল বা ব্রাইট ইয়েলোও ফ্যাশন ইন ৷ সুতি বা খাদির মধ্যে নিলে গাঢ় রং বাছুন ৷ জর্জেট বা সিফন নিলে ভাল লাগবে প্যাস্টেল শেডস ৷

এ বার ভাবতে হবে লেন্থের কথা ৷ আর এ টুকু তো সকলেই জানেন, হাইট শর্ট হলে মাটি পর্যন্ত ঢাকা পোশাক না পরাই ভাল ৷ এতে আরও বেঁটে লাগে ৷ তবু যদি লং গাউন পরতে ইচ্ছেই হয়, অন্তত অ্যাঙ্কেল লেন্থ বা আর একটু উঁচু পর্যন্ত পরুন ৷ যাঁদের লম্বার দিকে গড়ন, তাঁরা লং গাউন পরতে পারেন চোখ বন্ধ করে ৷

নানা রকম স্লিভসও ট্রাই করতে পারেন ৷ কোল্ড শোল্ডার এখন খুবই ফ্যাশন ইন ৷ অফ শোল্ডার আর বাটারফ্লাই স্লিভসও ট্রাই করতে পারেন ৷ তা ছাড়া গরমে স্লিভলেস তো সব সময়ই ট্রেন্ড ৷ পরতে পারেন ঘটি হাতা বা থ্রি কোয়ারটার হাতাও ৷ একটু এথনিক ড্রেস হলে কুঁচি দেওয়া হাতাও পরতে পারেন ৷

এর সঙ্গে নতুন যোগ হতে পারে ম্যাচিং মাস্ক । অনেক জায়গায় তো জামার কাপড়ের সঙ্গেই মিলিয়ে মাস্ক বিক্রি হচ্ছে । সেটা যদি নাও পান, অন্তত কালার ম্যাচিং করে মাস্ক তো কিনতেই হবে । কারণ এ বারের পুজো স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঠাকুর দেখার পুজো ।

Published by:Simli Raha
First published: