বারুইপুর রায়চৌধুরী পরিবারে আজও দশমীতে ওড়ে জীবন্ত নীলকণ্ঠ পাখি

বারুইপুর রায়চৌধুরী পরিবারে আজও দশমীতে ওড়ে জীবন্ত নীলকণ্ঠ পাখি
নিজস্ব চিত্র

হাতিশালে হাতি। ঘোড়াশালে ঘোড়া । না। এসব কিছুই নেই আজ। আছে শুধুই স্মৃতি।

  • Share this:

#বারুইপুর: হাতিশালে হাতি। ঘোড়াশালে ঘোড়া । না। এসব কিছুই নেই আজ। আছে শুধুই স্মৃতি। তাও ধুসর। তবু এ বাড়ির আনাচে কানাচে আজও চলকে ওঠে জমিদারির নীলরক্ত। বয়সের ভারে তেজ কমেছে বটে। কিন্তু ভাঙা দেওয়ালের গায়ে জন্মানো শ্যাওলা, বট, পাকুরের ভাঁজে আজও চুঁয়ে পড়ে আভিজাত্যের অহংকার। প্রতি শরতে আগমীর সুরে জমজমাট হয়ে ওঠে বারুইপুরের রায়চৌধুরীদের জমিদারবাড়ি। আজও মহাদেবকে আগাম খবর দিতে দশমীতে ওড়ানো হয় জীবন্ত নীলকণ্ঠ পাখি।

তৎকালীন নবাবের কাছ থেকে বিশাল এলাকা যৌতুক পান জমিদার রাজবল্লভ চৌধুরী। বারুইপুর থেকে সুন্দরবন পর্যন্ত বিস্তৃত সেই জামিদারি । পান রায়চৌধুরী উপাধি। লর্ড কর্নওয়ালিসের আমলে বিদেশী কম্পানিকে দিয়ে এই বাড়ি তৈরি করান রাজবল্লভ চৈৌধুরী।

রাজপুরে তাঁদের আদিবাড়ি। পরিবারে বাঙালীর বারো মাসের তের পার্বণ উদযাপনের রীতি। আজও। অন্যতম অবশ্যই দুর্গাপুজো । তিনশো বছর ধরে আজও সমস্ত রীতিনীতি মেনে নিয়মনিষ্ঠায় পুজো হয় ভেঙে পড়া জমিদারবাড়ির দুর্গামন্দিরে।

রথে কাঠামো পুজো। ঝুলন শেষে দুর্গাদালানে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়। বংশপরম্পরায় পালরা তৈরি করেন প্রতিমা।

মহালয়া থেকে শুরু হয় পুজো। চলে চণ্ডীপাঠ। পুনত্তোম মতে পুজো হয় এ পরিবারে।

তোপধ্বনিতে শুরু হয় সন্ধিপুজো । সপ্তমী থেকে নবমী। ছাগ বলি থেকে আখ বলি। সব রকম বলি হয়। শোনা যায়, একসময়ে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় এ পুজোর তদারকি করেন। রূপোর ছাতা, ঝালর, পাখা, ঢোল, কাঁসি নিয়ে বিসর্জনের শোভাযাত্রা আজও রায়চৌধুরি পরিবারের অন্যতম আকর্ষণ।

সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও পারিবারিক ঐতিহ্য মেনে দশমীর দিন আজও জীবন্ত দুটি নীলকণ্ঠ পাখি উড়ে যায় রায়চৌধুরীদের দুর্গাদালান থেকে ।

ভেঙে পড়েছে ভিটে। ইঁটের দেওয়ালে বহুদিনের জমা শ্যাওলা। জানলার খুলে যাওয়া খড়খড়ির ফাঁকে উঁকি মেরে যায় ইতিহাস। পুজোয় ঘরে ফেরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা আত্মীয়পরিজন। জমজমাট হয়ে ওঠে বছরভর ঝিমিয়ে থাকা জমিদারবাড়ি। সব প্রতিকূলতাকে দূরে সরিয়ে পারিবারিক ঐতিহ্যের অহংকার টিকিয়ে রাখতে মরিয়া বারুইপুরের রায়চৌধুরীরা।

First published: 02:56:54 PM Sep 28, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर