• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • TMC WORKER IS ALLEGEDLY MURDERED BY BJP BACKED MISCREANTS IN BIRATI ARC

Birati Murder : তৃণমূলের শহিদ দিবসে বিরাটিতে নিহত দলীয় কর্মী, কাঠগড়ায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা

শুভ্রজিৎ দত্ত, ছবি-সংগৃহীত

  • Share this:

    কলকাতা : তৃণমূলের (TMC) শহিদ দিবসেই বিরাটিতে নিহত তাদের দলীয় কর্মী ৷ মৃতের নাম শুভ্রজিৎ দত্ত ৷ বয়স ৩৯ বছর ৷ এই হত্যার ঘটনায় অভিযোগের আঙুল বিজেপি (BJP) আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে ৷

    অভিযোগ, বুধবার রাত প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ বিরাটির (Birati) বণিক মোড়ে তৃণমূল কর্মী শুভ্রজিৎকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় । গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তড়িঘড়ি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা । ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নিমতা থানার বিশাল পুলিশবাহিনী।

    স্থানীয় সূত্রে খবর,  বুধবার রাতে বিরাটির বণিক মোড়ে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয় থেকে বাড়ি ফিরছিলেন শুভ্রজিৎ । অভিযোগ, দুটি বাইকে করে আসা বেশ কিছু বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতী শুভ্রজিৎকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। লুটিয়ে পড়েন গুলিবিদ্ধ শুভ্রজিৎ। বাইক আরোহীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ ৷ এই ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে নিমতা থানা ৷ শুভ্রজিতের দেহ আরজিকর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য ৷

    শুভ্রজিতের মা রেখা দত্তর অভিযোগ, তাঁর ছেলের হত্যার পিছনে স্থানীয় ব্যবসায়ী বাবুলালের হাত রয়েছে ।  শুভ্রজিতের সঙ্গে বাবুলালের সম্পর্ক প্রায় ১৫ বছরের। কয়েক বছর আগে দু’জনে মিলে এলাকায় ইমারতি দ্রব্যের ব্যবসা শুরু করেন। দুজনের পারিবারিক সম্পর্ক এত ঘনিষ্ঠ ছিল যে বাবুলালকে ভাইফোঁটা দিতেন শুভ্রজিতের বোন। অভিযোগ, এই সম্পর্কে চির ধরে বাবুলাল চার লক্ষ টাকা শুভ্রজিতের থেকে ধার নেওয়ার পর।

    শুভ্রজিতের মা রেখা দত্তের দাবি, ব্যবসা বড় করতে চার লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিল বাবুলাল। বলেছিল টাকা ফেরত দেবেন। কিন্তু সেই টাকা ফেরত না পাওয়ায় ২০১৮ সালে টাকা ফেরাতে বলেন শুভ্রজিৎ। দুজনের ব্যবসায়িক সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটে।

    এরপর ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে থেকে এলাকার তৃণমূল নেতা, বর্তমানে ওয়ার্ড প্রেসিডেন্ট বিপ্লব (মহারাজ) মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে শুভ্রজিতের। এলাকায় ইমারতি জিনিসের কারবার রয়েছে মহারাজের।

    শুভ্রজিতের মা বলেন, বাবুলালের সঙ্গে সম্পর্ক বিচ্ছেদের পর মহারাজের সঙ্গে কাজ শুরু করেন শুভ্রজিৎ। যদিও মহারাজের বক্তব্য, পার্টির একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন শুভ্রজিৎ । কর্মী হিসেবে দলের কাজ করতেন। অন্যদিকে লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে বাবুলালের সঙ্গে বিজেপির ঘনিষ্ঠতা বাড়ে বলে স্থানীয়দের বক্তব্য।

    ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনের আগে এলাকাছাড়া হন বাবুলাল। কিছু দিন আগে এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর ফের শুভ্রজিৎ তাঁর টাকা ফেরত চান। রেখাদেবীর কথায়, শুভ্রজিতের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। সেই পরিস্থিতিতে টাকার প্রয়োজন ছিল। টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে মাঝে মাঝে বচসাও হত বলে জানতে পেরেছে পুলিস।

    বুধবার বিকেলে বাবুলালের উপরও কে বা কারা হামলা চালায় । মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়। তিনি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি। এরই মধ্যে কাল রাতে শুভ্রজিতকে পয়েন্ট ব্ল্যাক রেঞ্জ থেকে গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ।

    স্থানীয় ওয়ার্ড প্রেসিডেন্ট তথা ব্যবসায়ী বিপ্লব মুখোপাধ্যায়ের দাবি, বাবুলাল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতী।  অন্যদিকে, স্থানীয় বিজেপি নেত্রী অর্চনা দাস মজুমদার এই ঘটনায় বিজেপির যোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এটা তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব৷  বাবুলাল কখনই বিজেপিতে ছিলেন না বলে দাবি অর্চনার ৷ একইসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, ‘‘এখন রাত নটার পর নাইট কারফিউ। নাইট কারফিউতে কী ভাবে শুভ্রজিৎ বাইরে বেরোলেন?পুলিশ প্রশাসন কী দেখে না?’’

    ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় বিধায়ক তথা মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি ঘটনায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের যোগের কথা বলেছেন।

    বিজেপির অভিযোগের পাল্টা তাঁর দাবি, ওই এলাকায় তাঁদের কোনও দলীয় গোষ্ঠীকোন্দল নেই। ঘটনাস্থলে যান ব্যারাকপুর কমিশনারেটের সিপি মনোজ ভর্মা। তিনি জানিয়েছেন, এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে। সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে তদন্তে।

    Published by:Arpita Roy Chowdhury
    First published: