এবার গণভোজের আয়োজন করছে তৃণমূল কংগ্রেস! লক্ষ্য আদবাসী ও জনজাতি অধ্যুষিত এলাকার ভোট

এবার গণভোজের আয়োজন করছে তৃণমূল কংগ্রেস! লক্ষ্য আদবাসী ও জনজাতি অধ্যুষিত এলাকার ভোট

প্রশান্ত কিশোর তফসিলি এলাকায় তৃণমূলের বিপর্যয়ের বিষয়টি আগেই লক্ষ্য করেছেন। এর ফলে তফসিলি ও আদিবাসী এলাকায় তৃণমূলের নেতাদের বদলও করেছেন প্রশান্ত কিশোর। তুলে এনেছেন নতুন মুখ। এই সব এলাকায় জনসংযোগ বাড়াতে তৃণমূল আর সময় নষ্ট করতে চাইছে না। এর ফলেই শুরু হচ্ছে আদিবাসী ও জনজাতিদের নিয়ে “গণভোজের” আয়োজন।

প্রশান্ত কিশোর তফসিলি এলাকায় তৃণমূলের বিপর্যয়ের বিষয়টি আগেই লক্ষ্য করেছেন। এর ফলে তফসিলি ও আদিবাসী এলাকায় তৃণমূলের নেতাদের বদলও করেছেন প্রশান্ত কিশোর। তুলে এনেছেন নতুন মুখ। এই সব এলাকায় জনসংযোগ বাড়াতে তৃণমূল আর সময় নষ্ট করতে চাইছে না। এর ফলেই শুরু হচ্ছে আদিবাসী ও জনজাতিদের নিয়ে “গণভোজের” আয়োজন।

  • Share this:

#কলকাতা: বিধানসভা ভোটে লক্ষ্য রাজ্যের ১২৩ আসন। যেখানে তফসিল, আদিবাসী ও জনজাতি ভোট ফ্যাক্টর। এই সব বিধানসভা এলাকায় এবার “গণভোজ” এর আয়োজন করল তৃণমূল। এতদিন তৃণমূল অভিযোগ করছিল বিজেপি নেতারা রাজ্যে এসে আদিবাসীদের বাড়িতে দুপুরের খাবার খেয়ে জনসংযোগ করছে। এবার সেই রাস্তায় হাঁটতে শুরু করছে তৃণমূল, অভিযোগ বিজেপির।

লক্ষ্য একটাই আদিবাসী ও জনজাতিদের ভোট নিজেদের দিকে ফেরানো। প্রশান্ত কিশোর  আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় জনসংযোগ বাড়াতে তৃণমূলের নেতাদের এই দাওয়াই দিয়েছেন। এমনটাই তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে ।  তাই রাজ্যের ৬৮টি তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত আসনে এই গণভোজের কর্মসূচি শুরু করবে তৃণমূল নেতারা। এই সব এলাকায় আদিবাসী ও জনজাতি সম্প্রদায়ের নেতাদের সামনে রেখেই হবে এই জনসংযোগ সৃষ্টির কাজ। তৃণমূলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর দলকে এই দাওয়াই দিয়েছেন।

গত ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের তফসিলি অধ্যুষিত আসনগুলোতে  তৃণমূল বড় রকমের ধাক্কা খেয়েছে। ২০১৯-এর ভোটের ফলের নিরিখে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের তফসিলি জাতি অধ্যুষিত আসনের ফলে দেখা যাচ্ছে বিজেপি তৃণমূলের প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছে। রাজ্যের ৬৮টি তফসিলি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে ৩৪টি আসন তৃণমূল পেয়েছিল। বিজেপি পেয়েছিল ৩৩টি আসন। আসনের নিরিখে তৃণমূল একটি আসনে বিজেপির চাইতে এগিয়ে থাকলেও ভোট প্রাপ্তির শতকরা হিসেবে তেমন উল্লেখযোগ্য ফারাক কিন্তু ছিল না। কংগ্রেস তফসিলি অধ্যুষিত এলাকায় একটি মাত্র আসনে এগিয়ে ছিল। ২% ভোট পেয়ে কংগ্রেস একটি আসন পেলেও বামেরা ৬% ভোট পেয়েও কোনও আসন কিন্তু তফসিলি সংরক্ষিত কেন্দ্রে পায়নি। তফসিল জনজাতি সংরক্ষিত ১৬ আসনের মধ্যে টিএমসি এগিয়েছিল ৩ আসনে। বাকি সবেতেই বিজেপি। তাই এবার ঘাটতি পূরণে তৃণমূল কোমর বেঁধে তফসিলি ও আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় প্রচারে নামতে চলেছে।

প্রশান্ত কিশোর তফসিলি এলাকায় তৃণমূলের বিপর্যয়ের বিষয়টি আগেই লক্ষ্য করেছেন। এর ফলে তফসিলি ও আদিবাসী এলাকায় তৃণমূলের নেতাদের বদলও করেছেন প্রশান্ত কিশোর। তুলে এনেছেন নতুন মুখ। এই সব এলাকায় জনসংযোগ বাড়াতে তৃণমূল আর সময় নষ্ট করতে চাইছে না। এর ফলেই শুরু হচ্ছে আদিবাসী ও জনজাতিদের নিয়ে “গণভোজের” আয়োজন। ২০১৯-এর লোকসভার ফলের দিকে তাকালেও আমরা দেখতে পাব আদিবাসী ও জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় তৃণমূলকে একপ্রকার শূন্য হাতেই ফিরতে হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাই এই সব এলাকায় সভা করতে গিয়ে বার বার বলেছেন, ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে শূন্য হাতে ফিরিয়েছেন, এবার বিমুখ করবেন না। ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে ১৬টি তফসিলি ও জনজাতি অধ্যুষিত লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে তৃণমূল এগিয়েছিল মাত্র তিনটি আসনে। এই সব এলাকায় বিজেপি পেয়েছিল ৪৮% ভোট। তৃণমূল পেয়েছিল ১০% ভোট। বামেদের ভোট প্রাপ্তির হার ছিল ৫%। বামেরা কোনও আসনই এই আদিবাসী ও জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় পায়নি। অথচ একসময় এই আদিবাসী ও জনজাতিরাই ছিল বামেদের ভোটব্যাঙ্ক। তাই এবার এই নিজেদের ত্রুটি ঢাকতে তৃণমূল ভোটের আগে এই গণভোজের আয়োজন করেছে।

এবার দেখা যাক প্রশান্ত কিশোরের প্রেসক্রিপশনে তৃণমূলের আদবাসী ও জনজাতি অধ্যুষিত বিধানসভার ভোট ঘাস ফুলে ফেরে কিনা। রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চল ও ডুয়ার্সের একাধিক জায়গায় রাজ্যের শাসক দল তফসিল জাতি ও জনজাতির ভোট না পাওয়ায় ফলে তার প্রভাব পড়েছিল। এবার তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে চায় তৃণমূল কংগ্রেস।

Published by:Pooja Basu
First published: