কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

গত বছর পা রাখার জায়গা ছিল না, এবছর কার্যত শুনশান জামাইষষ্ঠীতে গড়িয়াহাট মার্কেট

গত বছর পা রাখার জায়গা ছিল না, এবছর কার্যত শুনশান  জামাইষষ্ঠীতে গড়িয়াহাট মার্কেট

প্রত্যেক বছর জামাইষষ্ঠীর আগের দিন থেকেই গড়িয়াহাট মাছের বাজার থেকে শুরু করে সবজি বাজার পা রাখার জায়গা থাকে না

  • Share this:

#কলকাতা: ছবিটা দেখলে হয়তো বোঝা মুশকিল বৃহস্পতিবার কি জামাইষষ্ঠী ছিল? হ্যাঁ ঠিকই একদিকে লকডাউন অন্যদিকে আমফানের তান্ডব তার উপর আবার বুধবার বিকেল থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি। সবমিলিয়ে জামাইষষ্ঠীর বাজার কার্যত শুনশান থাকলো বৃহস্পতিবার গোটা দিন জুড়েই। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গড়িয়াহাট মাছের বাজার থেকে শুরু করে ফল বিক্রেতাদের মাথায় হাত। কেননা জামাইষষ্ঠী হলেও হাতেগোনা কয়েকজন বিক্রেতাই এদিন গড়িয়াহাট বাজারে এসেছিলেন। জামাইষষ্ঠী বাজার বলতে সে অর্থে কিছুই ছিল না এদিন গড়িয়াহাট বাজারে।

সকাল থেকেই একাধিক মাছ সাজিয়ে নিয়ে বসেছিলেন গড়িয়া হাট বাজারের মাছ ব্যবসায়ীরা। বাজার চড়া দাম থাকলেও ব্যবসায়ীদের আশা ছিল দামি মাছগুলো বিক্রি হবে। কিন্তু বৃহস্পতিবারের এই ছবি ব্যবসায়ীদের সেই আশাকে কার্যত হতাশাতে পরিণত করল। প্রত্যেক বছর জামাইষষ্ঠীর আগের দিন থেকেই গড়িয়াহাট মাছের বাজার থেকে শুরু করে সবজি বাজার পা রাখার জায়গা থাকে না। শুধু তাই নয় বাজারে জিনিসের যোগান দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় ব্যবসায়ীদের। কিন্তু এবার ব্যবসা তো দূরের কথা জিনিসই বিক্রি হল না গোটা বাজারে। লকডাউন চলার জেরে অনেক কষ্ট করেই মাছ ব্যবসায়ীদের নিয়ে আসতে হচ্ছে বাজারে মাছ। গত কয়েকদিনের নিরিখে অনেকটাই বেড়েছে মাছের দাম।

বাজারে ইলিশ মাছের দাম কোথাও ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা আবার ভেটকি মাছ,চিংড়ি মাছ,পাবদা মাছের মত মাছগুলোর দামও অন্যান্য দিনের তুলনায় কেজি প্রতি ১০০থেকে ২০০ টাকা বেশি। বাজারে দীর্ঘ কুড়ি বছর ধরে মাছ ব্যবসা করে আসা এক ব্যবসায়ী বলেন " আমরা কোন বছর এরকম ছবি দেখিনি যে জামাইষষ্ঠীর বাজারে ভিড় থাকবে না। জামাইষষ্ঠীর জন্য প্রত্যেকবারই মাছের দাম চড়া থাকে বাজারে। কিন্তু তবুও জামাইকে দেওয়ার জন্য ইলিশ মাছ ভেটকি মাছ পাবদা মাছের চাহিদা অত্যন্ত বেশি থাকে। কিন্তু এবার তা নেই।" আরও এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন " এদিন সকালে বিক্রি কিছু হয়নি। বৃষ্টির জন্যই বাজারে বিক্রেতাদের দেখা নেই। গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতার নিরিখে বলতে পারি এই রকম বাজার আমরা দেখিনি জামাই ষষ্ঠীর দিনে।"

মাছ বাজারের পাশাপাশি ফল বাজারেও ঠিক একই ছবি ধরা পড়েছে বৃহস্পতিবার গোটা দিন জুড়ে।লিচু,হিমসাগর আমের দাম তুলনামূলক বেশি হলেও বাজারে দেখা মেলেনি কোনও বিক্রেতার। গড়িয়াহাট বাজারে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ব্যবসা করে আসা এক ফল ব্যবসায়ী বলেন " ফলের বিশেষত লিচু ও আমের চাহিদা এতটাই থাকে আমরা যোগান দিয়ে শেষ করতে পারিনা। কিন্তু এবার এইরকম বাজার হবে ভাবতে পারিনি। লিচু আমের দাম বেড়েছে।তবু আমরা নিয়ে এসেছিলাম। অনেকটাই ক্ষতি হলো আমাদের।"

বৃহস্পতিবার দিনভর শহর কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে। বেলা বারোটা পর্যন্ত কোথাও ঝিরিঝিরি আবার কোথাও মুষুলধারে বৃষ্টি হয়েছে। লকডাউন চলার জেরে বাজার গুলো এখন সকাল ৬টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ রয়েছে। জামাইষষ্ঠীকে মাথায় রেখে একাধিক মাছ ব্যবসায়ী ফল বিক্রেতারা কিছু লাভ হবে বলে আশা করেছিলেন। কিন্তু শেষমেশ বৃহস্পতিবারের বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়াল জামাইষষ্ঠীর বাজারের।

SOMRAJ BANDOPADHYAY

Published by: Elina Datta
First published: May 28, 2020, 4:08 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर