দলবদল করলেই ডিভোর্স হয় না, সৌমিত্রকে লেখা সুজাতার চিঠিতে আবার পূর্বরাগ...

দলবদল করলেই ডিভোর্স হয় না, সৌমিত্রকে লেখা সুজাতার চিঠিতে আবার পূর্বরাগ...
ভাঙনেই শেষ নাকি জোড়া লাগবে সৌমিত্র সুজাতার সম্পর্ক?

সৌমিত্র-সুজাতার ভাঙা সম্পর্ক কি জোড়া লাগবে?

  • Share this:

#কলকাতা: দল বদল করলে বিবাহ বিচ্ছেদ হয় না। বিচ্ছেদের নোটিশ পাঠানোর পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি সাংসদ ও স্বামী সৌমিত্র খাঁ-কে চিঠি পাঠালেন অধুনা তৃণমূল নেত্রী সুজাতা খাঁ।বিষ্ণুপুর কেন্দ্রের বিজেপি-র সাংসদ সৌমিত্র খাঁ-র স্ত্রী সুজাতা মণ্ডল খাঁ গত ডিসেম্বর মাসে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে।

রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি সৌমিত্রের সঙ্গে আলোচনা করেই কি সুজাতা তৃণমূলে এলেন? বিগত কয়েকদিন ধরে বারবার এই প্রশ্ন বারবার এড়িয়ে গিয়েছেন সুজাতা। জবাব এড়িয়ে গেলেও ঘনিষ্ঠ মহলে সুজাতা বলেছেন, ‘‘কে বলতে পারে আগামী দিনে সৌমিত্র তৃণমূলে যোগ দেবে না?’’এত কিছুর পরেও সুজাতা চিঠি দিয়েছেন সৌমিত্রকে। যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন, "গত ১০ বছরে আমাদের জীবনে একাধিকবার চড়াই-উতরাই এসেছে। আমরা দু'জন সেটা বারবার কাটিয়ে উঠেছি। এর পরেও তোমার পাঠানো বিবাহ বিচ্ছেদের চিঠি আমাকে অবাক করেছে।" যদিও তাঁর বক্তব্য, ‘‘এত দিন পর প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছি।’’

সুজাতার দলবদলের অব্যবহিত পরেই সৌমিত্র তাঁকে বিবাহবিচ্ছেদের নোটিস পাঠিয়েছিলেন। এখন দেখার, এই পারিবারিক লড়াই রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেন কিনা। গত ডিসেম্বরে তৃণমূলের প্রবীণ নেতা সৌগত রায় সুজাতার হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন। ছিলেন কুণাল ঘোষও। তার পর সুজাতা জানিয়েছিলেন ‘‘একটা চ্যালেঞ্জ নিলাম। কারণ, বিজেপি-র হয়ে প্রচুর লড়াই করেছি। কোনও নিরাপত্তা ছাড়া নিজের প্রাণ বাজি রেখে লড়াই করেছি। কিন্তু বিজেপি তার জন্য কোনও সম্মান দেয়নি।’’


স্বামীর হয়ে তার লড়াইয়ের কথা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন সুজাতা খাঁ। সেটা উল্লেখ করেই চিঠিতে সুজাতা উল্লেখ করেছেন, "আমি আর তুমি এখন দুটো আলাদা রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী। দু'জনে আলাদা রাজনৈতিক দলের সদস্য। কিন্তু কোথাও কোনও ভাবে আমার দলের কেউ বলেনি যে আমরা আমাদের স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখতে পারব না। এমনকি আমিও কখনও মন থেকে সেটা বুঝিনি।"

 সুজাতা জানিয়েছেন ‘‘এত দিন যে দলটার বিরুদ্ধে লড়াই করতাম, সেই দল ছেড়ে এখন অনেকেই বিজেপিতে আসছেন। যে সব দুর্নীতিগ্রস্ত নেতারা এত দিন তৃণমূলে ছিলেন, তাঁরাই বিজেপিতে এসে এখন শুদ্ধ হয়ে যাচ্ছেন। বিজেপি এখন তৃণমূলের ‘বি’ টিমে পরিণত হচ্ছে। তা হলে আমি ‘বি’ টিমে কেন থাকব? ‘এ’ টিমেই চলে এলাম।’’সুজাতা জানিয়েছেন, ‘‘যে ভাবে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পথ দেখাবেন, সে ভাবেই এগিয়ে যাব। আমি কাপুরুষতা পছন্দ করি না।"

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে সৌমিত্রকে বিষ্ণুপুর কেন্দ্র থেকে জেতানোর পিছনে বড় ভূমিকা ছিল তার স্ত্রী সুজাতার। আদালতের নির্দেশে সৌমিত্র সে সময় ভোটপ্রচারে যেতে পারেননি। গোটা কেন্দ্রে নির্বাচনী প্রচার একা হাতে সামলে ছিলেন সুজাতা।  সুজাতার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, অমিত শাহের বৈঠকের ‘ফেসবুক লাইভ’ করেন। এতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর উপর চটে যান। প্রকাশ্যেই তাঁকে ভর্ৎসনা করা হয় বলেও খবর। এর পর থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ে সুজাতার।তিন পাতার চিঠিতে সুজাতা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, পারিবারিক অমতেও তিনি বিয়ে করেছিলেন। নানা বাধা বিঘ্ন এসেছে। সব সামলে নিয়েছেন।

১০ বছর একসঙ্গে থাকা মানুষ শুধু দল বদল করার জন্যে যে ডিভোর্স চাইবেন সেটা মন থেকে মেনে নিতে পারেননি সুজাতা। তবে অভিযোগের সুরে সুজাতা জানিয়েছেন, তার জিনিষ আটকে রেখেছেন সৌমিত্র। ফেরত দিচ্ছে না।

Published by:Dolon Chattopadhyay
First published: