Bus Service: বুধ থেকেই শহরের পথে বাস? সব কর্মীদের আগামিকাল হাজিরার নির্দেশ

photo source collected

সূত্রের খবর, আগামীকাল থেকে সমস্ত ডিপোর, সমস্ত চালক, কন্ডাকটর, মেনটেনেন্স বিভাগের কর্মীসহ সকলকেই হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।

  • Share this:

#কলকাতা: প্রতিদিন রাস্তায় বাড়ছে মানুষের সংখ্যা৷ বিধিনিষেধ থাকলেও নিত্য-কাজে মানুষকে রাস্তায় বেরোতে হচ্ছে। এই অবস্থায় রাজ্য পরিবহণ দফতর আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সরকারি স্পেশাল বাস চালানো শুরু করতে পারে। সূত্রের খবর, আগামীকাল থেকে সমস্ত ডিপোর,  সমস্ত চালক, কন্ডাকটর, মেনটেনেন্স বিভাগের কর্মীসহ সকলকেই হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ ধাপে ধাপে সরকারি বাস চলবে এমন ইঙ্গিত মিলছে।

এখন স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্যে স্পেশাল বাস চলছে। স্পেশাল বাস চলছে পুর, পুলিশ, নবান্ন ও মহাকরণে যাতায়াত করা কর্মীদের জন্যে বাস। সরকার বাসের সংখ্যা বৃদ্ধি করলেই সুবিধা হবে বল মত যাত্রীদের। অন্যদিকে, বেসরকারি বাসের ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে রাজ্যের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বেসরকারি বাস মালিক সংগঠনগুলি। বাসের ভাড়া না বাড়ালে রাস্তায় নেমে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাস মালিকদের সংগঠন।

প্রসঙ্গত, গত ২০১৮ সালে অক্টোবর মাসে জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেট  কলকাতার রাজপথে নেমে ছিল। কারন কেন্দ্রীয় সরকার যে ভাবে ক্রমাগত ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি করছে, তার প্রতিবাদে ও বাস ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। সংগঠনের দাবি তিন বছর হতে চলল, দুর্ভাগ্যবশত আজ অবধি একই ভাবে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে। গত বছরের মার্চ মাসে কোভিড ১৯ নিয়ে চালু হয় লকডাউন। তখন থেকে আজ অবধি বেসরকারি  বাস ঠিক মতো চলাচল করছে না।

সংগঠনের নেতা রাহুল চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আমাদের এই শিল্পে এমন অনেক খরচ আছে যা রাস্তায় বাস না চললেও দিতে হয় আবার  চললেও দিতে হয়,যেমন ব্যাংকের ই এম আই, বিমা ,রাস্তার কর ,পারমিট ফিজ। গত বছরের মার্চ মাস থেকে আমরা একাধিক বার কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করেছি, কিন্তু কোন সুরাহা হয়নি,রাজ্য সরকার কিছুটা সাহায্য করেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ হতে কোন সাহায্য পাইনি। সার্বিক বিষয়টি তৎকালীন পরিবহন মন্ত্রীকে দফায় দফায় জানিয়েছিলাম। তারা চাইছেন, এখন ডিজেলের মূল্য ৯০ টাকা ছুঁইছুঁই। এই মুহূর্তে লকডাউন মিটলে বাস চললে ভাড়া বাড়ানো হোক।

একই সাথে তাদের দাবি অবিলম্বে ডিজেলের উপর জিএসটি বসাতে হবে। ব্যাংক ই এম আই, বিমা, টোল ট্যাক্স অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকারকে মকুব করতে হবে। বাস শিল্পের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের দাবি, বিগত দিনে দেখেছি,এক মাএ ১৯৭৫ সালে ১০ পয়সা ভাড়া থেকে ২০ পয়সা ভাড়া হয়েছিলো তারপর হতে যখন যেমন মানে দ্বিগুণ ভাড়া এই রাজ্যে কোনও দিন হয়নি। বাস শ্রমিকদের দাবি বাজারের সাথে সমতা রেখে এবং অন্য রাজ্যের সাথে সমতা রেখে ভাড়া বৃদ্ধি করা হোক। ১৯৯০ সাল হতে এই রাজ্যে যতবার ভাড়া বৃদ্ধির জন্য কমিটি গঠন হয়েছে তার কোন রিপোর্ট নেই। এমন কি এক সময় প্রবুদ্ধ নাথ রায়ের রিপোর্ট মানা হয়নি। বাস শ্রমিকদের দাবি,  মুখ্যমন্ত্রী অনেক মানবিক। ওনার কাছে আমাদের আবেদন বিজ্ঞান ভিত্তিক ভাড়া বৃদ্ধি করতে হবে। কোভিড ১৯ এর জন্য যে বিশাল লোকসানের বোঝা বাসমালিকদের উপর চেপেছে , তার থেকে রেহাই পেতে হলে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার কে সহানুভূতির হাত বাড়াতে হবে। ইতিমধ্যেই অনেক বাসমালিক হারিয়ে গেছে। বেসরকারি পরিবহন কার্যত কোমায় চলে গেছে।এছাড়া বাস মালিকদের দাবি, আপনারা জানেন দূষন কে সামনে রেখে কোলকাতার মহামান্য আদালত গত ২০০৯ সালে রায় দিয়েছিল  ১৫ বছরের বেশি বয়সের বাস  কলকাতা মেট্রোপলিটন এলাকায় চলতে পারবে না, একটি বাস বছরে ৩৬৫ দিনের মধ্যে ২৮০/২৯০ দিনের বেশি চলে না, সেখানে এখন কোভিড ১৯  এর জন্য, গত বছর থেকে বাস চলছে না।  ২০২০ সাল থেকে যত দিন না বাস চলে , বয়সের দিক থেকে বাতিলের সময় এই সময় টা বাড়িয়ে দিতে হবে।জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের দাবি এই মুহূর্তে বাস শিল্প কে বাঁচাতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন করছি। যতদিন বিজ্ঞান ভিত্তিক বাসভাড়া ঘোষণা না হয়, এবং যে দাবি গুলো আমরা করেছি তা পরিপূরণ না হলে লোকসানের বোঝা আরো বাড়বে। রাজ্য সরকার ভর্তুকি দিয়ে বাস চালায়

জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটের সাধারণ সম্পাদক তপন বন্দোপাধ্যায় দাবি করেছেন,  অবিলম্বে বাস ভাড়া বৃদ্ধি করতে হবে।কেন্দ্রীয় সরকারকে ব্যাংক ই এম আই, বিমা, টোল ট্যাক্স অবিলম্বে মকুব করতে হবে। ১৫ বছরের বয়সের ভিত্তিতে বছরের যে বাস গুলো বাতিল হবে তার সময়সীমা বাড়াতে হবে কোভিড ১৯ এর জন্য।অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকারকে বাস মালিক ও শ্রমিকদের আর্থিক সাহায্য করতে হবে।যে বাসগুলো এতদিন ধরে পরিষেবা বন্ধের জন্য বসে আছে, তার ক্ষতির জন্য কেন্দ্রীয় সরকার কে সাহয্য করিতে হবে।

Published by:Arka Deb
First published: