• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • NRS-এ ১৬টি কুকুরছানা খুনে অভিযুক্ত দুই নার্সিং ছাত্রীকে জামিন দিল আদালত

NRS-এ ১৬টি কুকুরছানা খুনে অভিযুক্ত দুই নার্সিং ছাত্রীকে জামিন দিল আদালত

File Photo

File Photo

  • Share this:

    #কলকাতা: গুরু পাপে লঘুদণ্ডও নয়। একেবারে জামিনই পেয়ে গেলেন কুকুর খুনে অভিযুক্ত এনআরএস হাসপাতালের নার্সিংয়ের দুই ছাত্রী। এনআরএস কর্তৃপক্ষ অবশ্য দু'জনের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থাই নিচ্ছে। আপাতাত তাঁদের কলেজ ও হস্টেলে ঢোকা বন্ধ।

    ১৬টি কুকুর ছানাকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে খুন করা হয়েছিল। কিন্তু, এমন অপরাধে কড়া শাস্তি দেওয়ার মতো আইন কোথায়? এনআরএসে কুকুর খুনের মামলায় এই প্রশ্নটাই উঠে এল।

    বুধবার, সকাল প্রায় দশটা নাগাদ কুকুর খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দুই নার্সিং পড়ুয়া, প্রথম বর্ষের মৌটুসি মণ্ডল ৷ দ্বিতীয় বর্ষের সোমা বর্মনকে শিয়লদা আদালতে তোলা হয়। দুজনের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। কিন্তু, সে সবই জামিন যোগ্য। এ দিন শুনানির শুরুতেই বিচারক শুভদীপ রায় প্রশ্ন করেন, এটা তো জামিনযোগ্য মামলা। কেন শুনব। অন্য জামিনযোগ্য মামলায় সময় দিই না। এক্ষেত্রে কেন দেব?

    তখন পশুপ্রেমী তথা মামলকারীদের আইনজীবীরা দাবি করেন, এটা জঘন্য অপরাধ। ভিডিও দেখলে শিউরে উঠবেন। আমরা জামিনের আর্জির বিরোধিতা করছি না। তবে, যাঁরা অভিযুক্ত তাঁরা একদিন নার্স হবেন। বলা হয়, মহিলাদের কোমল হৃদয়। প্রশিক্ষণের পরে এই অভিযুক্তরাই মানব সেবায় হাত লাগাবেন। তাই সাজার আরজি জানানো হচ্ছে।

    পশুপ্রেমিদের আইনজীবীর একাংশ এও দাবি করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা আছে, এধরনের মামলায় অতিরিক্ত ধারা যুক্ত করা যেতে পারে। জামিনযোগ্য ধারার বিরোধিতা করছি না। চাইছি, কড়া শাস্তির সংস্থান রয়েছে এমন ধারা যোগ করুন।

    পাল্টা বিচারক তখন প্রশ্ন করেন, তদন্ত চলাকালীন একজন বিচারক কীভাবে এটা করতে পারেন ? সবে কেস হয়েছে। নতুন ধারা যোগ করব কীভাবে? বিচারক এও প্রশ্ন করেন, জামিনযোগ্য ধারায় মামলা করে কীভাবে তদন্তকারী আধিকারিক পুলিশি হেফাজতের আর্জি জানান?

    বিকেল চারটে নাগাদ বিচারক জানান, রায় আপাতত স্থগিত রাখা হল। এরপর ৫টা নাগাদ তিনি রায় ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত ২ ছাত্রীকেই জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার টিআই প্যারেড ৷ আদালত জামিন দিলেও এনআরএস হাসপাতালের তদন্ত কমিটি কিন্তু কড়া শাস্তিই দিচ্ছে ৷

    অভিযুক্ত দুই ছাত্রীই আপাতত ক্লাস করতে পারবেন না। কলেজে ঢোকাই বন্ধ। হস্টেলেও থাকতে পারবেন না ৷ এই পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপর পালটা চাপ তৈরির চেষ্টা এনআরএসের নার্সিংয়ের ছাত্রীদের। বুধবার বিকেল থেকে তাঁরা হস্টেলের মধ‍্যে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। দাবি, অবিলম্বে এনআরএস হাসপাতালকে কুকুর মুক্ত করতে হবে। কারণ, অনেক নার্সিং ছাত্রীকেই ইতিমধ‍্যে কুকুরের কামড় খেতে হয়েছে। হাসপাতালের ওয়ার্ডে, বেডেও কুকুর-বিড়াল ঘুরে বেড়ায়। এই পরিস্থিতির বদল চাই, এই দাবিতে বিকেল থেকে শুরু হয় বিক্ষোভ।

    First published: