শুধু ছেলেমেয়েরাই শোভনের কেবিনে ঢুকবে, বৈশাখীর নাম না নিয়ে চ্যালেঞ্জ রত্নার

পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন রত্না৷

নারদ কাণ্ডে (Narada Scam) গত সোমবার সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার হন শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ এই মুহূর্তে এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন তিনি৷

  • Share this:

#কলকাতা: হাসপাতালে যেন কোনওভাবেই তাঁর সঙ্গে দেখা না করেন রত্না চট্টোপাধ্যায়৷ এ দিন সন্ধ্যাতেই সেই মর্মে এসএসকেএম হাসপাতালের সুপারকে চিঠি দেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ের আইনজীবী৷ এর কিছুক্ষণের মধ্যেই এসএসকেএম হাসপাতালে দাঁড়িয়েই বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না নিয়েই কার্যত চ্যালেঞ্জের সুরে রত্না বললেন, আজ থেকে শুধু শোভনের ছেলেমেয়েই তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন৷

নারদ কাণ্ডে গত সোমবার সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার হন শোভন চট্টোপাধ্যায়৷ এই মুহূর্তে এসএসকেএম হাসপাতালের উডবার্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন তিনি৷ এ দিন হাসপাতালের সুপারকে চিঠি দেন শোভনের আইনজীবী৷ সেখানে বলা হয়, রত্না এবং শোভনের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা চলছে৷ শোভন যেহেতু হাইপার টেনশন, ডায়াবিটিস, বুকে ব্যথার মতো সমস্যায় ভুগছেন, এই অবস্থায় রত্না তাঁর কাছে গিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেন৷ যাতে শোভনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে পারে৷ ফলে শোভন অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত যেন রত্নাকে তাঁর সঙ্গে দেখা না করতে দেওয়া হয়৷

একই সঙ্গে চিঠিতে বলা হয়, এই মুহূর্তে শোভন পুলিশের নজরদারিতে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন৷ নিজেদের বাবার উপর পুলিশ নজর রাখছে, ছেলে সপ্তর্ষি এবং মেয়ে সুহানি এই দৃশ্য দেখলে তা তাদের পক্ষে অস্বস্তিকর হতে পারে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে৷ তাই শোভনের ছেলেমেয়েকেও যাতে তাঁর কাছে না যেতে দেওয়া হয়, এই আবেদনও করা হয় চিঠিতে৷

এই পরিস্থিতিতে এ দিন রাত আটটা নাগাদ ছেলে এবং মেয়েকে নিয়ে এসএসকেএম হাসপাতালে পৌঁছন রত্না চট্টোপাধ্যায়৷ শোভনের ছেলে এবং মেয়ে উডবার্ন ওয়ার্ডের কেবিনে শোভনের সঙ্গে দেখা করতে গেলে প্রথমে পুলিশ তাদের বাধাও দেয়৷ এই সময় রত্নাকেও শোভনের কেবিনের দিকে যেতে দেখা যায়৷ যদিও কিছুটা গিয়েই ফিরে আসেন তিনি৷ কিছুক্ষণ পর অবশ্য সপ্তর্ষি এবং সুহানিকে শোভনের ঘরে যাওয়ার অনুমতি দেয় পুলিশ৷ প্রায় ঘণ্টা দু'য়েক তারা সেখানে ছিল৷

হাসপাতাল থেকে বেরনোর সময় শোভনের আইনজীবীর চিঠি প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে রত্না বলেন, 'চিঠি দিয়েছে তো ঢুকতে পারব না? ওঁর কেবিনে শুধুমাত্র আমার ছেলেমেয়েরাই ঢুকবে, অন্য় কেউ ঢুকবে না৷' নাম না করলেও রত্না যে সরাসরি শোভনের বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন, তা স্পষ্ট৷ রত্না এ দিন সকালেও হাসপাতালে গিয়েছিলেন৷ যদিও তাঁর দাবি, তখনও শোভনের কেবিনে যাওয়ার চেষ্টা করেননি তিনি৷

শোভনের গ্রেফতারির পর সিবিআই ডেকে পাঠানোয় নিজাম প্যালেসে গিয়েছিলেন রত্না৷ আবার প্রেসিডেন্সি জেলে নিয়ে আসার জন্য যখন শোভনকে সিবিআই দফতর থেকে বের করা হচ্ছিল, তখনও ছেলে সপ্তর্ষিকে পাশে দেখা গিয়েছিল৷ আবার শোভনের সঙ্গে দেখা করতে প্রেসিডেন্সি জেলে ছুটে গিয়েছিলেন বান্ধবী বৈশাখী৷ কিন্তু এ দিন শোভনের আইনজীবীর চিঠির পর নারদ মামলার মধ্যেই ফের চর্চায় তাঁর পারিবারিক কলহ৷

Venkateshwar Lahiri

Published by:Debamoy Ghosh
First published: