কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

রাজীবের মানভঞ্জনে তৎপর দল, পার্থর নাকতলার বাড়িতে রাজীবের সঙ্গে বৈঠক, ছিলেন প্রশান্ত কিশোর

রাজীবের মানভঞ্জনে তৎপর দল, পার্থর নাকতলার বাড়িতে রাজীবের সঙ্গে বৈঠক, ছিলেন প্রশান্ত কিশোর

রবিবার দুপুরে তৃণমূল কংগ্রেস মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলার বাড়িতে হয় এই বৈঠক। বৈঠকে হাজির ছিলেন ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর।

  • Share this:

#কলকাতা: রাজীব বন্দোপাধ্যায়ের মান ভঞ্জনে তড়িঘড়ি তার সাথে বৈঠকে বসল তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবার দুপুরে তৃণমূল কংগ্রেস মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলার বাড়িতে হয় এই বৈঠক। বৈঠকে হাজির ছিলেন ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর। বৈঠক নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস মুখ না খুললেও রাজীব বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন, 'দল আলোচনার জন্যে ডেকেছিল। আমি বরাবর আলোচনায় বিশ্বাসী। তাই আমি আমার যা যা সমস্যা ছিল সেই সব কথা দলকে জানিয়েছি। দলের তরফ থেকেও আমাকে কিছু কথা বলার ছিল তারা আমাকে সেটা জানিয়েছেন।'

শুভেন্দু অধিকারীর সাথেও একাধিকবার বৈঠক করে দল। সৌগত রায়ের আলোচনার পাশাপাশি, সাংসদ সুদীপ বন্দোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দোপাধ্যায় ও ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর আলোচনা করেন। যদিও সমস্যার সমাধান হয়নি৷ দলের সাথে শুভেন্দুর যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে তা আর মিটবে বলে মনে করছে না রাজনৈতিক মহল। তার পর পরই রাজীব বন্দোপাধ্যায়ের বিভিন্ন অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকে দলকে বা দলের বিশেষ বিশেষ কাউকে করা ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য ভাবায় দলকে। যদিও রাজীব বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন, "অন্য কারও সাথে আমার সমস্যাকে মিলিয়ে দেবেন না। দুটি একেবারেই ভিন্ন ব্যপার।"

তবে রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা রাজীব বন্দোপাধ্যায়ের বিভিন্ন মন্তব্য উজ্জীবিত করেছে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরকে। তবে তারা যাতে এই অবস্থা থেকে রাজনৈতিক ফায়দা না তুলতে পারে তাই রাজীব বন্দোপাধ্যায় নিয়ে তড়িঘড়ি বৈঠক সারল শাসক দল। তবে এক দিনের বৈঠক আদৌ বরফ গলাবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিগত কয়েক দিন ধরে একাধিক অরাজনৈতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে নানা মন্তব্য করতে শোনা গেছে বর্তমান বন মন্ত্রীকে। দল বিরোধী সরাসরি কথা না বললেও রাজীব বন্দোপাধ্যায়ের মন্তব্য নিয়ে দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে চর্চা। তাই দ্রুত রাজীব বন্দোপাধ্যায়কে নিয়ে আলোচনায় বসতে চাইছিল দল।

গত শুক্রবার রাজীব বন্দোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না তাঁকে। শুক্রবারই পুরোহিতদের একটি সভায় যোগ দেন রাজীব বন্দোপাধ্যায়। সঙ্গে তিনি বলেন, যা বলেছি সব ভেবে চিন্তেই বলেছি। একই সাথে কিছু দিন আগেও তিনি বলেন, 'ঠাকুরের কথায়, যত মত, তত পথ। যত মত থাকবে, পথও ভিন্ন ভিন্ন হবে। রাজনৈতিক কারণে আমি একথা বলিনি। যা বলেছি ঠাকুরকে স্মরণ করে বলেছি।' তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনও একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী। তিনি একটি মন্ত্রীসভার সদস্য। তবে তিনি গোটা বিষয়টি ভেবে বলেছেন বলে জানিয়েছেন।

অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকে এই বক্তব্য হলেও, রাজীব বন্দোপাধ্যায়ের কথাকে গুরুত্ব দিচ্ছে দল। দল মনে করছে রাজীব বন্দোপাধ্যায় সংগঠক ও মন্ত্রী হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনও না কোনও ভাবে দলের প্রতি তার অভিমান তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই তার সাথে আলোচনায় বসল দল। সূত্রের খবর আগামী সপ্তাহেই রাজীব বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফের একবার আলোচনায় বসবেন দলের নেতারা। দলের ব্যাখ্যা রাজীব বন্দোপাধ্যায় কোথাও সরাসরি কূ-কথা বলেননি দলের উদ্দেশ্যে। দলনেত্রীর সম্পর্কেও কোনও কটূ শব্দ ব্যবহার করেননি। ফলে রাজীবের সঙ্গে  আলোচনায় বসতে চলেছে দল।

শনিবারই সৌগত রায় অবশ্য বলেন, 'যারা আমাদের দলে আছেন, তাদের আমরা দলে রাখার চেষ্টা করব। ভোটের আগে কিছু লোক কিছু কিছু কথা বলেন। নেত্রী রাস্তায় নেমে গেছে, দল রাস্তায় নেমে গেছে। এখন বাকি কিছু ভাবার অবকাশ নেই।' রাজীব বন্দোপাধ্যায় অবশ্য  জানিয়েছেন, 'রাজনীতি করি বলে অনেক মানুষকে সাহায্য করতে পারি। ব্যক্তিগত ভাবে এতটা করা যায় না। মানুষ বড় স্বার্থপর। নিজের ছাড়া কিছু বোঝে না। যতদিন বাঁচব, ততদিন মানুষের হয়েই কাজ করব।' রাজনৈতিক মহলের দাবি, শুধু নিজের জেলা নয়। যখনই যে জেলায় দায়িত্ব পেয়েছেন সেখানে যথেষ্ট সাফল্য এনেছেন রাজীব বন্দোপাধ্যায়। এখন দেখার রাজীবকে আটকাতে কী রাস্তা বেছে নেয় দল।

ABIR GHOSHAL

Published by: Shubhagata Dey
First published: December 13, 2020, 4:38 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर