corona virus btn
corona virus btn
Loading

তিন দিনের কন্যাসন্তানকে শ্বাসরোধ করে খুন, পুলিশি জেরায় স্বীকার করল মা

তিন দিনের কন্যাসন্তানকে শ্বাসরোধ করে খুন, পুলিশি জেরায় স্বীকার করল মা

রোজগার মাসে ৭ হাজার টাকা। ভাড়া বাড়িতে বাস। দুটি সন্তান। সংসারে অভাব থাকে। প্রভাস সপ্তাহে একবার আসেন। আবার কোনও সপ্তাহে আসেন না।এই নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ ছিল।

  • Share this:

#কলকাতা: গত ফেব্রুয়ারি মাসে তিনদিনের এক শিশুকন্যার আচমকা মৃত্যু হয়। বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে আনার পর ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। কিন্তু মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন ডাক্তার। শিশুটির মা দাবি করে, তাঁর কন্যা সন্তানকে কেউ খুন করে গিয়েছে। সেই অনুযায়ী ময়নাতদন্ত হয় শিশুটির। তদন্ত এগোতেই সত্যিটা সামনে আসে৷ কেউ নয়, মা-ই শ্বাসরোধ করে সন্তানকে খুন করেছে৷ ঘটনাটি ঘটেছিল আনন্দপুর থানার নোনাডাঙার চিনা মন্দির সংলগ্ন এলাকাতে।

সনিয়া বারুই (২১) এর একটি দেড় বছরের পুত্র সন্তান রয়েছে। গত ৩ ফেব্রুয়ারিতে আরেকটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। স্বামী প্রভাস বারুই (২৫)পেশায় চর্ম শিল্পের কারিগর। রোজগার মাসে ৭ হাজার টাকা। ভাড়া বাড়িতে বাস। দুটি সন্তান। সংসারে অভাব থাকে। প্রভাস সপ্তাহে একবার আসেন। আবার কোনও সপ্তাহে আসেন না।এই নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মতবিরোধ ছিল।

কয়েকদিন আগে শিশুটির দেহের ময়না তদন্তের রিপোর্ট থানার হাতে এসে পৌঁছয়। ওই রিপোর্টে দেখা যায়,তিন দিনের শিশু কন্যাকে শ্বাস রোধ করে মারা হয়েছে। পুলিশ তদন্তে জানতে পারে,সনিয়া সেইদিন রাতে মেয়েকে নিয়ে বাড়িতেই ছিল। যেহেতু সদ্য প্রসবা,সেই হেতু শাশুড়ি দিপালী বারুই নিজের কাজের ছুটি করে বাড়িতেই ছিলেন। সন্ধেয় বাজারে গিয়েছিলেন দিপালী। বাড়িতে ফিরে,খাওয়া দাওয়া করে শোওয়ার ঘরে গিয়ে নাতনির ঘুমনোর ধরন দেখে সন্দেহ হয় তার।

সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে গেলে শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন ডাক্তার। পরিবারের তরফে দীপালীর বক্তব্য ছিল, দুধ খাওয়াতে গিয়ে হয়তো শ্বাসনালীতে আটকে মারা গিয়েছে। রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর সোনালীকে আটক করে পুলিশ৷ জেরায় ওই মহিলা স্বাকীর করেন, নিজেই তিন দিনের শিশু কন্যাসন্তানকে শ্বাস রোধ করে খুন করেছে৷

আজ সোনালিকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। অভিযোগ, কন্যা সন্তান হওয়ার পর থেকেই সোনালির ওপর একটা বিরূপ মন্তব্য ও আচরণ শুরু করে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। সংসারের রোজগার কম তার ওপরে মেয়ে! কী ভাবে দুটো সন্তানকে মানুষ করবে। কীভাবে বড় করে বিয়ে দেবে।এই সমস্ত সমালোচনা আস্তে আস্তে সোনালির মাথায় চেপে বসে। আর সেই মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্তির পথ হিসেবে মেয়েকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

SHANKU SANTRA

Published by: Arindam Gupta
First published: August 11, 2020, 12:37 AM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर