কলকাতা

corona virus btn
corona virus btn
Loading

দলত্যাগের বান ডেকেছে, 'এসব কেন হচ্ছে? আপনার কী মনে হয়?', মুখোমুখি দিদি-পিকে

দলত্যাগের বান ডেকেছে, 'এসব কেন হচ্ছে? আপনার কী মনে হয়?', মুখোমুখি দিদি-পিকে

দলত্যাগের বান ডেকেছে ৷ দলত্যাগীদের মুখে পিকে-র নাম ৷ প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার কর্মকান্ড নিয়ে উগরে দিয়েছেন ক্ষোভ ৷ এবার দিদির সওয়ালের মুখে পিকে ৷

  • Share this:

#কলকাতা: শুভেন্দু অধিকারী থেকে শীলভদ্র দত্ত। দলত্যাগী বিক্ষুব্ধদের তালিকা ক্রমাগতই লম্বা হচ্ছে ৷ দলের বেসুরোদের মধ্যে কেউ কেউ আবার প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ৷ শুভেন্দু অধিকারীর পথে জোড়াফুল ছেড়ে পদ্মের পথে শাসক দলের একের পর এক বিধায়ক, সাংসদ, নেতা ৷ ব্লক স্তর থেকে পঞ্চায়েত কেউই দলত্যাগের উৎসবে যোগ দিতে পিছপা হচ্ছে না ৷ বেসুরো, বিক্ষুব্ধ দলত্যাগীদের সিংহভাগের গলায় শোনা গিয়েছে ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে উষ্মা ৷ অনেকে দলছাড়ার কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন পিকে-এর কর্মকাণ্ডকে ৷ এমন পরিস্থিতিতে কালীঘাটের কোর কমিটির বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমোর নিশানায় ২১-এর ভোট স্ট্র্যাটিজিস্ট পিকে ৷

দলত্যাগের বান ৷ গত কয়েকমাস ধরেই ভাঙন শাসক শিবিরে ৷ শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে জোড়াফুলের তাল কাটতেই খুলে গিয়েছে দলছাড়ার লকগেট ৷ দাদার অনুগামী থেকে পিকে-এর কাজে বিক্ষুদ্ধদের দল বেঁধে দলত্যাগ ৷ ওয়াকিবহল মহল বলছে, দলত্যাগীদের সব পথ শেষে গিয়েছে মিলছে সেই পদ্মশিবিরেরই ৷ এমন পরিস্থিতিতে ঘরের ভাঙন নিয়ে সরাসরি তৃণমূল নেত্রীর প্রশ্নের মুখে প্রশান্ত কিশোর ৷ সূত্রের খবর, এদিন কালীঘাটের কোর কমিটির বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পিকে-এর কাছে জানতে চান কেন এমন পরিস্থিতি ৷ তিনি বলেন, ‘কেনও এইসব হচ্ছে, আপনার কি মনে হয়!’ উত্তরে প্রশান্ত কিশোর জানান, ‘বিজেপি বিভিন্ন ভাবে এজেন্সির ভয় দেখাচ্ছে, অনেকে লোভে পড়েও এইসব করছে।’ এখানেই শেষ নয়, পিকে-র উত্তর শুনে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘দেখুন, বাকিরা যারা আছে, তাদের বোঝান ৷’

ভোটকৌশলী প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে এই প্রথম নয়, এর আগেও বিভিন্ন বিধায়ক, নেতা পিকে-এর সংস্থা আইপ্যাক-এর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই ৷ দলত্যাগী বিক্ষুব্ধ বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত বলেন,‘একটা কর্পোরেট সংস্থা বলে দিচ্ছে কী করব ৷ এভাবে কাজ করা যায় না ৷ আইপ্যাকের ছেলেরা এসে বলছে এটা করুন এটা করবেন না ভোটের কথা আপনাকে চিন্তা করতে হবে না ৷ ওটা আমাদের কাজ ৷ জিতিয়ে আনার জন্য তো আমরা টাকা পেয়েছি ৷ এভাবে কী ভোট হয়?’ শুধু শীলভদ্র পদ্মমুখী রাস্তায় হাঁটা অধিকাংশ তৃণমূল ত্যাগীর গলাতেই এই সুর ৷

অন্যদিকে কোর কমিটির বৈঠকে এদিন তৃণমূল সুপ্রিমো আরও একবার বুঝিয়ে দেন যত বড় নেতাই হোক না কেন, দল ছেড়ে গেলে কাউকে নিয়ে চিন্তিত নয় তৃণমূল ৷ একইসঙ্গে দলকে এমন পরিস্থিতিতে ইতিবাচক ও আত্মবিশ্বাসী থাকার কথা বললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ সূত্রের খবর, কোর কমিটির বৈঠকে নেত্রী বলেছেন, ‘কে গেল, কে থাকল তাতে দলের কিছু আসে যায় না ৷ তৃণমূল মোটেই উদ্বিগ্ন নয় ৷ দল অনেক বড়। যাঁরা যাচ্ছে তাঁরা দলের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ভাল হচ্ছে ওঁরা নিজেরাই ছেড়ে দিচ্ছে।’

লক্ষ্য ২১, বাংলার মসনদের লড়াইতে মাঠ ছাড়তে নারাজ তৃণমূল ৷ দলনেত্রীর বার্তায় স্পষ্ট লড়াইয়ের ময়দানে আর দৃঢ়ভাবে পা রাখতে চলেছে তৃণমূল ৷ দল ভাঙিয়ে মনোবল ভেঙে দেওয়ার স্ট্র্যাটেজির পাল্টা তৃণমূল সুপ্রিমোর বার্তা ৷ সামনে বিধানসভার অগ্নিপরীক্ষা ৷ তার জন্য শীর্ষ নেতৃত্বকে সমস্ত শক্তি দিয়ে নির্বাচনী ময়দানে ঝাঁপানোর পরামর্শ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের জেতা নিয়ে কোনও আশঙ্কা নেই ৷ এক ইঞ্চি জমি ছাড়া যাবে না ৷ তৃণমূলের হাতিয়ার উন্নয়ন ৷ উন্নয়নকে অস্ত্র করে ঝাঁপাতে হবে ৷ ২১-এ জিততে তৃণমূল আত্মবিশ্বাসী ৷ মানুষ আমাদের সঙ্গেই আছে তার প্রমাণ দুয়ারে সরকার প্রকল্পের সাফল্য ৷’

আগামিকাল মেদিনীপুরের কলেজ মাঠে অমিত শাহের সামনে সভামঞ্চে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন জনপ্রিয় জননেতা শুভেন্দু অধিকারী ৷ সঙ্গে রয়েছেন শুভেন্দু অনুগামী তৃণমূল ত্যাগী একঝাঁক তৃণমূল বিধায়ক, নেতা, সাংসদ ৷ তার ১২ ঘণ্টা আগে কালীঘাটের এই বৈঠকে নজর ছিল গোটা রাজ্যের ৷

Published by: Elina Datta
First published: December 18, 2020, 10:53 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर