Mamata Banerjee: 'নন্দীগ্রামের EVM পাল্টানো হয়েছে', রিটার্নিং অফিসারের 'SMS' দেখিয়ে বিস্ফোরক মমতা

Mamata Banerjee: 'নন্দীগ্রামের EVM পাল্টানো হয়েছে', রিটার্নিং অফিসারের 'SMS' দেখিয়ে বিস্ফোরক মমতা

মমতার বিস্ফোরক অভিযোগ

মমতা বলেন, 'নন্দীগ্রামের ভোট সবাই দেখেছেন। পক্ষপাতদুষ্ট পর্যবেক্ষকরা ছিলেন। রিটার্নিং অফিসাররা ভয় পেয়েছে। আমার কাছে এসএমএস এসেছে, তাতে ওরা বলেছে, ‘আমাকে বন্দুকের ডগায় কাজ করতে হচ্ছে। পুনর্গণনার নির্দেশ দিলে প্রাণসংশয় হতে পারে।'

  • Share this:

    #কলকাতা: যেন এক গোলকধাঁধা। নন্দীগ্রামের (Nandigram) ফল নিয়ে একলপ্তে এমনটাই বলছেন রাজনীতির কারবারিরা। সারাদিন ধরে কখনও শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu), কখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এগিয়েছেন, আবার পিছিয়েছেন। একটা সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জয়ী বলে খবরও হয়ে যায়, কিন্তু তার কিছুক্ষণের মধ্যেই বদলে যায় ফল। দেখা যায়, শুভেন্দু অধিকারী ১৭৬২ ভোটে জয়ী। কিন্তু তৃণমূল তা মানতে নারাজ। গোটা রাজ্যে দলকে জিতিয়ে এনেও নিজের পরাজয় নিয়ে ক্ষুব্ধ হন মমতা নিজেও। জানান দল পুনর্গণনা চাইছে। যদিও এও জানিয়ে দেন, 'একটা' আসন নিয়ে ভাবতে তিনি রাজি নন। তৃণমূলের পুনর্গণনার দাবি খারিজ করে ইলেকশন কমিশন। এদিন অবশ্য মমতা কালীঘাটের বাড়িতে সাংবাদিক বৈঠক থেকে নিজের মোবাইলে একটি মেসেজের কথা তুলে ধরেন। যে মেসেজ নন্দীগ্রামের রিটার্নিং অফিসার তাঁর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠিয়েছেন বলে দাবি করেছেন মমতা। যেখানে রিটার্নিং অফিসার লিখেছেন, নন্দীগ্রামের গণনার পুনর্গণনার নির্দেশ দিলে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের প্রাণ হারানোর সম্ভবনা রয়েছে। এদিন মমতা বলেন, 'নন্দীগ্রামের ভোট সবাই দেখেছেন। পক্ষপাতদুষ্ট পর্যবেক্ষকরা ছিলেন। রিটার্নিং অফিসাররা ভয় পেয়েছে। আমার কাছে এসএমএস এসেছে, তাতে ওরা বলেছে, ‘আমাকে বন্দুকের ডগায় কাজ করতে হচ্ছে। পুনর্গণনার নির্দেশ দিলে প্রাণসংশয় হতে পারে।' যদিও 'নিউজ 18 বাংলা' ওই মেসেজের সত্যতা খতিয়ে দেখেনি।

    নন্দীগ্রামের ফল নিয়ে গতকালই মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় বলছেন, "নোংরা খেলা খেলেছে। সব অফিসার আমায় বলেছে। আমি সুপ্রিম কোর্টে যাব।" পাশাপাশি তিনি এও বলছেন, "আমি নন্দীগ্রামের জন্যে লড়াই করেছি। যা রায় দিয়েছে আমি মেনে নেব।" যদিও এদিন মমতা বলেন, 'চার ঘণ্টা সার্ভার ডাউন, চল্লিশ মিনিট লোডশেডিং। অনেক মেশিন সরিয়েছে। আমরা তো আদালতে যাবই। পুনর্গণনা করতে এত ভয় কীসের?'

    প্রসঙ্গত, নন্দীগ্রামে গণনার শুরু থেকে পিছিয়ে ছিলেন মমতা। ১২ রাউন্ড গণনার শেষে অবশ্য ৪৬০০ ভোটে এগিয়ে যান তিনি। ১১ রাউন্ড থেকেই একটু একটু করে ব্যবধান বাড়াচ্ছিলেন তৃণমূলনেত্রী। কিন্তু এরপরই শুভেন্দু টক্কর নেওয়া শুরু করেন, ধীরেধীরে গোটা বিষয়টাই ধোঁয়াশায় পরিণত হয়। মমতা ১২০০ ভোটে জয়ী হয়েছেন বলে খবরও হয়ে যায় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। শেষে ফের ফল বদলে যায়। ঘোষণা করা হয়, ১৭৬২ ভোটে জিতেছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাতেই পুনর্গণনার দাবি করে তৃণমূল। কিন্তু তা খারিজ করে দেয় নির্বাচন কমিশন।

    যদিও তার আগে মুখ্য নির্বাচনী অফিসার জানিয়েছিলেন, রিটার্নিং অফিসারের রিপোর্টে যদি পুনর্গণনার কথা বলা হয়, তাহলেই তা করা হবে। কিন্তু রাতেই কমিশন জানায়, পুনর্গণনা হবে না। আর মমতা এদিন রাত ১১টার একটি মেসেজ দেখিয়ে অভিযোগ করলেন, রিটার্নিং অফিসার পুনর্গণনার নির্দেশ দিলে তাঁকে খুন হতে পারে, সেই আশঙ্কা ছিল। ফলে বাংলার ভাগ্য নির্ধারণ হয়ে গেলেও নন্দীগ্রাম নিয়ে গনগনে আঁচ এখনও রয়েই গেল।

    শুভেন্দু অধিকারী বলেছিল মাননীয়াকে হাফ লাখ ভোটে হারাব। আর মমতা বলেছিলেন, এক পায়েই খেলা দেখাবেন। খেলা হল, তৃণমূলের সুনামি দেখল গোটা বাংলা। মমতা জিতুন বা হারুন, আপাতত সামনে শপথগ্রহণ।

    Published by:Suman Biswas
    First published:

    লেটেস্ট খবর