Home /News /kolkata /
Honeytrap| Kolkata News|| হানিট্রাপে শহরের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা! কীভাবে জাল ছড়াচ্ছে প্রতারকরা? বিশেষজ্ঞদের মত...

Honeytrap| Kolkata News|| হানিট্রাপে শহরের বিশিষ্ট চিকিৎসকরা! কীভাবে জাল ছড়াচ্ছে প্রতারকরা? বিশেষজ্ঞদের মত...

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

Kolkata Crime News: সচেতনতাই কি একমাত্র উপায় বাঁচতে? লোভ লালসাকে সায় না দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুত্বের হাতছানি এড়ান, পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। 

  • Share this:

#কলকাতা: শহরে হানিট্রাপের খপ্পরে চিকিৎসক! একজন নয়, দু-চার জন চিকিৎসকে শিকার বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তাহলে টার্গেট কি হাই প্রোফাইল চিকিৎসকরা?

সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুত্ব পাতিয়ে অন্তরঙ্গ  মুহূর্তের ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেলের অভিযোগ নতুন নয়। এ বার সেই চক্রে ভরতপুর গ্যাংয়ের থাবা! যা গোয়েন্দাদের ভাবাচ্ছে। কলকাতায় ভরতপুর, জামতারা গ্যাংয়ের এই নয়া চক্র থাবা বসিয়েছে। ভিডিও কল করে ব্ল্যাকমেল ও প্রতারণার চেষ্টা গল্ফগ্রীনের শিশু বিশেষজ্ঞকে। ভুক্তভোগী চিকিৎসকের অভিযোগ, ভিডিও কল করে অশালীন প্রস্তাব দিয়ে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতে দিয়ে ব্ল্যাকমেলের চেষ্টা করা হয়েছে।

১৬ জানুয়ারি রবিবার তাঁর কাছে ভিডিও কল আসে সকাল ১০.৩৬ নাগাদ। তিনি শ্যামনগরের চেম্বারে তখন রোগী দেখছিলেন। ভিডিও কলটি রিসিভ করেন তিনি। কারণ অতিমারী পরিস্থিতিতে এখন অনেক্ষেত্রেই ভিডিও কল ভরসা। কিন্তু ভিডিও কল রিসিভ করলে প্রথমে তিনি ব্ল্যাক স্ক্রিন দেখতে পান। কিন্তু স্ক্রিনের অপর পাশ থেকে তখন বাংলায় তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছিল, তিনি দেখতে পাচ্ছেন কিনা। চিকিৎসক তার উত্তরে জানিয়ে দেন 'না'। তার মাত্র ৩-৪ সেকেন্ডই মধ্যে এক সুন্দরী তরুণীর নগ্ন ছবি এসে ওঠে চিকিৎসকের মোবাইলে। চিকিৎসক জানান,ঐ তরুণী নিজেকে ঋত্বিকা শর্মা পরিচয় দেন। তারপরই চিকিৎসক ফোন কেটে দেন।চিকিৎসকের দাবি, ফোন এলে ট্রু কলারে নাম উঠেছিল প্রমোদ dps। এ দিকে, এই ঘটনার পরে তিনি কাজ সেরে বাড়ি ফিরে যান। এরপর দুপুর ১.৪০ নাগাদ তাঁর কাছে ফোন দিল্লি ক্রাইম ব্রাঞ্চের নাম করে। সেখান থেকে তাঁকে জানানো হয়,  একটি মেয়ের  সঙ্গে তিনি অশালীন আচরণ করেছেন তাই অভিযোগ পেয়ে পুলিশের এই ফোন।

আরও পড়ুন: গলায় গলায় বন্ধুত্ব ছিল! সেই বন্ধুর হাতেই দাদা-ভাই খুন! মির্জাপুরে ব্যাপক চাঞ্চল্য

চিকিৎসক অভিযোগে উড়িয়ে দিয়ে জানান তিনি এরকম কিছু করেনি। পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তি বলেন, 'মেয়েটি আপনাকে ফাঁসিয়ে দিয়েছে, আপনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। আপনার ফ্যামিলি শেষ।' চিকিৎসক বলেন, 'আমি সে ভাবে কথা বলিনি'। এরপর পুলিশ পরিচয়ে দেওয়া ওই ব্যক্তি বলেন, '৪০ সেকেন্ডর ভিডিওতে আপনার ফ্যামিলি শেষ হয়ে যাবে। ফেসবুক,  ইউটিউব, টুইটার ছড়িয়ে গিয়েছে'। চিকিৎসক অবশ্য লড়ে গিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, 'আমি কিছু করিনি। আমার কোনও অসুবিধা হবে না।' এরপর তাঁকে ৪০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি সেটি ডাউনলোড করেনি। এরপর ওই চিকিৎসক নিজের সোশ্যাল মিডিয়াতে গোটা ঘটনাটি শেয়ার করেন। আর তাতেই জানতে পারেন তাঁর অন্য চিকিৎসক বন্ধুরাও একই অভিজ্ঞতার সামিল। ওই চিকিৎসকের অপর  বন্ধু চিকিৎসকও সচেতনতার জেরে কোনওমতে রেহাই পান।

আরও পড়ুন: বার ডান্সার-বার সিঙ্গারের প্রেম জমে উঠেছিল! গভীর রাতে ফল হল মারাত্মক...

ভিডিও কল করে অশালীন প্রস্তাব দিয়ে ব্ল্যাকমেলের চেষ্টার অভিযোগ করেন দমদমের এক জেনারেল ফিজিসিয়ানও। গত একমাস ধরে  তার কাছেও ভিডিও কল আসে ৪/৫ বার। কিন্তু তিনি ভিডিও কল ধরেননি। তিনি জানান, আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া তিনি ভিডিও কল ধরেন না। তাঁর  বন্ধু চিকিৎসক  সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পর  দমদমের ওই চিকিৎসকও  দেখেন ওই নম্বর থেকে লাস্ট এক মাস ধরে ভিডিও কল আসছিল। যদিও তিনি ধরেনি, তাই বরাত জোরে বেঁচে গিয়েছেন।  নিজের সচেতনতা দ্বারা এই চক্রকে রোখা যাবে তাঁর দাবি।

এই প্রসঙ্গে পল্লব কান্তি ঘোষ ( প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান কলকাতা পুলিশ ) জানান, " ক্রিমিনালরা এগিয়ে টেকনোলজিতে, পুলিশ সেই টেকনোলোজি ধরে অনুসরণ করে কেস ট্র্যাক করে। এর পিছনে ভরতপুর গ্যাং আছে, পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও, বর্তমানে এই প্রতারণা অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছে। তাই সাধারণ মানুষকে চেনা নম্বর ছাড়া ভিডিও কল তোলা ঠিক নয়।  জরুরি পরিষেবা সঙ্গে যুক্তদের ক্ষেত্রে তো এটা বিপদ। সেক্ষেত্রে ফোনে ফ্রন্ট ক্যামেরাতে স্টিকার আটকে রাখা উচিত। যাতে উল্টোদিকে কেউ ভিডিও রেকর্ডিং না করতে পারেন।"

আইনজীবী অনির্বান গুহ ঠাকুরতা জানান, "এ ধরণের ব্ল্যাকমেল অভিযোগে ৬৬, ৬৭ সহ একাধিক অ্যাক্টে মামলা হতে পারে। কীভাবে হচ্ছে এই হানি ট্রাপ? বিশেষজ্ঞদের মতে দু-ভাবে হচ্ছে প্রতারণা। কোনও ক্ষেত্রে সরাসরি ফোন করে ভিডিও কল রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেল। আবার কোনও ক্ষেত্রে প্রতারকরা তরুণীর মোহময়ী ছবি দিয়ে ভুয়ো ফেসবুক প্রোফাইল খুলে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায়। হাতিয়ে নেয় মোবাইল নম্বর। অন্তরঙ্গ মুহূর্তে ভিডিও কলের রেকর্ডিং করে পরবর্তীকালে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগ।

প্রসঙ্গত গত বছরে অভিনেতা অঙ্কুশের পিএ অমিত সরকার আত্মহত্যা করেন। হানি ট্রাপের ফাঁদে তিনিও পড়েছিলেন। কখনও পাটুলির  যুবক, কখনও ফুলবাগানের চিকিৎসক একইভাবে প্রতারিত হচ্ছেন শতধিক মানুষ। গোয়েন্দাদের পরামর্শ, অচেনা নম্বর ব্লক করুন। ভিডিও চ্যাট এড়িয়ে যান। মোবাইলের ফ্রন্ট ক্যামেরায় স্টিকার লাগানো যেতে পারে, যাতে আপনার ছবি কেউ রেকর্ড করতে না পারে। লজ্জা নয়, পুলিশের কাছে অভিযোগ করুন। নিজের নম্বর অপরিচিতকে শেয়ার করবেন না।কোনও লিঙ্কে ক্লিক না করা।

Arpita Hazra

Published by:Shubhagata Dey
First published:

Tags: Kolkata

পরবর্তী খবর