• Home
  • »
  • News
  • »
  • kolkata
  • »
  • ‘ক্লিন গঙ্গা’ টেন্ডারে দুর্নীতির অভিযোগ, দায়িত্ব থেকে সরানো হল কেএমডিএ ইঞ্জিনিয়ারকে

‘ক্লিন গঙ্গা’ টেন্ডারে দুর্নীতির অভিযোগ, দায়িত্ব থেকে সরানো হল কেএমডিএ ইঞ্জিনিয়ারকে

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় এক মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষরও বৈধতা পেয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে কেএমডিএ'র কাছে।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় এক মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষরও বৈধতা পেয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে কেএমডিএ'র কাছে।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় এক মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষরও বৈধতা পেয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে কেএমডিএ'র কাছে।

  • Share this:

ABIR GHOSHAL

#কলকাতা: টেন্ডার নিয়ে কড়া হচ্ছে রাজ্য সরকার। কড়া হাতে টেন্ডার দুর্নীতি দমন করল কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি। ক্লিন গঙ্গা’ প্রকল্পের টেন্ডার কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে যাওয়ায় কেএমডিএ’র এক ইঞ্জিনিয়ারকে সরিয়ে দেওয়া হল। এই ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ উঠতেই মন্ত্রীর নির্দেশে তাকে সরিয়ে দেওয়া হল। শুক্রবার এই মর্মে নোটিফিকেশন জারি করে দেওয়া হয়েছে।

যাকে সরিয়ে দেওয়া হল সেই ব্যক্তি কেএমডিএ’র ‘ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন’ বিভাগের সুপারিনটেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার ছিল। এই ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেএমডিএ-কর্তৃপক্ষ। অভিযোগ যে এই প্রকল্পে কয়েকশো কোটি টাকার টেন্ডার-দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ওই ইঞ্জিনিয়ার। তার বিরুদ্ধে মুল অভিযোগ, সরকারি যোগ্যতার মাপকাঠি ছাড়াই তিনি বেশ কয়েকজন ঠিকাদারকে টেন্ডার পাইয়ে দিয়েছেন।

গঙ্গার দূষণ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের ‘নমামি গঙ্গে প্রকল্প’-এর নাম বদলে রাজ্যে পরিচিত হয়েছে ‘ক্লিন গঙ্গা’ নামে। কলকাতা শহর সহ বিভিন্ন কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি এরিয়ায় নোংরা জল গঙ্গায় ফেলার বহু পুরনো পরিকাঠামো রয়েছে। ক্লিন গঙ্গা প্রকল্পের মাধ্যমে সেগুলি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেয় কেএমডিএ। এর জন্য গঙ্গার দু'পাশে যে সব পুরসভা রয়েছে সেখানে ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার জন্য টেন্ডার ডাকা থেকে শুরু করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ওই ইঞ্জিনিয়ারকে।

কেএমডিএ'র কাছে অভিযোগ এসেছে, কোনও প্রকার ‘ফিল্ড সার্ভে’ বা সরেজমিনে সমীক্ষা ছাড়াই দরপত্র আহ্বান করেন ওই ইঞ্জিনিয়ার। এমনকী, প্রকল্প রূপায়ণের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিও গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে। শুধুমাত্র বিভিন্ন পুরসভার নাম উল্লেখ করে বৃহৎ প্রকল্পের আকারে টেন্ডারগুলির বরাত দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি'র বক্তব্য ছিল সম্পূর্ণ কাজগুলি ছোট ছোট পরিসরে ভাগ করে টেন্ডার প্রকাশ করতে হবে। এর ফলে বহু মানুষের কর্মসংস্থান হওয়ার সুযোগ হবে। কিন্তু কে এম ডি এ'র সেই নীতি উপেক্ষা করেই ওই ইঞ্জিনিয়ার বিশেষ কিছু ঠিকাদার সংস্থাকে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন।

যে ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেই ঠিকাদার সংস্থার বিরুদ্ধে আবার শিলিগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদের আর্থিক তছরুপের মামলাও চলছে। শুধু তাই নয়, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় এক মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষরও বৈধতা পেয়েছে বলে অভিযোগ এসেছে কেএমডিএ'র কাছে। এই সব অভিযোগ আসার পরেও বরাত দেওয়া টেন্ডার বাতিল তো করাই হয়নি। উল্টে, প্রকল্পের বাকি কাজগুলিও সরকারি নিয়মনীতিকে উপেক্ষা করে ওই ইঞ্জিনিয়ার চালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ। এর ফলে বহু শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। কেএমডিএ’র ঠিকাদারদের একটি অংশ ওই ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কাছে কিছুদিন আগেই লিখিত অভিযোগ করেন। কেএমডিএ'র মুখ্য আধিকারিক অন্তরা আচার্যের কাছেও তাঁরা অভিযোগ দায়ের করেন। তার পরই ওই বিভাগের সুপারিনটেন্ডেট ইঞ্জিনিয়ারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয় কেএমডিএ কর্তৃপক্ষ।

রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ওই ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। কেএমডিএ’তে কোনওপ্রকার দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না।’ কেএমডিএ সূত্রের খবর, মন্ত্রীর নির্দেশের পরেই ওই ইঞ্জিনিয়ারকে শো'কজ নোটিস ধরিয়ে দিয়েছে কেএমডিএ কর্তৃপক্ষ। ‘নমামি গঙ্গে প্রকল্প’-এর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাকে। একই সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তও শুরু করে দিয়েছে কেএমডিএ। তদন্তে দেখা হচ্ছে  মৃত ব্যক্তির সই কীভাবে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বৈধতা পেল? তদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে কেএমডিএ’র তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Published by:Simli Raha
First published: