করোনা আক্রান্ত তরুণের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে বহু মানুষের মধ্যে তা ছড়ানোর আশঙ্কা

করোনা আক্রান্ত তরুণের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে বহু মানুষের মধ্যে তা ছড়ানোর আশঙ্কা

এখানেই শেষ নয়,বাড়ি গিয়ে আবাসনের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেন। বিকালে দক্ষিণ কলকাতার একটি শপিং মলে যান, মলের বাইরে রেস্টুরেন্টে খেতে যান। বহু মানুষের সংস্পর্শে আসেন ওই তরুণ।

  • Share this:

ABHIJIT CHANDA

#কলকাতা: বিশ্বজুড়ে যখন করোনাভাইরাস এর হানা মারাত্মক আকার ধারণ করেছে, ভারতবর্ষও তখন তার ব্যতিক্রম ছিল না। প্রতিদিন পাল্লা দিয়ে নভেল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এমনকি তিনজনের মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে এদেশে। তখন পশ্চিমবঙ্গে কেউ না আক্রান্ত হওয়ায় সর্বত্রই অনেকটা স্বস্তির বাতাবরণ ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই যা পরিণত হয়েছে আতঙ্কে। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ইংল্যান্ড থেকে ফেরা কলকাতার বাসিন্দা এক তরুণের নভেল করোনাভাইরাস পাওয়ায় চূড়ান্ত সতর্কতা রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের।

কলকাতার বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী এই তরুণ ইংল্যান্ডের একটি নামজাদা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠরত। কয়েকদিন আগে লন্ডনে তার বান্ধবীর সঙ্গে একটি পার্টিতে যান। লন্ডন থেকে গত রবিবার, ১৫ মার্চ ভোররাতে দিল্লি হয়ে কলকাতায় ফেরেন তিনি। অভিযোগ, দমদম বিমানবন্দর থেকে ওই তরুণের শারীরিক অবস্থা দেখে তাকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু ওই তরুণ সেখানে ভর্তি হননি। উল্টে তিনি কলকাতার বাড়ি চলে যান। এখানেই শেষ নয়,বাড়ি গিয়ে আবাসনের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেন। বিকালে দক্ষিণ কলকাতার একটি শপিং মলে যান, মলের বাইরে রেস্টুরেন্টে খেতে যান। বহু মানুষের সংস্পর্শে আসেন ওই তরুণ।

সোমবার টালিগঞ্জ এম আর বাঙুর হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে তাঁর পরিবার যান। সেখানে একজন চিকিৎসক ও একজন স্বাস্থ্য সহায়ক তাঁকে পরীক্ষা করে অবিলম্বে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন। যদিও ভর্তি হননি ওই তরুণ। এরপর বিকালে মধ্য কলকাতার বেশ কয়েকটি জায়গায় ঘুরে বেড়ান তিনি। সেখানেও অনেক মানুষের সঙ্গে সংস্পর্শে আসেন এই তরুণ। মঙ্গলবার সকালে আরও মারাত্মক ঘটনা ঘটে। এই তরুণের মা, রাজ্য স্বরাষ্ট্র দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ আমলা । তিনি তাঁর সন্তানকে নিয়ে নবান্নে যান। সেখান থেকে তিনি যান বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে। এবারে আর ভর্তি না হয়ে ফেরত আসেননি । ওই তরুণকে বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয় । তাঁর নমুনা পরীক্ষা করা হয় এবং করোনা পজিটিভ বা করোনা আক্রান্ত জানা যায়। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরে তরফ থেকে প্রথমেই তরুণের বাবা-মা এবং বাড়ির গাড়িচালককে রাজারহাটের কোয়ারান্টিনড সেন্টারে পাঠানো হয় । পরে তিনজনকেই বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয় ।

এর পাশাপাশি এম আর বাঙ্গুর হাসপাতালে চিকিৎসক এবং এক রোগী সহায়ককেও বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এদের প্রত্যেকের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর এখন আক্রান্ত তরুণ যে যে মানুষের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের খোঁজ চালাচ্ছে এবং প্রত্যেককে হোম কোয়ারান্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। চিকিৎসকদের বক্তব্য, এই তরুণ যাঁদের যাঁদের সংস্পর্শে এসেছেন প্রত্যেকে বিপদ সীমার মধ্যে।

First published: March 18, 2020, 4:24 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर