Indian Railways Reservation: রিজার্ভেশনের পরও সিট পাননি ট্রেনে? তুলে দেওয়া হয়েছে সংরক্ষিত আসন থেকে? কোথায় অভিযোগ করলে সঙ্গে সঙ্গে কড়া শাস্তি, জানুন
- Reported by:ABIR GHOSHAL
- news18 bangla
- Published by:Arpita Roy Chowdhury
Last Updated:
Indian Railways Reservation: যথা সময়ে সব নিয়ম মেনে টিকিট কেটেও ট্রেনে আসন পাননি। বা সংরক্ষিত আসন থেকে তুলে দেওয়া হয়েছে। এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হননি, এমন যাত্রী বিরল। জানুন কোথায় কীভাবে অভিযোগ জানালে মিলবে সুফল।
কলকাতা: চলন্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের সংকীর্ণ করিডোরে দাঁড়িয়ে সুশান্ত সাহা (নাম পরিবর্তিত)-র কাছে ট্রেনের চাকার ছন্দোময় শব্দটাও যেন কাঁটার মতো বিঁধছিল। পাশেই তাঁর ৯১ বছর বয়সি বৃদ্ধা মা, যিনি অত্যন্ত অসুস্থ এবং দুর্বল, একটি পার্টিশনের উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের কাছে বৈধ এবং কনফার্মড রিজার্ভেশন টিকিট থাকা সত্ত্বেও, একদল অননুমোদিত যাত্রী জেদ করে তাঁদের সিট দখল করে রেখেছিলেন এবং জায়গা ছাড়তে অস্বীকার করছিলেন বলে অভিযোগ। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে একজন শতায়ুপ্রায় বৃদ্ধাকে ভিড় ঠাসা কোচের মধ্যে দাঁড়িয়ে শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে হয়, কারণ কিছু মানুষ নিজের সুবিধার জন্য আইন লঙ্ঘন করাকেই বেছে নিয়েছিলেন। অবশেষে টিকিট পরীক্ষক এবং আরপিএফ-এর দ্রুত হস্তক্ষেপে সুশান্ত ও তাঁর মা তাঁদের প্রাপ্য বৈধ আসন ফিরে পান। তবে তাঁর বৃদ্ধা মায়ের ওপর দিয়ে যে মানসিক ও শারীরিক ধকল গেল, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে আক্ষেপ সুশান্তর।
যাত্রীদের অভিযোগ, এই অভিজ্ঞতা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; রেলওয়ে নেটওয়ার্ক জুড়ে প্রতিদিন এমন দৃশ্য দেখা যায়। যদিও পূর্ব রেলওয়ে ঘন ঘন অভিযান ও নজরদারির মাধ্যমে সংরক্ষিত কোচে অননুমোদিত ভ্রমণের এই প্রবণতা রুখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সাধারণ যাত্রীদের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ ছাড়া এই প্রাতিষ্ঠানিক প্রচেষ্টা সফল হওয়া সম্ভব নয় বলে মত তাঁদের। সংরক্ষিত কোচগুলি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে যাঁরা আগে থেকে টিকিট বুক করেছেন, তাঁরা একটি নিরাপদ, মার্জিত এবং আরামদায়ক পরিবেশ পান। বিশেষ করে বয়স্ক, অসুস্থ এবং শিশুদের নিয়ে ভ্রমণকারী পরিবারগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি। যখন অননুমোদিত ব্যক্তিরা এই সংরক্ষিত স্থানগুলিতে ভিড় জমায়, তারা কেবল একটি ‘আসন’ দখল করে না; বরং তারা বৈধ যাত্রীদের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা এবং মানসিক শান্তি বিঘ্নিত করে একটি পরিকল্পিত যাত্রাকে যন্ত্রণায় পরিণত করে।
advertisement
নৈতিক উদ্বেগের পাশাপাশি, এই ধরনের কাজ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং ১৯৮৯ সালের রেলওয়ে আইন অনুযায়ী এর গুরুতর পরিণতিও রয়েছে। বিশেষত, এই আইনের ১৫৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া অন্য কোনও যাত্রীর জন্য সংরক্ষিত কামরায় কেউ প্রবেশ করলে রেলকর্মীরা তাকে সরিয়ে দিতে পারেন এবং সেই ব্যক্তি জরিমানার যোগ্য হবেন। অপরাধীদের তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ, পুরো ভাড়ার সঙ্গে মোটা অঙ্কের জরিমানা এবং কিছু ক্ষেত্রে কারাদণ্ডও হতে পারে। এছাড়া, এই অবাঞ্ছিত ভিড় প্রভাব ফেলে ট্রেনের স্বাভাবিক চলাচলের উপরেও। এটি অনবোর্ড কর্মীদের নিরাপত্তা পরীক্ষা করতে বাধা দেয়, স্টেশনে ওঠানামার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করে এবং জল ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে ট্রেনের পরিষেবার মান কমিয়ে দেয়।
advertisement
advertisement
আরও পড়ুন : বাড়ানো হয়েছ ৩৫টি ট্রেনের স্পিড! ট্রেন পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য গতি ও কর্মদক্ষতার অগ্রগতি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের
পূর্ব রেলওয়ে সমস্ত যাত্রীদের কাছে সুআচরণ করার এবং সহযাত্রীদের সংরক্ষণের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জরুরি আবেদন জানাচ্ছে। যদি কোনও যাত্রী তাঁদের কোচে অননুমোদিত ব্যক্তি দেখেন, তবে তাঁদের অবিলম্বে কর্তব্যরত কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত, RailMadad (RailOne) অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো উচিত অথবা রিয়েল-টাইম সহায়তার জন্য সমন্বিত হেল্পলাইন নম্বর ১৩৯-এ কল করা উচিত। এই প্রসঙ্গে পূর্ব রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি জানান যে, প্রতিটি বৈধ যাত্রীর আরাম ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই রেলের অগ্রাধিকার। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, প্রশাসন এনফোর্সমেন্ট ড্রাইভ জোরদার করলেও রেল ভ্রমণ হওয়া উচিত নাগরিক শৃঙ্খলার পরিচয়েই। জনগণকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে অসুস্থ, বৃদ্ধ এবং শিশুদের যেন তাঁদের আইনত প্রাপ্য জায়গার জন্য লড়াই করতে না হয়।
Location :
Kolkata,West Bengal
First Published :
Mar 31, 2026 9:17 AM IST









