খোদ কলকাতায় তৈরি হচ্ছে নকল ঘি, বিক্রি হচ্ছে নামী ব্র্যান্ডের প্যাকেটে

খোদ কলকাতায় তৈরি হচ্ছে নকল ঘি, বিক্রি হচ্ছে নামী ব্র্যান্ডের প্যাকেটে

শনিবার খাস কলকাতার পোস্তায় এমনই একটি ভেজাল ঘি তৈরির কারখানার হদিস পেয়েছে কলকাতা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ যেখানে খাঁটি ঘি'র নামের পাম তেল দিয়ে ভেজাল ঘি তৈরি করা হচ্ছে।

  • Share this:

SUJOY PAL

#কলকাতা: বিভিন্ন ব্র্যান্ডের খাঁটি ঘি'র নামে যা খাচ্ছেন, তা আসলে কতটা খাঁটি জানেন? ঘি'র নামে ক্ষতিকারক রাসায়নিক আর পাম তেল খাচ্ছেন না তো? শনিবারের পর থেকে এই প্রশ্ন উঠছেই। কারণ শনিবার খাস কলকাতার পোস্তায় এমনই একটি ভেজাল ঘি তৈরির কারখানার হদিস পেয়েছে কলকাতা পুলিশের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ যেখানে খাঁটি ঘি'র নামে পাম তেল দিয়ে ভেজাল ঘি তৈরি করা হচ্ছে। তা আবার নামী ব্র্যান্ডের প্যাকেটে বিক্রি হচ্ছে।

গোপনসূত্রে খবর পেয়ে শনিবার পোস্তায় সেই ভেজাল ঘি তৈরির কারখানায় হানা দেয় পুলিশ। সেখানে দেখা যায় একটি বহুতলের আন্ডারগ্রাউন্ডে ছোট্ট একটি ঘরে তৈরি হচ্ছে ভেজাল ঘি। অর্থাৎ মাটির উপরে বহুতল। ভূগর্ভে ভেজাল ঘি তৈরির কারখানা। এভাবেই কয়েকমাস ধরে দিব্যি জালিয়াতির কারবার চলছিল পোস্তায়। নামী ব্রান্ডের প্যাকেটে ভেজাল ঘি ভরে বিক্রি করা হচ্ছে বাজারে।

গোপনসূত্রে খবর পেয়ে সেই কারখানায় হানা দিয়ে প্রায় ৫০০ লিটার ভেজাল ঘি মিলেছে। সঙ্গে একাধিক নামি ব্র্যান্ডের নকল লোগোও মিলেছে। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, পাম তেলের সঙ্গে ঘি'র গন্ধ আনার জন্য মেশানো হত এসেন্স। তারপর সেই মিশ্রনে দেওয়া হত রং। গন্ধ ও রং খাঁটি ঘি'র মত করার পর তা প্যাকেটে ভরে বাজারে বিক্রি করা হত।

শনিবার ভেজাল ঘি কারখানায় হানা দিয়ে যে পরিমান ঘি বাজেয়াপ্ত করা হয় তার নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। ডিসি (এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ) বলেন, ''ভেজাল ঘি চক্রের জাল কতদূর ছড়িয়েছে তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভেজাল ঘিতে কি কি ক্ষতিকারক রাসায়নিক মেশানো হতো তা জানার জন্য নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট এলে স্পষ্ট হবে ঠিক কী কী দিয়ে এটা তৈরি হত।"

পুলিশ সূত্রে খবর, ভেজাল ঘি তৈরির পর আন্ডারগ্রাউন্ড ওই কারখানায় তা প্যাকেটে আর কৌটোতে ভরা হত। এরপর বিভিন্ন নামী ব্রান্ডের নকল লোগো সাটিয়ে আসল হিসেবে বাজারে বিক্রি করা হতো। এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের এক অফিসার বলেন, "ভেজাল ঘি এমনভাবে তৈরি করা হত যা বাইরে থেকে দেখে বা খেয়ে নকল বোঝার কোনও উপায় নেই। আমাদের কাছে নির্দিষ্ট খবর ছিল যে পোস্তায় নকল ঘি তৈরি হচ্ছে সেই মত হানা দেওয়া হয়।"

এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ সূত্রে খবর, সুরেশ আগারওয়াল নামের এক ব্যবসায়ী নিজের ঘি'র ব্যবসার আড়ালে এই জালিয়াতি করছিল। নিজের দোকানে ভেজাল ঘি বিক্রির পাশাপাশি অন্য ব্যবসায়ীদেরও বিক্রি করত। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা চলছে আর কে কে জড়িত এই কারবারে। কতদিন ধরে এই ভেজালের কারবার চালাচ্ছিল তা দেখা হচ্ছে। ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট কী আসে তা দেখার পর তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

First published: February 2, 2020, 10:44 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर