সিভিক পুলিশ মামলার শুনানি শেষ, ভলান্টিয়ারদের চাকরির ভবিষ্যত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

সিভিক পুলিশ মামলার শুনানি শেষ, ভলান্টিয়ারদের চাকরির ভবিষ্যত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে সিভিক পুলিশ মামলার শুনানি শেষ ৷ রায়দান আপাতত স্থগিত রাখল হাইকোর্ট ৷

  • Share this:

#কলকাতা: কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে সিভিক পুলিশ মামলার শুনানি শেষ ৷ রায়দান আপাতত স্থগিত রাখল হাইকোর্ট ৷ রায় না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী নির্দেশ বহাল থাকবে ৷ অর্থাৎ আপাতত কর্তব্যরত সিভিক ভলান্টিয়ারদের চাকরি যাওয়ার সম্ভাবনা নেই ৷ এই মামলার রায়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় তিনশোরও বেশি সিভিক পুলিশের ভবিষ্যৎ ৷

অস্থায়ী প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, ‘ রায় ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কর্তব্যরত সিভিক পুলিশদের চাকরি যাচ্ছে না ৷’ এদিনের ঘোষণায় কিছুটা হলেও স্বস্তি পেল রাজ্যের এক লাখ কুড়ি হাজার সিভিক ভলান্টিয়ার।

অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তের উদ্দেশ্যে এদিনও হাইকোর্ট একই প্রশ্ন করেন ৷ একদিনের মধ্যে ৮৪৬ জনের ইন্টারভিউ কিভাবে সম্ভব তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে হাইকোর্ট ৷ প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ

বলে, ‘এক দিনে এত ইন্টারভিউ সম্ভব নয় ৷ ৮৪৬ জনের ইন্টারভিউ নেওয়া কোনওভাবেই সম্ভব নয় ৷ এর কোনও যুক্তিগ্রাহ্য কারণ থাকতে পারে না ৷’

এর আগে একই প্রশ্ন তুলে সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগ পত্র বাতিলের নির্দেশ দেয় সিঙ্গল বেঞ্চ ৷ ২০ মে বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় সিভিক পুলিশের নিয়োগে অনিয়মের কথা মেনে নিয়ে রায় দেন, বারিকুল ও সারেঙ্গা থানায় ২০১৩ সালের নিযু্ক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিয়োগপত্র বাতিল করা হবে ৷ এর ফলে চাকরি হারান প্রায় তিনশোর অধিক সিভিক ভলান্টিয়ার ৷

সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়াদের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে নতুন কমিটি গঠন, নিয়োগ পদ্ধতির নতুন গাইডলাইন ও তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দেয় সিঙ্গলবেঞ্চ। বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই রায়ে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করে সারেঙ্গা ও বারিকুল থানার চাকরি হারানো ভলান্টিয়াররা ৷ এরপর সিঙ্গলবেঞ্চের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে স্থগিতাদেশ চেয়ে ডিভিশন বেঞ্চের কাছে আবেদন করে রাজ্য।

বাঁকুড়ার দুই থানায় সিভিক পুলিশ ভলান্টিয়ার নিয়োগের নথি দেখে শুনানিতেই বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৩র ১২ এপ্রিল নেওয়া ইন্টারভিউয়ে অনিয়মের কথা হাইকোর্টে দাঁড়িয়ে কার্যত স্বীকার করে নিয়েছিলেন সরকারি আইনজীবীও।

সারেঙ্গা থানায় ১ দিনে ১৩৫১ জনের ইন্টারভিউ নেওয়া হয় ৷ এর মধ্যে নিয়োগ ১২০ জনকে নিয়োগ করা হয় ৷ আর বাড়িকুল থানা ১ দিনে ৮৭৫ জনের ইন্টারভিউয়ের পর ২০০ জনকে নিয়োগ করা হয় ৷ ২০ মে হাইকোর্টের এই রায়ের পর বাতিল হয়ে যায় এই ৩২০ জন সিভিক পুলিশের নিয়োগপত্র ৷ রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘সিভিক পুলিশ ভলান্টিয়ার ফোর্স নিয়োগে ধোঁকাবাজি ৷ নিয়োগে কোনও স্বচ্ছতা নেই ৷ বাঁকুড়ার ঘটনা হিমশৈলের চূড়ামাত্র ৷’

সবমিলিয়ে আশা-আশঙ্কার দোলাচলে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভাগ্য ৷ এবার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় আরও বিপাকে পড়তে পারেন তারা বলে আশঙ্কা ৷ তবে কি রয়েছে তাদের ভাগ্যে, তার জন্য হাইকোর্টের রায়দান পর্যন্ত সিভিক ভলান্টিয়ারদের অপেক্ষা করতেই হবে ৷

First published: 01:42:13 PM Mar 07, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर