‘রাজ্যে সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা কী?’ প্রশ্ন হাইকোর্টের

রাজ্যের সওয়ালের প্রেক্ষিতে সিভিক ভলান্টিয়ারের নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তুলল হাইকোর্ট ৷

Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Feb 28, 2017 02:33 PM IST
‘রাজ্যে সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা কী?’ প্রশ্ন হাইকোর্টের
Elina Datta | News18 Bangla
Updated:Feb 28, 2017 02:33 PM IST

#কলকাতা: রাজ্যের সওয়ালের প্রেক্ষিতে সিভিক ভলান্টিয়ারের নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তুলল হাইকোর্ট ৷ সিভিক ভলান্টিয়ার মামলায় রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল হাইকোর্টের সামনে সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগে রিভিউ কমিটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সওয়াল করেন ৷ তার পরিপ্রেক্ষিতেই অস্থায়ী প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের এই প্রশ্ন ৷

সিভিক ভলান্টির নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে এই অভিযোগে বহুদিন ধরেই হাইকোর্টে বিচারাধীন এই মামলা ৷ সেই মামলাতেই হাইকোর্টের পূর্বনির্দেশিত রিভিউ কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা ও এক্তিয়ার নিয়ে এদিন ডিভিশন বেঞ্চের সামনে সওয়াল রাখেন অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত ৷ তিনি বলেন, ‘সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়ে রিভিউ কমিটি গড়া সিঙ্গল বেঞ্চের এক্তিয়ার বহি‍র্ভূত কাজ ৷ বিধানসভা এ কাজ করতে পারে ৷’

এর পরিপ্রেক্ষিতেই অস্থায়ী প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের পাল্টা প্রশ্ন, ‘রাজ্যে সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা কী? তারা কীভাবে পুলিশের ডিউটি করে? পুলিশি ক্ষমতা কীভাবে পায় তারা?’

প্রশ্নের উত্তরে অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত জানান, ‘সিভিক ভলান্টিয়ার রাজ্য পুলিশের আওতাভুক্ত নয় ৷ পুলিশের কিছু কাজে সহযোগিতা করে ৷ উৎসবের মরশুমে ভিড় সামলানোর মতো কিছু কাজ থাকে তাদের ৷ ’

সবমিলিয়ে আশা-আশঙ্কার দোলাচলে সিভিক ভলান্টিয়ারদের ভাগ্য ৷ এবার নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় আরও বিপাকে পড়তে পারেন তারা বলে আশঙ্কা ৷ এর আগে সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়াদের নিয়োগ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন। নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে নতুন কমিটি গঠন, নিয়োগ পদ্ধতির নতুন গাইডলাইন ও তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দেয় সিঙ্গলবেঞ্চ। সিঙ্গলবেঞ্চের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে স্থগিতাদেশ চেয়ে ডিভিশন বেঞ্চের কাছে আবেদন করে রাজ্য। এতে ডিভিশন বেঞ্চ আপাতত সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরির মেয়াদ এমাসের শেষ অবধি নিশ্চিত করেছিল ৷

এই মামলার রায়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় তিনশোরও বেশি সিভিক পুলিশের ভবিষ্যৎ ৷ তাই তাদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সব দিক খতিয়ে দেখেই সিদ্ধান্ত নিতে চায় আদালত ৷

বাঁকুড়ার দুই থানায় সিভিক পুলিশ ভলান্টিয়ার নিয়োগের নথি দেখে শুনানিতেই বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৩র ১২ এপ্রিল নেওয়া ইন্টারভিউয়ে অনিয়মের কথা হাইকোর্টে দাঁড়িয়ে কার্যত স্বীকার করে নিয়েছিলেন সরকারি আইনজীবীও।

সারেঙ্গা থানায় ১ দিনে ১৩৫১ জনের ইন্টারভিউ নেওয়া হয় ৷ এর মধ্যে নিয়োগ ১২০ জনকে নিয়োগ করা হয় ৷ আর বাড়িকুল থানা ১ দিনে ৮৭৫ জনের ইন্টারভিউয়ের পর ২০০ জনকে নিয়োগ করা হয় ৷ ২০ মে হাইকোর্টের এই রায়ের পর বাতিল হয়ে যায় এই ৩২০ জন সিভিক পুলিশের নিয়োগপত্র ৷ রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘সিভিক পুলিশ ভলান্টিয়ার ফোর্স নিয়োগে ধোঁকাবাজি ৷ নিয়োগে কোনও স্বচ্ছতা নেই ৷ বাঁকুড়ার ঘটনা হিমশৈলের চূড়ামাত্র ৷’

আগামী দিনে সিভিক পুলিশ নিয়োগে দুর্নীতি রুখতেই রিভিউ কমিটি গড়ার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট ৷

First published: 02:33:59 PM Feb 28, 2017
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर