গড়িয়াহাট খুনের অস্ত্র ফেলা হয় বাইপাসের ধারে

গড়িয়াহাট খুনের অস্ত্র ফেলা হয় বাইপাসের ধারে
Representative Image
  • Share this:

SUJOY PAL

#কলকাতা: গড়িয়াহাটে বৃদ্ধা উর্মিলা ঝুন্ড খুনে ব্যবহৃত ছুরি ফেলা হয়েছিল বাইপাসের ধারে। মূল অভিযুক্ত সৌরভ পুরি খুনের পরদিন ভোরে দিল্লি পালানোর সময় বাইপাসের ধারে একটি ঝোপে সেটি ফেলে দিল্লির ফ্লাইট ধরে পালিয়েছিল। ইতিমধ্যেই সেই ঝোপ থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করেছে পুলিশ ।

পুলিশ সূত্রে খবর, এই খুনে ধৃত বৃদ্ধার বৌমা ডিম্পল, নাতনি গুড়িয়া তাদের প্রেমিক সৌরভ যৌথভাবে পরিকল্পনা করে খুন করে। ডিম্পল ও গুড়িয়াই খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটি সৌরভের হাতে তুলে দিয়েছিল। সেক্ষেত্রে প্ল্যান ছিল, খুনের পরদিন ভোরে যেহেতু সৌরভ কলকাতা ছেড়ে পালিয়ে যাবে, তাই সেই এয়ারপোর্ট যাওয়ার পথে এমন কোথাও ছুরিটি ফেলে দেবে যেখান থেকে কোনও ভাবেই খুঁজে পাওয়া যাবে না। এক গোয়েন্দা অফিসার বলেন, " মা উড়ালপুল থেকে নামার পর কিছুটা এগিয়ে একটি ঝোপে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। সেটি উদ্ধার করে ফরেন্সিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। শুধু খুন করা নয়, প্রমাণ লোপাটের পরিকল্পনাও করেছিল ধৃতরা।"

ধৃতদের জেরায় গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, বৃদ্ধার বৌমার রিচি রোডের ফ্ল্যাটের রান্নাঘর থেকে নেওয়া হয়েছিল খুনে ব্যবহৃত ছুরিটি। কিন্তু রান্নায় ব্যবহৃত ছুরি দিয়ে কিভাবে শরীর থেকে মাথা কেটে আলাদা করা সম্ভব হল তা নিয়ে সন্দেহে ছিলেন গোয়েন্দারা। তাঁরা মনে করছেন, পরিকল্পনা করে খুনের আগেই সেটি এমনভাবেই ধার দিয়ে আনা হয়েছিল যাতে গলা কেটে শরীর থেকে মাথা আলাদা করা যায়। যদিও সেই বিষয়ে এখনও স্বীকারোক্তি মেলেনি।

উর্মিলা দেবী উর্মিলা দেবী

গত ১১ ডিসেম্বর রাতে গড়িয়াহাটে বৃদ্ধা উর্মিলাকে খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে, গলা-পেট কেটে খুন করে সৌরভ। বৃদ্ধার নাতনি গুড়িয়ার সামনেই তাকে নৃশংস ভাবে খুন করে সৌরভ। তদন্তে জানা যায় তিনজন মিলেই গোটা পরিকল্পনা করেছে। মূলত সম্পত্তির লোভ ও নিজের নামে ফ্ল্যাট না পাওয়ার আক্রোশেই খুন করা হয়েছিল বৃদ্ধাকে। যেহেতু বৃদ্ধার হাতেই গোটা পরিবারের টাকা পয়সার নিয়ন্ত্রণ থাকতো তাই নিজেকে বঞ্চিত মনে করতো ডিম্পল। তাই প্রেমিকাকে সঙ্গে নিয়ে খুনের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা ছিল, প্রেমিককে দিয়ে খুন করিয়ে দেহ লোপাট করে নিজেরা সাধু সাজবে। প্রেমিক একবার রাজ্যের বাইরে পালিয়ে গেলে ধরাও পড়বে না। তাদের দিকে কেউ সন্দেহও করবে না। ফলে আস্তে আস্তে বৃদ্ধার পরে বাড়ির বড় হিসেবে সবকিছু সামলাবে ডিম্পলই। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। আপাতত জেল হেফাজতে মা-মেয়ে ও প্রেমিক।

First published: 11:05:44 PM Dec 28, 2019
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर