৭২ ঘন্টা পার, বউবাজারের চৈতন সেন লেনে কে এম আর সি এলের আধিকারিকরা

৭২ ঘন্টা পার, বউবাজারের চৈতন সেন লেনে কে এম আর সি এলের আধিকারিকরা

এখনও ভয় কাটছে না স্থানীয়দের। পাশে থাকার আশ্বাস কাউন্সিলরের

  • Share this:

#কলকাতা: শুক্রবার সকালেও থমথমে হয়ে আছে চৈতন সেন লেন। বউবাজারের এই রাস্তার একাধিক বাড়িতে ধরেছে ফাটল। যা দেখে বাসিন্দাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ বেড়েছে। তাদের অভিযোগ বাড়িতে ফাটল দেখা গেলেও এগিয়ে আসেনি কে এম আর সি এল। সেই অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার বউবাজারের চৈতন সেন লেনে গেলেন কে এম আর সি এলের চিফ ইঞ্জিনিয়ার সহ অনেকেই। ফাটল বিপদজনক নয় বলে আশ্বাস দিলেও, ভয় ঝেড়ে ফেলতে পারছেন না ফাটল ধরা বাড়ির বাসিন্দারা। শুক্রবার দুপুরে চৈতন সেন লেনে আসেন কে এম আর সি এল চিফ ইঞ্জিনিয়ার বিশ্বনাথ দেওয়ানজী। কথা বলেন বাসিন্দাদের সাথে। সুকল্যাণ দত্ত, ১১ নম্বর চৈতন সেন লেনের এই বাড়ি সাত মাস আগেই সংষ্কার করা হয়েছে। নতুন বাড়িতে ফাটল ধরা পড়ায় চিন্তিত তারা। এদিন তার বাড়িতেই বসে বৈঠক করেন বিশ্বনাথবাবু। তিনি দেখেন ৯,১০,১১,১২ সহ চৈতন সেন লেনের একাধিক বাড়ি। ফাটল ধরা বাড়িতে বসানো হয় ক্র‍্যাক মিটার। এই মিটার বসানোর কারণ, ফাটল আরও চওড়া হচ্ছে কিনা তা বোঝার জন্য। বসানো হয় টিল্ট মিটার, বাড়ি কোনওভাবে হেলে পড়ছে কিনা তা বোঝার জন্য। এছাড়া বিভিন্ন বাড়িতে কাঠের বল্গা বা লোহার স্ট্যান্ড ক্লিপ দিয়ে ছাদের সিলিং আটকে রাখা হয়েছে। যেখানে যেখানে ফাটল ধরেছে বলে অভিযোগ, সেই সব জায়গায় এদিন চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে নজর রাখা হবে ফাটল বাড়ছে কিনা! ইঞ্জিনিয়াররা আসলেও চিন্তা মুক্ত হতে পারছেন না সুকল্যাণ বাবুর। এদিন তিনি বলেন, "আপনাদের খবর হওয়ার পরে জানতে পারল যে বাড়িতে ফাটল রয়েছে। এদিকে এখান দিয়েই তো ইঞ্জিনিয়ার সবাই যাতায়াত করেন। তাদের তো নজর রাখা উচিত ছিল।" একই অভিযোগ শেলী ভৌমিকের। তিনি বলেন, "যার বাড়ি নষ্ট হয়েছে তারাই বুঝতে পারবেন তাদের কষ্ট। কিছুদিন আগেই তো, এই বউবাজারের বাড়ি ভেঙে পড়েছে। আমার বাড়ি যে ভেঙে পড়বেনা সেই দায়িত্ব কে নেবে?" এলাকার আরেক বাসিন্দা চিন্ময় ভট্টাচার্য বলেন, "মেনে নিলাম ফাটল না হয় খুব একটা বিপদজনক নয়। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারদের তো এসে আমাদের বোঝানো উচিত। কথা বলা উচিত ছিল আমাদের সাথে। আমরা তো আর ইঞ্জিনিয়ার নই।" এরকমই নানা অভিযোগ ঘুরে বেড়িয়েছে চৈতন সেন লেনের অন্দরে।

যদিও কে এম আর সি এল পরিদর্শনের পর তাদের দাবি, এই ফাটলগুলো বিপজ্জনক নয়।ওই অংশ দিয়ে মেশিন পেরিয়ে গেছে।আফটার এফেক্ট কিছু ক্র্যাক হতে পারে।ক্র্যাকগুলো মার্ক করে নজর রাখা হবে।আফটার এফেক্ট এর টাইম ওভার হয়ে গেলে সব বাড়ি সারানো হবে।বাসিন্দাদের দাবি অনুযায়ী সারানো হবে।ওই ক্র্যাক থেকে বৌবাজার এর মত ঘটনা ঘটবে না।এলাকার বাসিন্দা দের জন্য ২৪ ঘন্টা খোলা থাকবে এরকম একটা হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া হবে।। সেখানে তারা বাড়িতে কিছু হলেই জানাতে পারবে। আপাতত এই আশ্বাসেই দিন কাটাচ্ছেন বউবাজারের চৈতন সেন লেনের বাড়ির বাসিন্দারা।

ABIR GHOSHAL

First published: February 28, 2020, 9:43 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर