শীতলকুচি কাণ্ডে এবার এসডিপিও-কে তলব, হাজিরা এড়ালো সিআইএসএফ

শীতলকুচির ঘটনার তদন্তে কোমর বেঁধে নেমেছে সিআইডি৷

এ দিনই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সিআইএসএফ-এর চারজন কনস্টেবল, একজন ডেপুটি কম্যান্ডান্ট ও একজন ইন্সপেক্টরকেও তলব করেছিল সিআইডি৷

  • Share this:

#কলকাতা: শীতলকুচিতে ভোটের দিন গুলি চলার ঘটনার তদন্তে এবার মাথাভাঙার এসডিপিও সুরজিৎ মণ্ডলকে ডেকে পাঠালো সিআইডি৷ আগামিকাল, বুধবার সকাল এগারোটায় তাঁকে ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ এ দিনই ঘটনার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী মাথাভাঙা থানার আইসি গোবিন্দ মণ্ডলকে তিন ঘণ্টা জেরা করেছে সিআইডি৷

গত ১০ এপ্রিল কোচবিহারের শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ১২৬ নম্বর বুথে গুলি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী৷ সেই ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়, আহত হন বেশ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী৷ সেই ঘটনার তদন্তেই ডিআইজি সিআইডি-র নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে রাজ্য সরকার৷ তদন্তে নেমে ঘটনার দিন এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা মাথাভাঙা থানার একের পর এক আধিকারিককে তলব করছে সিআইডি৷ গতকাল, সোমবার জেরা করা হয় মাথাভাঙা থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকারকে৷ তার পর আজ তলব করা হয় এসআই গোবিন্দ মণ্ডলকে৷ ঘটনার দিন আরটি মোবাইল অফিসার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন গোবিন্দ বাবু৷ প্রায় তিন ঘণ্টা এই অফিসারকে জেরা করেন সিআইডি-র গোয়েন্দারা৷ তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ঘটনার দিন সত্যিই গ্রামবাসীদের তরফে অশান্তিতে কোনও প্ররোচনা দেওয়া হয়েছিল কি না৷ এমন কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে বিকল্প কোনও পথে না হেঁটে সরাসরি গুিল চালাতে হল কেন্দ্রীয় বাহিনীকে?

এ দিনই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সিআইএসএফ-এর চারজন কনস্টেবল, একজন ডেপুটি কম্যান্ডান্ট ও একজন ইন্সপেক্টরকেও তলব করেছিল সিআইডি৷ কিন্তু এ দিন বিকেল পর্যন্ত তাঁরা হাজিরা দেননি৷ সিআইডি সূত্রে খবর, যদি সিআইএসএফ-এর তরফে ই মেল বা চিঠি মারফত তাদের পাঠানো নোটিসের যথাযথ কোনও জবাব না মেলে, সেক্ষেত্রে আদালতের দ্বারস্থ হবে রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা৷

অন্যদিকে, এই ঘটনায় মাথাভাঙার এসডিপিও-র বয়ানও গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে৷ কারণ ঘটনার পর মাথাভাঙা থানার আইসি-র সঙ্গে তিনিও ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন৷ ঘটনার পর তিনি কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, ঘটনাস্থলে কী অবস্থা ছিল, এসবই এসডিপিও-র কাছে জানতে চাইবে সিআইডি৷

তবে এখনও তলব করা না হলেও খুব শিগগিরই কোচবিহারের সদ্যপ্রাক্তন এসপি দেবাশিস ধরকেও ডেকে পাঠানোর তোড়জোড় করছে সিআইডি৷ ঘটনার দিন রাতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কার্যত ক্লিনচিট দিয়েছিলেন ভোটের সময় জেলার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সুপার দেবাশিস ধর৷ এবার তাঁর বয়ানও নিতে চায় সিআইডি৷

যদিও শীতলকুচি কাণ্ডে তদন্তের নামে আসলে রাজ্য সরকার প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ পাল্টা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের দাবি, সরকার প্রকৃত ঘটনাই তুলে ধরতে চায়৷ যাঁরা নির্দোষ তাঁদের চিন্তা করার কোনও কারণ নেই৷

Arpita Hazra

Published by:Debamoy Ghosh
First published: