নেই ট্রেন, ভাড়া বেশি বিমানের, ভরসা সেই সরকারি বাস

নেই ট্রেন, ভাড়া বেশি বিমানের, ভরসা সেই সরকারি বাস
Representational Image
  • Share this:

Abir Ghoshal

#কলকাতা: ট্রেন বাতিল। বিমান ভাড়া ধরা ছোঁয়ার বাইরে সাধারণ মানুষের। এই অবস্থায় ভরসা বাস। গত কয়েকদিন ধরে রাস্তার যা অবস্থা তাতে বেসরকারি বাস চালাতে ভয় পাচ্ছেন মালিকরা। সাধারণ মানুষের ভরসা তাই শুধু মাত্র সরকারি বাস।

এসপ্ল্যানেডে এনবিএটিএসটিসি বাস স্ট্যান্ডে সকাল থেকেই লম্বা লাইন। বেশিরভাগ মানুষ যেতে চান মালদহ, নয়তো শিলিগুড়ি। সোমবারও উত্তরে যাওয়ার প্রায় সমস্ত ট্রেন বাতিল। ফলে বাস ছাড়া কোনও গতি নেই। এনবি এসটিসি ডিপোতে ভিড় করে আছেন মানুষ। সকালে যারা এসেছেন তারা পাচ্ছেন সন্ধ্যা ৬টায় যে বাস ছেড়ে যাবে তার টিকিট। বাকিরা পরের বাসের আসন নিশ্চিত করতে পারবেন কি না তা জানা নেই।

স্ট্যান্ডের বাইরে টিকিট খুঁজে বেড়াচ্ছেন মাণিক সরকার। মালদহের বাসিন্দা গত দেড় দিন ধরে আটকে কলকাতায়। পকেটে পয়সার টানাটানি। কলকাতায় নেই কোনও আত্মীয়। ট্রেন বাতিল। বাসের টিকিট পাচ্ছেন না। কিভাবে বাড়ি ফিরবেন তা নিয়ে চিন্তিত মাণিক। "কাজে এসে এমন সমস্যা হবে ভাবিনি। বাড়ি আমায় ফিরতেই হবে। বাসে সিট না পেলে নিচে বসে চলে যাব।" মাণিকের সুর মফিজুল, সৌরভ ও নন্দনের গলাতেও।

সোমবার সকাল ১১টায় শিলিগুড়ি থেকে কলকাতায় এল বাংলাশ্রী এক্সপ্রেস। বাসে ফিরলেন হলদিয়া থেকে বেড়াতে যাওয়া একাধিক ব্যক্তি। তাদের দলে ছিল রক্তিমা চক্রবর্তী। মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে এবার। "প্রচন্ড ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। সাথে আবার আমার ছোট বোন ছিল। ফলে টেনশনও বেড়ে গিয়েছে। যতটা মজা করে বেড়িয়ে এলাম। শেষে এসে সব তাল কেটে গেল।’’ মেয়ের কথায় সমর্থন করেছেন রণেণ চক্রবর্তী। তার কথায়। "বাড়ির এতজনকে নিয়ে বেড়াতে গিয়ে যে এভাবে বিপদে পড়ব তা আমি ভাবতে পারিনি। তবে পরিবহন দফতরকে ধন্যবাদ। আমাদের কষ্ট করে ফিরিয়ে এনেছে।" তবে কলকাতায় ফিরলেও হলদিয়া কিভাবে ফিরবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না তারা। কারণ হাওড়ার ওপর দিয়ে বাসে করে যাওয়া উচিত হবে কি না তা বুঝতে পারছেন না। তবে কলকাতা যে তাদের জন্য নিরাপদ এমনটাই দাবি চক্রবর্তী পরিবারের। এমনই টুকরো টুকরো ছবি ঘুরে বেড়াচ্ছে এসপ্ল্যানেড বাস ডিপোয়।

এর আগে ২০১৭ সালে বন্যার কারণে ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় ভরসা ছিল বাস। এবারও ট্রেনের বিকল্প হয়ে উঠেছে সেই বাস। তবে এবারের যা চেহারা। তাতে নতুন বাস চালাতে গিয়েও বারবার ভাবতে হচ্ছে পরিবহন দফতরকে।

First published: December 16, 2019, 1:54 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर