Home /News /kolkata /
EXCLUSIVE| Bowbazar Metro|| বউবাজার মেট্রো বিপর্যয়ে বর্ধিত বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন না গৃহহীনরা, ভুরি ভুরি অভিযোগ

EXCLUSIVE| Bowbazar Metro|| বউবাজার মেট্রো বিপর্যয়ে বর্ধিত বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন না গৃহহীনরা, ভুরি ভুরি অভিযোগ

বউবাজার মেট্রো বিপর্যয়।

বউবাজার মেট্রো বিপর্যয়।

Bowbazar Metro Tragedy: ২০১৯ থেকে ঘরছাড়া এমন সমস্ত পরিবার দের বাড়ি ভাড়া আজও মিটিয়ে আসছে তারা। কিন্তু সেই চুক্তিপত্রে স্পষ্ট লেখা আছে, ১১ মাসের যে এগ্রিমেন্ট, সেই চুক্তি পুনর্নবীকরণের (Renewal) সময়ে যা বাড়ি ভাড়া তার ১০% করে প্রতি ১১ মাস অন্তর বাড়ি ভাড়া বাড়াতে হবে। আর এরপর থেকেই শুরু সমস্যা।

আরও পড়ুন...
  • Share this:

#কলকাতা:  ২০১৯ সালে বউবাজার মেট্রো বিপর্যয়ে রাতারাতি ঘরছাড়া হতে হয়েছিল বেশ কয়েকটি পরিবারকে। সেই সময় প্রাথমিকভাবে শহরের বেশ কিছু হোটেলে ঠাঁই হয়েছিল সেই সমস্ত ঘরছাড়াদের। নতুন করে ফের বিপর্যয়। প্রথম বিপর্যয়ের পর ক্ষতিপূরণ এবং ঘরছাড়াদের চুক্তি মোতাবেক হোটেলের ঠিকানা বদলে ঘরছাড়া পরিবারদের আপাতত অস্থায়ী ঠিকানা হিসেবে কেএমআরসিএল কর্তৃপক্ষ ঘরছাড়া পরিবারদের রাখার জন্য বিভিন্ন ফ্ল্যাট- বাড়ির ব্যবস্থা করে। কিছু ক্ষেত্রে মেট্রো কর্তৃপক্ষ নিজেই সেই সমস্ত বাড়ির বা ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে বাড়ি ভাড়ার চুক্তি করে। কিছু ঘরছাড়াদের নির্দিষ্ট চুক্তিপত্র বানিয়ে ভাড়া বাড়ির মালিকদের সঙ্গে ঘরছাড়াদের চুক্তিপত্র মোতাবেক বাড়ি ভাড়ার টাকা মেটানোর আশ্বাস দেয় মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ।

আশ্বাস মতো, ২০১৯ থেকে ঘরছাড়া এমন সমস্ত পরিবার দের বাড়ি ভাড়া আজও মিটিয়ে আসছে তারা। কিন্তু সেই চুক্তিপত্রে স্পষ্ট লেখা আছে, ১১ মাসের যে এগ্রিমেন্ট, সেই চুক্তি পুনর্নবীকরণের (Renewal) সময়ে যা বাড়ি ভাড়া তার ১০% করে প্রতি ১১ মাস অন্তর বাড়ি ভাড়া বাড়াতে হবে। আর এরপর থেকেই শুরু সমস্যা। ঘোর বিপদে পড়েছেন ঘরছাড়াদের অনেকেই। চুক্তিপত্র মেনে কোন পরিবারকে ১৮,০০০ বা কোন পরিবারকে তারও বেশি বাড়িভাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মেটালেও এগ্রিমেন্ট পুনর্নবীকরণের পর যে বর্ধিত বাড়িভাড়া তা সম্পূর্ণ মেটাচ্ছে না বলে অভিযোগ। কাউকে ২ হাজার, কাউকে ৩ হাজার বা কোনও কোনও ঘর ছাড়া পরিবারকে তারও বেশি টাকা মাসের-পর-মাস সেই বর্ধিত বাড়ি ভাড়া নিজেদের পকেট থেকে দিতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: দিনভর পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি, রাতে উলটপুরাণ! কী করলেন আন্দোলনকারীরা?

নন্দী পরিবার। বউবাজারের 92B, BB Ganguly Street-এর বাসিন্দা ছিলেন। ২০১৯-এর মেট্রো বিপর্যয়ের পর থেকে আজও ঘরছাড়া। বর্তমানে এই পরিবারের ঠিকানা 41c, Bechu Chatterjee Street। ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে আমহার্স্ট স্ট্রিট থানা লাগোয়া বহুতল আবাসনই তাঁদের অস্থায়ী ঠিকানা। ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে চুক্তিপত্র মোতাবেক প্রতি মাসে ১০%  বর্ধিত বাড়ি ভাড়া এই পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য সৌমিক নন্দীকে  মেটাতে হচ্ছে। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষকে বারবার আবেদন-নিবেদন করেও আজও বর্ধিত বাড়ি ভাড়া দিচ্ছে না বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় চরম আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন সৌমিক নন্দী। অসহায় অবস্থায় নিরুপায় হয়ে অন্যত্র মাথা গুঁজে থাকলেও সবারই মন পড়ে রয়েছে বউবাজারে।

আরও পড়ুন: ১২ দিন নিখোঁজ ছিলেন! ব্রিজের তলা থেকে উদ্ধার জনপ্রিয় গায়িকার অর্ধনগ্ন পচাগলা দেহ

পরিবারের অভিযোগ, প্রথম প্রথম কী সমস্যা, কী প্রয়োজন এ সবের খোঁজ নিলেও এখন আর মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ কিংবা তাদের সহযোগী সংস্থা,  কেউই কোন খোঁজখবর নেয় না। সমস্যার কথা জানালেও নিরুত্তর থাকে।  কথা দিয়েও এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী বর্ধিত বাড়ি ভাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ না মেটানোয়  হিমশিম অবস্থা। বাড়িতে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা-মা ও অন্যান্য পরিবার পরিজন নিয়ে কি করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না সৌমিক নন্দী। তবে শুধু এই পরিবারই নয়, এইরকম ভুরিভুরি অভিযোগ সামনে আসছে।

দুর্গা পিতুরি লেনে যে ঠাকুরদালান ছিল সেখানকার দেবদেবীদেরও আজ ঠাঁই অন্যত্র। বিপর্যয়ের সময় মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, ঠাকুরদালানেরও অস্থায়ী পুনর্বাসন দেওয়া হবে। কিন্তু কথা রাখেনি। ঠাকুরদালানের দেখভাল করা  ঘরছাড়া আবাসিকদের অস্থায়ী ফ্লাট বাড়ির  টাকা চুক্তি অনুযায়ী মেটালেও একদিকে যেমন বর্ধিত বাড়ি ভাড়া মিলছে না অন্যদিকে এই সমস্ত বিভিন্ন ঠাকুর দেবতার জন্য দুটি ফ্ল্যাটের ভাড়া বাবদ প্রতিমাসে ৪১,৫০০ নিজেদের পকেট থেকে বাড়ির মালিককে মেটাতে হচ্ছে। অথচ সেই সময় অস্থায়ী ঠাকুরদালানের বন্দোবস্ত করার আশ্বাস দেওয়া হলেও  আজ সে ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করছে কর্তৃপক্ষ বলে অভিযোগ।

একদিকে যেমন কবে নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন? বাড়িতে থাকা  জিনিসপত্রের কি হবে? আদৌ নিজেদের ভিটেমাটিতে ফিরতে পারবেন কিনা? ভবিষ্যৎ কী? প্রতি মুহূর্তে এই সমস্ত প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে ঘরছাড়াদের মনে। তখন  চুক্তিপত্রে প্রতি ১১ মাস অন্তর এগ্রিমেন্ট পুনর্নবীকরণের সময় ১০% বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির উল্লেখ থাকলেও, তা মিলছে না। সব মিলিয়ে এক চরম অনিশ্চয়তাকে সঙ্গী করেই দিন কাটাচ্ছেন বউবাজারের ঘরছাড়া বহু পরিবার। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে  সম্পূর্ণ ভাড়া মেটানোর আবেদন যদিও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাদের তরফে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আদৌ কি সমস্যা মিটবে? নাকি সমস্যা যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই রয়ে যাবে? উত্তর দেবে সময়ই।

VENKATESWAR  LAHIRI

Published by:Shubhagata Dey
First published:

Tags: Bowbazar metro, Kolkata metro

পরবর্তী খবর