Dilip Ghosh: ‘নম্বর ভুল দিয়েছেন সেই জন্য আটকে গিয়েছে...’! অ্যাডজুডিকেশন থেকে ট্রাইবুনাল, SIR ভোগান্তি নিয়ে কী বললেন দিলীপ
- Reported by:BISWAJIT SAHA
- news18 bangla
- Published by:Ankita Tripathi
Last Updated:
Dilip Ghosh: মঙ্গলবার, এসআইআর নিয়ে মানুষের ভোগান্তি প্রসঙ্গে আদালতের উপর ভরসা রাখার কথা বললেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ৷ পাশাপাশি, অভিনেতা রাহুল অরুনোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর প্রসঙ্গেও ফের তৃণমূলকে একাহাত নিলেন তিনি৷
কলকাতা: এসআইআর থেকে পাকিস্তানের মন্ত্রীর কলকাতা আক্রমণের হুমকি, একাধিক বিষয়েই তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ৷ অভিনেতা রাহুল অরুনোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর প্রসঙ্গেও ফের তৃণমূলকে একাহাত নিলেন তিনি৷
অ্যাডজুডিকেশনে বেশিরভাগ নিষ্পত্তি। এবার ট্রাইবুনাল! আবার লাইন। মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে৷ এ প্রসঙ্গে দিলীপের মন্তব্য, ‘‘এটাতো আদালতে যেভাবে লেগেছে এবং ভিন রাজ্য থেকে জুডিশিয়ারি নিয়ে এসে যেভাবে কাজ হয়েছে এটা তো জানাই ছিল। ভরসা রাখতে হবে আদালতের উপর। ছোটখাটো কিছু ভুল করার জন্য এসব অনেকটাই হয়েছে। অনেকে বুথের নাম্বার ভুল দিয়েছেন। অন্যান্য নম্বর ভুল দিয়েছেন সেই জন্য আটকে গিয়েছে। সেগুলো দেওয়ার সময় সঠিক দেওয়া উচিত ছিল। এখনও সময় আছে, যে পদ্ধতিতে আদালত বলেছে সেই পদ্ধতিতে যাওয়া উচিত।’’
advertisement
advertisement
ট্রাইবুনালের সমস্যা কাটাতে বিশেষ কমিটি নিয়ে দিলীপ জানালেন, ‘‘যে পদ্ধতি রাখা হয়েছে সুযোগের, যে আসবেন তাকে তো সুবিধা দিতেই হবে, ন্যায় দিতে হবে। আদালত যে রাস্তা পার করেছে সেই রাস্তাতেই যেতে হবে। যার কাছে জেনুইন ডকুমেন্ট আছে তাকে তো বঞ্চিত করা যাবে না। যেখানে ব্যবস্থা আছে সেই রাস্তাতেই যাওয়া উচিত।’’
advertisement
গতকাল শীর্ষ আদালতের মুখ্য সচিবকে ভৎর্সনা করা প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, ‘‘প্রথম তো নির্বাচন কমিশন এসেছে, এই অফিসারদের কাজ দিয়েছেন তারা করেননি উল্টো করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় বিরোধিতা করেছেন। কমিশন অনেক কঠিন ভাবে এই কথা বলাবলি করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে গেছেন, আদালত হাত দিয়েছেন। আদালতের একই সুর, এই আধিকারিকরা হয় অযোগ্য না হলে কোন ব্যক্তির কাছে বেশি বফাদার। এরা এই সিস্টেম মানছে না। আদালতের হাতে ক্ষমতা আছে আদালত দেখছেন।’’
advertisement
এসআইআর প্রক্রিয়ায় সবথেকে বেশি নাম বাদ পড়েছে মুর্শিদাবাদে৷ এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘এটা তো স্বাভাবিক আছে। আমরা সবাই জানি সবথেকে বেশি উৎপাত বেশি মুর্শিদাবাদে। দেশের বিরুদ্ধে সমস্ত ক্রিয়া-কলাপ হিন্দু বিরোধী, সমাজ বিরোধী কাজকর্ম সব থেকে বেশি মুর্শিদাবাদে। তিন তিন দিন ধরে আগুন লেগেছে সরকারি সম্পত্তির সঙ্গে হিন্দুদের সম্পত্তি নষ্ট হয়েছে। ট্রেন বাস স্টেশন। কেন বারবার হবে এসব! আমরা দেখছি কিছু একটা হলেই মমতা ব্যানার্জি যা বলবেন সেটা নিয়ে লেগে পড়ে সংবিধান কোর্টকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। সারা দুনিয়ার যারা উগ্রপন্থী ওখানেই সেল্টার নেয়। আধার কার্ড সব থেকে বেশি ওখানে তৈরি হয়। ওখান থেকে আধার কার্ড বানিয়ে সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ধরা পড়েছে। দেশবিরোধী গতিবিধি রয়েছে তারা মুর্শিদাবাদ থেকেই আধার কার্ড বানিয়েছে।’’
advertisement
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট নোটিশ খারিজ প্রসঙ্গে দিলীপের মত, ‘‘এত হবারই ছিল। যত মাটি থেকে পা উঠে যাচ্ছে তত এইসব উৎপাত বাড়ছে। দেখুন চিৎকার চেঁচামেচি কেন হচ্ছে? আগে তো এসব করতে হয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ২৯৪ আসনে তিনি লড়ছেন বলতেন জিতে জেতেন। আজকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে নির্বাচন কমিশন এবং আদালতের বিরুদ্ধে যেভাবে উনি বিষোদগার করছেন। মমতা ব্যানার্জি আসলে বলছেন আমি ভয় পাইনি কিন্তু ভয় পেয়েছেন বলেই এসব বলছেন।’’
advertisement
পাকিস্তানের মন্ত্রীর কলকাতা আক্রমণের মন্তব্যে প্রধানমন্ত্রী চুপ কেন? এ প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রের সরকারকে আক্রমণ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এ প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী কি করবেন না করবেন মুখ্যমন্ত্রী বলে দেবেন! আর কদিন আছেন উনি? নিজের পার্টিটা দেখুন, দেশ দেখার জন্য নরেন্দ্র মোদী একাই যথেষ্ট! দেখছেন ও। পাকিস্তানকে আজকে ভিখারী বানিয়ে দিয়েছেন। মোদীজি ডায়লগ দিয়েছিলেন, এইসা কার দেঙ্গে কাটোরা লিখে ঘুম না পারেগা। খালি কটরাই থাকছে খালি হাতে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে। খাবারদাবার পেট্রোল ডিজেল কিচ্ছু নেই। বাচ্চাদের পড়াশোনা করানো নির্বাচন করানোর পয়সা নেই। এর চেয়ে খারাপ অবস্থা আর কি হতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেসের এর চেয়েও খারাপ অবস্থা হবে সেদিকটা দেখুন।’’
advertisement
মঙ্গলবার থেকে টলিপাড়ায় সমস্ত শুটিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর প্রতিবাদে এবং শিল্পীদের নিরাপত্তার দাবিতে আর্টিস্ট ফোরাম ও ফেডারেশন যৌথভাবে এই কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে৷ এ প্রসঙ্গে দিলীপ ফের আক্রমণ করলেন তৃণমূলকে৷ তিনি বলেন, ‘‘এখন ১৫ বছর ধরে টালিগঞ্জে যা চলছে, সিনেমা বাদ দিয়ে বাকি সব হচ্ছে। পার্টির ঝান্ডা না ধরলে সে কাজ পাবে না চাকরি পাবে না। যে অভিনেতাকে নিয়ে এখন সব চোখের জল দেখাচ্ছেন গত এক বছর ধরে তাকে কোন কাজ দেওয়া হত না। তার জন্য কে দাঁড়িয়েছে? এরকম বহু প্রতিভাবান অভিনেতা আছেন, তারা শুকিয়ে যাচ্ছেন অবহেলার জন্য। যদি ফিল্ম কে রাখতে হয়, যদি ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে হয় তাহলে এই মাফিয়াদেরকে দূর করে পরিবর্তন আনতে হবে। আর সেটা মে মাসেই হয়ে যাবে।’’
‘‘বহু জায়গায় নমিনেশনকে কেন্দ্র করে টিএমসি গন্ডগোল করছে। নমিনেশন করতে দিচ্ছে না। ২০১৮ সাল থেকে আমরা দেখছি পঞ্চায়েত নির্বাচনে নমিনেশন দেওয়া হয়নি আটকে রাখা হতো। মারপিট করা হতো আটকে রাখা হতো। পৌরসভা ইলেকশন পঞ্চায়েত ইলেকশনে যা দেখেছি, এখন সেটা বিধানসভা ইলেকশনে চলে গেছে। হারার ভয়ে হিংস্র হয়ে এসব করছেন, সারা ভারতবর্ষে আমাদের মুখ পুড়ে যাচ্ছে’’, টালিগঞ্জ বিধানসভায় বিজেপি আক্রান্ত হওয়ার প্রসঙ্গে
বলেন দিলীপ৷
এসআইআর-এ লক্ষ লক্ষ নাম বাদ পড়া প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, ‘‘আমরা বলেছিলাম ১ কোটির বেশি লোকের নাম বাদ যাবে। আর হিসাবটা সেদিকেই যাচ্ছে। কারণ চোখের সামনে জলের মতো পরিষ্কার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন ১ কোটি ২০ লক্ষ লোকের নাম বাদ যাবে ;উনি কি করে জানলেন? ঢুকিয়েছে কে? হিসাব করে করা হয়েছে। আধার কার্ড ভোটার কার্ড যেখানে পাওয়া যায় সেখানে এর গুরুত্ব আছে! যেখানে যেখানে দেশবিরোধী কাজের সংখ্যা বেশি সেই জেলাগুলিতে মুর্শিদাবাদ মালদা সেখানেই বেশি নাম বাদ যাচ্ছে। কলকাতার কিছু বিশেষ জায়গা। আর সেই ভোটেই এতদিন তৃণমূল কংগ্রেস জিতে এসেছে।
ভোটার তালিকা ফ্রিজ! ট্রাইব্যুনালে নাম উঠলে কি হবে? প্রথম দফার ভোটে? উত্তরে দিলীপ জানালেন, ‘‘দেখুন নির্বাচন কমিশন এবং আদালত ঠিক করে দিয়েছে সেই রাস্তাতেই সমাধান হবে। তো দেখা যাক তাদের উপর ভরসা রাখতে হবে।’’
বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি এবার ১৭৭ আসনে জিতে ক্ষমতায় ফিরবে বিজেপি৷ দিলীপের দাবি কত? তিনি বলেন, ‘‘চার তারিখের পর দেখা যাবে কে শূন্য? শূন্য কলসির আওয়াজ বেশি! অনেকেই ডাক দিয়েছিলেন! তার ছোট ভাই কেজরিওয়াল এখন কোথায় তিনি?’’
মুর্শিদাবাদ বাইশ-শূন্য করার ডাক অভিষেকের। এ প্রসঙ্গে দিলীপ বলেন, ‘‘দেখুন পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে আর ওনার পিসিমণি যেভাবে উল্টোপাল্টা বলছেন তাতে তো আমার উল্টোটা মনে হচ্ছে৷’’
Location :
Kolkata,West Bengal
First Published :
Apr 07, 2026 9:27 AM IST










