কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম ভাঙায় পুলিশের ধরপাকড়, পরে জানা গেল কিডন্যাপড হয়েছিলেন ব্যক্তি!

কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম ভাঙায় পুলিশের ধরপাকড়, পরে জানা গেল কিডন্যাপড হয়েছিলেন ব্যক্তি!
চেন (Chen) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার পর জানা যায়, তিনি নিজে কোয়ারেন্টাইন ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসেননি। একদল ঋণ সংগ্রহকারী তাঁকে তুলে নিয়ে এসেছে।

চেন (Chen) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার পর জানা যায়, তিনি নিজে কোয়ারেন্টাইন ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসেননি। একদল ঋণ সংগ্রহকারী তাঁকে তুলে নিয়ে এসেছে।

  • Share this:

#তাইওয়ান কোয়ারেন্টাইনে থাকাকালীন নিয়ম ভেঙে বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন। আর তার জেরেই জরিমানা করা হয় ব্যক্তিকে। গ্রেফতার পর্যন্তও করা হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু আসল ঘটনা জানতে পেরে অবাক হলেন পুলিশ-প্রশাসনের কর্তা-ব্যক্তিরা। ওই ব্যক্তির জরিমানাও মাফ করে দেওয়া হয়। কী এমন ঘটেছিল? এ বার আসল গল্পটা জেনে নেওয়া যাক!

চেন (Chen) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করার পর জানা যায়, তিনি নিজে কোয়ারেন্টাইন ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসেননি। একদল ঋণ সংগ্রহকারী তাঁকে তুলে নিয়ে এসেছে। আসলে বন্ধুর বাড়িতে ১৪ দিনের জন্য কোয়ারেন্টাইনে থাকার প্ল্যান করেছিলেন চেন। যেমন ভাবা, সেই মতো কাজ, বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে ওঠেন ওই ব্যক্তি। সব কিছুই ঠিকঠাক চলছিল। এমন সময়ে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি পৌঁছায় তাঁর বন্ধুর বাড়িতে। তাঁর বন্ধুর জায়গায় ভুল করে তাঁকেই তুলে নিয়ে যায়। পরে চেনকে নিজের বাড়ি নিয়ে যায় ওই দুষ্কৃতীরা। তাঁকে মারধর করে টাকা আদায় করার চেষ্টাও করে। তার পর আবার ওই বন্ধুর বাড়ি ফিরে আসে। ঘটনাটি পুলিশের কানে যেতেই চেনকে গ্রেফতার করা হয়।

অপরাধ অনুযায়ী ১,০০,০০০ NTD পর্যন্ত জরিমানা করা হয় চেনকে। তবে চেনের বক্তব্য শোনার পর ও যাবতীয় ঘটনার তদন্ত করার পর সেই জরিমানা অবশ্য প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। চেন জানান, তাঁর অনিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তাঁকে জোর করে কোয়ারেন্টাইন ভাঙতে বাধ্য করা হয়। এই বিষয়ে তাইওয়ানের অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ এনফোর্স এজেন্সির ছাঙ্গুয়া (Changhua) ব্রাঞ্চের মুখপাত্র হু টিয়াংসি (Hu Tianci) জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইন ভাঙেননি। তাঁকে জোর করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, তাঁকে শাস্তি দেওয়া যায় না।


বলা বাহুল্য, কোয়ারেন্টাইন নিয়ে বেশ কড়া তাইওয়ান প্রশাসন। কোয়ারান্টিন চলাকালীন ফোন সিগন্যালের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক মনিটরিংও চলে মানুষজনের উপরে। যদি কেউ নিয়ম ভাঙেন, তা হলে সর্বোচ্চ ৩,০০,০০০ NTD পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। তবে পুলিশের লোকজন কী ভাবে ওই ব্যক্তির কথা জানতে পেরেছিলেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

প্রসঙ্গত, গত বছর ডিসেম্বর মাসে এক পাইলটকে সর্বাধিক অর্থাৎ ৩,০০,০০০ NTD জরিমানা করা হয়েছিল। তাইওয়ান ও আমেরিকার মধ্যে বিমান চালাতেন তিনি। তাইওয়ানের প্রথম কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের জন্য দায়ী ছিলেন তিনি। এ বিষয়ে সে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী চেন শি-চুং (Chen Shih-chung) জানিয়েছেন, এক করোনা-আক্রান্ত মহিলা ওই পাইলটের সংস্পর্শে এসেছিলেন। করোনা আক্রান্তের সংস্পর্শে এসেও নিউজিল্যান্ডের বাসিন্দা ওই পাইলট বিষয়টি চেপে যান। সরাসরি প্রশাসনকে জানাতে চাননি। এর জেরে বহু মানুষ এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েন।

Published by:Piya Banerjee
First published: