corona virus btn
corona virus btn
Loading

করোনা থমকে দিয়েছে জীবন ! চোখে শুধু মৃত্যু ভয় ! ফ্লোরিডা থেকে লিখছেন ঋতুপর্ণা খাঁ !

করোনা থমকে দিয়েছে জীবন ! চোখে শুধু মৃত্যু ভয় ! ফ্লোরিডা থেকে লিখছেন ঋতুপর্ণা খাঁ !

এখানকার মানুষ খুব সেজে গুজে হাতে ময়ালার ব্যাগ নিয়ে আর্বজনা ফেলতে যাচ্ছে।

  • Share this:

#ফ্লোরিডা: অন্য দেশের মতো ফ্লোরিডাতেও লকডাউন হল অনেক দেরিতে। ততদিনে ৫০০০ করোনা আক্রান্ত সরকারি ভাবে রেজিস্ট্রার হয়ে গিয়েছিল। ট্যুরিস্ট স্পট যেমন মিয়ামি খুব বাজে ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। সব থেকে ক্ষতিগ্রস্থ এখানকার ব্রোওর্য়াড কান্ট্রি। সেখানেই সব থেকে মানুষ করোনায় মারা গিয়েছেন। মিয়ামিতেও বাড়বে মৃত্যুর সংখ্যা কারণ এখানে সব থেকে বেশি বয়স্ক মানুষ থাকেন। তবে লকডাউন দেরিতে হলেও বাড়িতে আছি ১ মাসের ওপর। বাইরে বেরোনো মানে ব্যালকোনিতে বসে সন্ধে বেলা চা খাওয়া । আর সপ্তাহ শেষে একদিন যেখানে জমানো নোংরা ফেলা হয় সেখানে আর্বজনা ফেলতে যাওয়া। এখানে ট্র্যাশ ক্যানগুলো বেশ দূরে দূরে। যেতে পাঁচ মিনিট মতো সময় লাগে। ওইটুকু নোংরা ফেলতে যাওয়ার অনুমতি আছে। যখন এক সপ্তাহ পর প্রথম আর্বজনা ফেলতে বাইরে বেরোলাম মনে হল যেন ছাড়া পেয়েছি জেল থেকে। কিন্তু এখন সেটাও অভ্যেস হয়ে গেছে। খবরে দেখলাম এখানকার মানুষ খুব সেজে গুজে হাতে ময়ালার ব্যাগ নিয়ে আর্বজনা ফেলতে যাচ্ছে। কারণ ওইটুকুই যা বাড়ি থেকে বেরোনোর স্বাধীনতা!

আমি যে খুব ছোট্ট একটা শহরে থাকি। এখানে এখনও করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কম। তাই এখনো কিছু অনলাইন ডেলিভারি হচ্ছে। সবজিটা অনলাইনেই কিনতে হচ্ছে ! বাইরে থেকে বাজার বা অন্য কিছু এলে আগে সেটাকে ডিসিনফেকটেড স্প্রে দিয়ে স্যানিটাইজ করে নিচ্ছি। বাইরে থেকে এলে দরজার যেখানে হাত লেগেছে সব জায়গা স্যানিটাইজ করছি। আমরা কয়েকজন রুমমেটস এক সঙ্গে থাকি। এই সময়টায় রান্না করে এক সঙ্গে খাচ্ছি। ভিডিওকলে বাড়িতে কথা বলছি। সবার জন্য খুব চিন্তা হচ্ছে। কবে এই খারাপ সময় কাটবে ! আমার আবার আগের মতো জীবন কাটাতে পারবো জানি না। সব কিছু কেমন যেন থমকে গেছে। তবে এখানে যারা চাকরি করেন তারা বাড়িতে বসেই কাজ করছেন। আমি পড়াশুনোর পাশাপাশি বাড়িতেই স্কাইপ খুলে কাজের মিটিংগুলো সেরে ফেলছি। আমাদের ইউনিভার্সিটিতে বেশ কিছুদিন পর্যন্ত রিসার্চ ল্যাব খোলা ছিল। কিন্তু এখন সব বন্ধ। পড়ুয়াদের পড়াশুনোতে কিছুটা অন্য পদ্ধতি মানা হচ্ছে। তবে বাড়িতে আটকে থাকতে হচ্ছে। মনের মধ্যে ভয় কাজ করে কখন সব ঠিক হবে। যে রাস্তায় এক সময় মানুষের হাসি মুখ দেখা যেত ! আজ সেখানেই সকলের চোখে মুখে মৃত্যু ভয়। জীবনটাই বদলে গেছে।

Published by: Piya Banerjee
First published: April 15, 2020, 10:19 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर