Mehul Choksi: মেহুলকে ছাড়াতে ডমিনিকার বিরোধী নেতাকে ঘুষ দিয়েছেন তাঁর ভাই ! খবর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে

ডমিনিকার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৯ মে ডমিনিকায় পৌঁছে গিয়েছেন মেহুলের ভাই চেতন চিনুভাই চোকসিও ৷

ডমিনিকার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৯ মে ডমিনিকায় পৌঁছে গিয়েছেন মেহুলের ভাই চেতন চিনুভাই চোকসিও ৷

  • Share this:

    রসিউ, ডমিনিকা: ডমিনিকা থেকে মেহুল চোকসিকে দেশে ফেরানোর সুযোগ হাতছাড়া করতে নারাজ কেন্দ্রীয় সরকার ৷ ইতিমধ্যেই ডমিনিকা পৌঁছে গিয়েছে বিদেশমন্ত্রক, ইডি, সিবিআই এবং সিআরপিএফ-এর সদস্যদের নিয়ে গঠিত মোট ৮ জনের একটি বিশেষ দল ৷ সেই দলের অন্যতম সদস্য হলেন মুম্বইয়ে সিবিআইয়ের ব্যাঙ্কিং প্রতারণা শাখার প্রধান ও ডিআইজি পদমর্যাদার অফিসার সারদা রাউত ৷

    তবে ডমিনিকার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ২৯ মে ডমিনিকায় পৌঁছে গিয়েছেন মেহুলের ভাই চেতন চিনুভাই চোকসিও ৷ তিনি নাকি ডমিনিকার বিরোধী নেতার সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভাইকে জেল থেকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করছেন ৷ এর জন্য সে দেশের বিরোধী নেতা লেনক্স লিন্টনের বাসভবনে প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে আলোচনাও হয় মেহুলের ভাইয়ের ৷ মেহুলকে ছাড়ানোর জন্য ঘুষ পর্যন্ত লেনক্সকে অফার করেছেন মেহুলের ভাই চেতন ৷ এমনটাই খবর সে দেশের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ৷

    অ্যান্টিগা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পরে ডমিনিকায় খোঁজ মেলে মেহুলের ৷ বেআইনি ভাবে সে দেশে প্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতার হন তিনি ৷ মেহুলের আইনজীবীদের দাবি, তাঁদের মক্কেলকে ‘ভারতীয় পুলিশকর্মী’-দের মতো দেখতে কয়েকজন অপহরণ করে ডমিনিকায় নিয়ে গিয়েছেন ৷ এবং তাঁকে ফাঁদে ফেলতে ডমিনিকাবাসী একজন মহিলার সাহায্য নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করন তাঁরা ৷

    পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের ১৩ হাজার কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ রয়েছে মেহুলের বিরুদ্ধে। তাঁকে ভারতে পাঠানোর উপরে স্থগিতাদেশ দিয়েছে দ্বীপরাষ্ট্র ডমিনিকার হাই কোর্ট। পুলিশকে আদালত বলেছে, মেহুলের সঙ্গে তাঁর আইনজীবীদের যোগাযোগ করতে দিতে হবে।

    চোকসি কাণ্ড নিয়ে ডমিনিকাতেও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর ৷ সে দেশের বিরোধী নেতা লেনক্স লিন্টনের মতে, প্রধানমন্ত্রী রুজভেন্ট স্কেরিটের জমানায় যে ডমিনিকায় আইনের শাসন বলে কিছু নেই তা এই ঘটনা থেকেই বোঝা যাচ্ছে ৷

    গত ২৮ মে ডমিনিকা পৌঁছে গিয়েছে ভারত থেকে যাওয়া বিশেষ দলটি৷ জানা গিয়েছে, ডমিনিকার আদালতে ইডি প্রথমে প্রমাণ করার চেষ্টা করবে যে মেহুল চোকসি একজন ভারতীয় নাগরিক৷ তার বিরুদ্ধে কী কী গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, তাও আদালতকে জানানো হবে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে৷

    কয়েকদিন আগেই অ্যান্টিগা থেকে ডমিনিকা পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে চোকসির বিরুদ্ধে৷ এর পর দ্বীপরাষ্ট্রের পুলিশের হাতেই ধরা পড়ে যান পলাতক হিরে ব্যবসায়ী৷ এর পর থেকেই চোকসিকে দেশে ফেরাতে তৎপর হয় দিল্লি৷ কাতার থেকে আসা একটি চার্টার্ড বিমানে করে ডমিনিকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় আট সদস্যের বিশেষ এই দলটি ৷ বিদেশমন্ত্রক, ইডি, সিবিআই-এর দু'জন করে আধিকারিক ছাড়াও সিআরপিএফ-এর দুই কম্যান্ডোকে ডমিনিকায় পাঠানো হয়েছে ৷ কেন্দ্রীয় সরকারি সূত্রের দাবি, টেকনিক্যাল কারণেই অন্য একটি দেশের বিমান ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারত সরকারের শীর্ষ আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, চোকসিকে দেশে ফেরানোর জন্য সবার প্রথমে তিনি যে ভারতীয় নাগরিক তা প্রমাণ করতে হবে৷ পাশাপাশি চোকসির বিরুদ্ধে চলা সমস্ত মামলার কাগজপত্রও সঙ্গে নিয়ে গিয়েছেন ওই বিশেষ দলে থাকা আধিকারিকরা৷ ভবিষ্যতে যদি ভারতকেও এই মামলায় ডমিনিকার আদালত অন্তর্ভুক্ত করতে চায়, তার জন্যও প্রয়োজনীয় সমস্ত তথ্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷ ডমিনিকায় গ্রেফতার হওয়ার পর তাঁর উপর অত্যাচার হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চোকসি৷ চোখের তলায় কালশিটে পড়া অবস্থায় জেলে থাকার চোকসির একটি ছবিও সামনে আসে৷ যদিও ভারত সরকারের ওই শীর্ষ আধিকারিকের দাবি, চোকসি কৌশলে বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের দিকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন৷ যদিও তাঁর এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি ভারত সরকারের৷

    ইতিমধ্যেই অ্যান্টিগা এবং বারবুডার প্রধানমন্ত্রী গ্যাস্টন ব্রাউন স্বীকার করে নিয়েছেন, ডমিনিকায় ভারত থেকে একটি চাটার্ড বিমান পৌঁছেছে৷ চোকসিকে দেশে ফেরাতে ভারত সরকারও যে সর্বাত্মক চেষ্টা শুরু করেছে, তাও স্বীকার করে নিয়েছেন অ্যান্টিগার প্রধানমন্ত্রী৷

    এনডিটিভি-র একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সবকিছু পরিকল্পনা মাফিক এগোলে এই চাটার্ড বিমানেই চোকসিকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হবে৷ আর ভারতে পা দেওয়া মাত্র তাঁকে গ্রেফতার করা হবে৷ যদিও এসবই অনেক যদি এবং কিন্তুর উপরে নির্ভর করছে ৷ ভারত সরকার সূত্রে জানা গিয়েছে, ডমিনিকা হয়ে কিউবায় গা ঢাকা দেওয়ার সময়ই ধরা পড়ে যান ৬২ বছরের চোকসি৷ যদিও ডমিনিকার আদালতে তাঁর আইনজীবী বিষয়টি সম্পূর্ণ অন্যরকম ভাবে উপস্থাপন করছেন৷ চোকসির আইনজীবীর দাবি, চোকসি এখন আর ভারতীয় নাগরিক নন৷ ফলে তাঁকে ভারতে প্রত্যার্পণের প্রশ্নও ওঠে না৷ শুধু তাই নয়, চোকসিকে জোর করে ডমিনিকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি৷ যে অভিযোগকে কেন্দ্র করে ডমিনিকায় যথেষ্ট শোরগোল শুরু হয়েছে৷

    Published by:Siddhartha Sarkar
    First published: