‘এই আমেরিকার গল্পে কোনও অন্ধকার নয়, থাকবে শুধু আলো’, শপথ নিয়ে বললেন জো বাইডেন

‘এই আমেরিকার গল্পে কোনও অন্ধকার নয়, থাকবে শুধু আলো’, শপথ নিয়ে বললেন জো বাইডেন

শপথ নিয়ে তিনি বললেন, কোনও বিশেষ সম্প্রদায় বা বর্ণের নন, সমগ্র আমেরিকার রাষ্ট্রপতি তিনি ।

শপথ নিয়ে তিনি বললেন, কোনও বিশেষ সম্প্রদায় বা বর্ণের নন, সমগ্র আমেরিকার রাষ্ট্রপতি তিনি ।

  • Share this:

    #ওয়াশিংটন: অনেক রক্তক্ষয়, অনেক প্রতিবাদ, মিছিল, হিংসা, সংগ্রামের পর অবশেষে তিনি এলেন এবং মুহূর্তে জয় করে নিলেন আমেরিকাবাসীর হৃদয় । তাঁর হৃদয়স্পর্শী বক্তব্যে তখন আলপিন পড়ার নিস্তব্ধতা ক্যাপিটালে । গত ৬ জানুয়ারি এই ক্যাপিটাল হলই কেঁপে উঠেছিল হিংসা আর রক্তপাতে । ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার প্রতিবাদে গোটা বিশ্ব ধিক্কার জানিয়েছিল । অবশেষে সমস্ত ‘অন্ধকার’ কাটিয়ে ৪৬তম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিলেন ডেমোক্র্যাট জো বাইডেন । ৭৮ বছর বয়সে সবচেয়ে বয়ষ্ক প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিলেন বাইডেন । ৩৫ শব্দের শপথবাক্য পাঠ করতে গিয়ে ধরে রাখতে পারেননি চোখের জল । আর এ দিন প্রথম মহিলা ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ গ্রহণ করলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত কমলা হ্যারিস । আরও একবার যা চাক্ষুস করে গর্বে বুক ফুলে উঠল ভারতবাসীর।

    বুধবার ক্যাপিটলে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল সাজ সাজ রব। গোটা ওয়াশিংটন ছিল নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার ঘেরাটোপে। বাইডেনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যেন চাঁদের হাট বসেছিল। অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন আমেরিকার প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও তাঁর স্ত্রী মিশেল ওবামা। ছিলেন আরও এক প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন এবং তাঁর স্ত্রী হিলারি ক্লিন্টন-সহ আমেরিকার তাবড় তাবড় সব ব্যক্তিত্ব। লেডি গাগা-র গলায় আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে শুরু হয় শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান । প্রথমে শপথ নেন কমলা হ্যারিস । তাঁকে শপথ গ্রহণ করান আমেরিকার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সনিয়া সোতোমেয়র। গোটা হল ঘর ফেটে পড়ে হাততালি আর উচ্ছ্বাসে । এরপর পোডিয়ামে আসেন জো বাইডেন । তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি জন রবার্টস। সঙ্গে ছিল জেনিফার লোপেজের গান ‘আমেরিকা দ্য বিউটিফুল’ ।

    শপথ নিয়ে মার্কিনীদের উদ্দেশে অন্য এক আমেরিকা গড়ার ডাক দিলেন জো । যেখানে সাবই মিলে আশা, ঐক্য দিয়ে নতুন যুক্তরাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে । গত চার বছরে ট্রাম্প জমানায় আমেরিকায় বারবার কৃষ্ণাঙ্গ আন্দোলন তীব্র হয়েছে । বর্ণগত মেরুকরণ তীব্রতর হয়ে উঠেছিল । বহু দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ফাটল ধরেছিল । সে সব ক্ষতে যেন প্রলেপ দিল বাইডেনের শপথ । তিনি বললেন, কোনও বিশেষ সম্প্রদায় বা বর্ণের নন, সমগ্র আমেরিকার রাষ্ট্রপতি তিনি ।

    আসলে প্রথম থেকেই কমলা হ্যারিসকে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদে দাঁড় করিয়ে ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার্স’ আন্দোলনের জল নিজের দিকে টানতে চেয়েছিলেন বাইডেন । ফলও পেয়েছেন হাতেনাতে । কৃষ্ণাঙ্গ ভোট তাঁর ঝুলিতে উপচে পড়েছে । তাই এখন আমেরিকাকে ফের বর্ণ নিরপেক্ষভাবে চালনা করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য ।

    Published by:Simli Raha
    First published:

    লেটেস্ট খবর