Home /News /international /
Explained: ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক কী? এই বাণিজ্য উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা কোথায়?

Explained: ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক কী? এই বাণিজ্য উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা কোথায়?

ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক

ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক

Indo Pacific Economic Framework: ২০২১ সালের অক্টোবরে পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনে প্রথম আইপিইএফ-এর (IPEF) কথা উল্লেখ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (Joe Biden) জাপানের টোকিও (Tokyo) সফরে গিয়ে নতুন একটি এশিয়া-প্যাসিফিক বাণিজ্য উদ্যোগ (Asia-Pacific Trade Initiative) চালু করেছেন, ভারত (India) ও জাপান (Japan) সহ ১৩টি দেশ তাতে যোগ দিয়েছে। যদিও চুক্তিটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। বাইডেন তাঁর জাপান সফরের দ্বিতীয় দিনে ইন্দো-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফ্রেমওয়ার্ক ফর প্রসপ্রিটি বা আইপিইএফ-এর (Indo-Pacific Economic Framework) সূচনা করেছেন। গত মঙ্গলবার কোয়াড সামিটে (Quad Summit) যোগদানের আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার (Fumio Kishida) সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনাও করছেন। তিনি বলেছেন, "এই কাঠামোটি এই অঞ্চলে আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং অংশীদারদের সঙ্গে একবিংশ শতাব্দীতে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জগুলির বিষয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি।"

আইপিইএফ কী? ২০২১ সালের অক্টোবরে পূর্ব এশিয়া শীর্ষ সম্মেলনে প্রথম আইপিইএফ-এর (IPEF)কথা উল্লেখ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেই সময় তিনি বলেছিলেন, "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি ইন্দো-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরির বিষয়ে অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করবে। যা বাণিজ্য সুবিধা, ডিজিটাল অর্থনীতি (Digital Economy) এবং প্রযুক্তির মান, সাপ্লাই চেন (Supply Chain), ডিকার্বনাইজেশন (Decarbonization) এবং ক্লিন এনার্জি (Clean Energy), অবকাঠামো, কর্মীদের মান এবং অন্যান্য বিষয়ে আমাদের শেয়ার করা উদ্দেশ্যগুলিকে সংজ্ঞায়িত করবে।"

আরও পড়ুন: ৯৯ শতাংশ মানুষই উত্তর খুঁজতে গিয়ে ডাহা ফেল! দেখুন তো আপনি পাশ করেন কিনা...

প্রথাগত বাণিজ্য ব্লকের বিপরীতে আইপিইএফ সদস্যদের শুল্ক নিয়ে আলোচনা এবং বাজারে প্রবেশের রাস্তা সহজ করার কোনও পরিকল্পনা নেই। যদিও মুক্ত বাণিজ্য বা শুল্ক হ্রাস মার্কিন ভোটারদের কাছে ক্রমবর্ধমানভাবে অপ্রিয় হয়ে উঠেছে, যারা মনে করছে দেশের উৎপাদনকে অবমূল্যায়ন করা ঠিক নয়। আইপিইএফ চারটি বিষয়ে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সেগুলি হল- ডিজিটাল অর্থনীতি, সাপ্লাই চেন, পরিচ্ছন্ন শক্তি পরিকাঠামো এবং দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও সদস্য দেশগুলির তালিকায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া (Australia), ব্রুনাই (Brunei), ভারত, ইন্দোনেশিয়া (Indonesia), জাপান, মালয়েশিয়া (Malaysia), নিউজিল্যান্ড (New Zealand), ফিলিপাইন (Philippines), সিঙ্গাপুর (Singapore), দক্ষিণ কোরিয়া (South Korea), থাইল্যান্ড (Thailand) এবং ভিয়েতনাম (Vietnam)। দেশগুলি আইপিইএফ-কে একটি কাঠামো হিসাবে মন করছে, যা শেষ পর্যন্ত এই দেশগুলির একটি শক্ত পোক্ত গ্রুপে পরিণত হবে। দেশগুলি একটি যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, "আমরা একটি মুক্ত, উন্মুক্ত, ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক, আন্তঃসংযুক্ত, স্থিতিস্থাপক, নিরাপদ এবং সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"

জোট পুনর্গঠন কীভাবে হল? বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান (Jake Sullivan) সাংবাদিকদের বলেছেন, "অংশগ্রহণকারী দেশগুলি বৈশ্বিক জিডিপি (GDP)-র প্রায় ৪০ শতাংশের জন্য দায়ী এবং এছাড়াও অন্যান্য দেশ আছে, যারা আমাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারে।" ২০২১ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে বসার পর থেকে পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সময়কালে দুর্বল হয়ে পড়া কৌশলগত সামরিক এবং বাণিজ্য জোটগুলিকে দ্রুত পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন জো বাইডেন। এশিয়া-প্যাসিফিক জুড়ে চিনের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক উপস্থিতির পাল্টা হিসেবেই আইপিইএফ-কে দেখা হচ্ছে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের একটি বিকল্প রাস্তা দেখাবে।

ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (Trans-Pacific Partnership) থেকে ২০১৭ সালে সরে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই শুল্ক-ভিত্তিক এশিয়া বাণিজ্য চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের এখন কোনও রাজনৈতিক ইচ্ছা নেই। এই বিশাল বাণিজ্য ব্লকটি ২০১৮ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়াই একটি নতুন নামে পুনরুজ্জীবিত হয়েছিল। টিপিপি সদস্যদেশগুলির বাণিজ্য বাধা কম করে। মার্কিন বাণিজ্য সচিব জিনা রাইমন্ডো জোর দিয়েছিলেন যে আইপিইএফ একই পথে যাওয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়নি। তিনি বলেছিলেন, "এই ফ্রেমওয়ার্কটি ইচ্ছাকৃতভাবে পুরনো ঐতিহ্যগত বাণিজ্য চুক্তি না হওয়ার জন্যই ডিজাইন করা হয়েছে।" যদিও জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেছেন যে ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপে আবারও যোগ দেওয়ার জন্য আগ্রহ রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। তিনি জানান, জাপান নতুন কাঠামোকে স্বাগত জানায়। এতে অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা করবে। কিন্তু কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে জাপান আশা করে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র টিপিপিতে ফিরে আসবে।"

তাইওয়ানের অনুপস্থিতি কেন? আইপিইএফ-এর সমালোচনা করেছে চিন, তারা এটিকে একটি ব্যক্তিগত ক্লাব তৈরির প্রচেষ্টা হিসাবে উল্লেখ করেছে। যদিও জো বাইডেনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভান চিনের দাবিকে খারিজ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, "এটি নকশা এবং সংজ্ঞা অনুসারে একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম। স্ব-শাসিত গণতন্ত্র তাইওয়ানের (Taiwan) উপর সার্বভৌমত্ব দাবি করে চিন। মাইক্রোচিপ সরবরাহ চেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও তাইওয়ানকে আইপিইএফ-তে রাখা হয়নি। যদিও সুলিভান বলেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর করতে চাইছে, সেমিকন্ডাক্টর এবং সাপ্লাই চেন সহ উচ্চ-প্রযুক্তির বিষয় আলোচনায় রয়েছে। সব কিছু ঘটবে দ্বি-পাক্ষিক স্তরে।

Published by:Sanjukta Sarkar
First published:

Tags: Business, Foreign Investment

পরবর্তী খবর