স্যানিটারি প্যাড থেকে তোয়ালে, পড়ুয়াদের জন্য বিনামূল্যে Menstrual প্রোডাক্ট !

স্যানিটারি প্যাড থেকে তোয়ালে, পড়ুয়াদের জন্য বিনামূল্যে Menstrual প্রোডাক্ট !

এবার থেকে স্কুল, কলেজ বা অন্যান্য কোনও পড়ুয়াকে নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে ঋতুস্রাবে ব্যবহৃত জিনিস কিনতে হবে না।

এবার থেকে স্কুল, কলেজ বা অন্যান্য কোনও পড়ুয়াকে নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে ঋতুস্রাবে ব্যবহৃত জিনিস কিনতে হবে না।

  • Share this:

#প্যারিস: মেনস্ট্রুয়াল হাইজিনের কথা মাথায় রেখে বড়সড় ঘোষণা করল ফ্রান্স। এবার থেকে স্কুল, কলেজ বা অন্যান্য কোনও পড়ুয়াকে নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে ঋতুস্রাবে ব্যবহৃত জিনিস কিনতে হবে না। অর্থাৎ এবার থেকে ঋতুস্রাবে ব্যবহৃত সমস্ত জিনিস বিনামূল্যে পাবে এখানকার পড়ুয়ারা। এই সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে পিরিয়ড পভার্টি মেটানোর দিকে এক পদক্ষেপ এগোনো হল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ফ্রান্সের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী ফ্রেডেরিক ভিদাল (Frederique Vidal) জানিয়েছেন, ট্যাম্পন, স্যানিটারি প্যাড-এর ভেন্ডিং মেশিন থাকবে সমস্ত পডুয়াদের হস্টেলে। যারা হস্টেলে থাকে না, এই সমস্ত জিনিস বিনামূল্যে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এর সঙ্গে স্যানিটারি টাওয়েল বা অন্যান্য মেনস্ট্রুয়াল জিনিসও বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।

তিনি আরও বলেন, এই পুরো বিষয়টি বাস্তবায়িত করতে সামান্য সময় লাগবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশের প্রায় সমস্ত জায়গায় বিনামূল্যে এই পরিষেবা উপলব্ধ হবে। এবার জেনে নেওয়া যাক কী এই পিরিয়ড পভার্টি-

পরিষ্কার জল, স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও স্যানিটারি জিনিসের অভাব, সঙ্গে মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন নিয়ে সচেতনতার অভাব হল পিরিয়ড পভার্টি। এই দারিদ্র্য বা পভার্টি সাধারণত আর্থিক ভাবে দুর্বল এলাকায় দেখতে পাওয়া যায়। শুধু মহিলাদের জন্য নয়, এই দারিদ্র্য কিন্তু পুরুষদের জন্যও ক্ষতিকর। অর্থাৎ তাদের স্বাস্থ্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও এই বিষয়টি ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের নজরে এসেছে। যাকে তারা বিশ্ব জনস্বাস্থ্য এবং মানবাধিকার ইস্যু হিসেবে গণ্য করছে। তাদের তথ্য বলছে, বিশ্বে সব চেয়ে বেশি এই সমস্যায় ভোগেন এশিয়া মহাদেশের মহিলারা।

UNICEF-এর রিপোর্ট বলছে, এখনও বহু মহিলা ঋতুস্রাব সম্পর্কে সম্যক ভাবে অনেক কিছুই জানে না। অনেকেই স্কুলে যায় না এই সময়ে মেনস্ট্রুয়াল প্রোডাক্টের অভাবে।

এই যদি পরিস্থিতি হয়, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এতে ফ্রান্সের এই সিদ্ধান্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে।

তবে, শুধু ফ্রান্সই নয়, এমন পদক্ষেপ এর আগেও অনেক দেশ নিয়েছে। যেমন নিউজিল্যান্ড প্রথম দেশ, যারা গত বছর থেকে মহিলাদের জন্য স্যানিটারি প্রোডাক্ট বিনামূল্যে দেওয়া শুরু করেছে। পাশাপাশি ঋতুস্রাব নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে স্কুল-কলেজে বা গ্রামে এই নিয়ে বিভিন্ন শিবিরও গড়ে তুলছে।

এই তালিকায় রয়েছে ইংল্যান্ডও। এখানে সমস্ত প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি স্কুলে স্যানিটারি প্যাড থেকে শুরু করে এই সংক্রান্ত সমস্ত কিছু বিনামূল্যে পাওয়া যায়। তালিকায় রয়েছে স্কটল্যান্ড বা আমেরিকায়ও। আামেরিকায় এই নিয়ে একটি আইনও তৈরি করা হয়েছে। যাতে সকলকে প্রাইমারি স্কুলে এই জিনিস বিনামূল্যে দিতে বলা হয়েছে।

এ তো গেল বিশ্বের অন্যান্য দেশের কথা! WaterAid-এর রিপোর্ট বলছে, ভারতে এই নিয়ে সচেতনতা কম রয়েছে। এদেশে মেনস্ট্রুয়াল ওয়েস্ট ব্যাপারটি নিয়েও সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। বছরে ১ বিলিয়ন প্যাড ডিসপোজ হয়। আগে স্য়ানিটারি প্রোডাক্টের উপরে কর চাপানো হলেও মেনস্ট্রুয়াল হাইজিন নিয়ে প্রচারের পর ২০১৮ সাল থেকে ১২ শতাংশ কর মকুব করা হয়েছে। তবে, বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে, এদেশে এই ধরনের দ্রব্য বিনামূল্যে দিতে এখনও অনেকটা দেরি। অনেকটা পথ এর জন্য পেরোতে হবে!

Published by:Piya Banerjee
First published: