সরকারি টাকায় ২৬ হাজারের ব্রেকফাস্ট ! বিতর্কে ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

জনগণের টাকায় প্রাতরাশ করে বিতর্কে ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

সরকারি কোষাগার থেকে পরিবারের ব্রেকফাস্টের বিল মেটানোয় বিতর্কের মুখে ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সানা মেরিন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন কেসারান্তায় প্রতি মাসে এ বাবদ ৩০০ ইউরো খরচ করা হয় বলে জানা গিয়েছে

  • Share this:

    #হেলসিঙ্কি: দেখার মত সুন্দরী। ৩৫ বছর বয়স। বিবিসি বিচারে বিশ্বের সেরা ১০০ মহিলার তালিকায় যেমন আছেন, তেমনই ফোর্বস ম্যাগাজিনের বিচারে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ মহিলাদের মধ্যে অন্যতম তিনি। স্বচ্ছ ইমেজ, মানবিক মুখ এবং কাজের মানুষ। এটাই পরিচিতি সানা মেরিনের। কিন্তু সেই স্বচ্ছ ইমেজে এবার দাগ লাগল। সরকারি কোষাগার থেকে পরিবারের ব্রেকফাস্টের বিল মেটানোয় বিতর্কের মুখে ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সানা মেরিন।

    প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন কেসারান্তায় প্রতি মাসে এ বাবদ ৩০০ ইউরো খরচ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। ফিনল্যান্ডের একটি জনপ্রিয় ট্যাবলয়েডে এই খবর প্রকাশ হতেই ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। আর এতে রীতিমতো চটে গিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই নড়েচড়ে বসেছে ফিনল্যান্ডের পুলিশ-প্রশাসন। তাঁরা জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের করের টাকায় অবৈধভাবে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ব্রেকফাস্টের বিল প্রধানমন্ত্রী মিটিয়েছেন কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।

    গোয়েন্দা বিভাগের সুপারিনটেনডেন্ট তিমু জোকিন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর খরচ সংক্রান্ত বিষয়েই তদন্ত হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনিক কাজকর্মের সঙ্গে এই তদন্তের কোনও সম্পর্ক নেই। সরকারি টাকায় প্রধানমন্ত্রী তাঁর নিজের ও পরিবারের সবার ব্রেকফাস্টের বিল মেটাবেন কেন, এই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছে বিরোধীরা। যদিও ফিনল্যান্ড সরকারের প্রধান বছর পঁয়ত্রিশের সানা মেরিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর আগে যাঁরা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তাঁরাও একইভাবে এই সুবিধা পেয়েছেন।

    ট্যুইট করে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি ওই সুবিধা চাইনি। তাছাড়া এ ব্যাপারে একা সিদ্ধান্ত নেওয়ারও আমি কেউ নই। পুলিশি তদন্তকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, তদন্ত চলাকালীন তিনি ওই সুবিধা নেওয়া বন্ধ রাখবেন। এমনকী আইন বিরুদ্ধ হলে তা আর নেবেন না।

    প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর সানা মেরিনের সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট ছিল তাঁর স্বচ্ছতা। মেরিনের নেতৃত্বে ফিনল্যান্ড যেভাবে করোনা সংক্রমণ সামলেছে, তার প্রশংসা করেছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। ফিনল্যান্ডের আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনগণের করের টাকায় প্রধানমন্ত্রী যদি তাঁর ও পরিবারের ব্রেকফাস্টের বিল মিটিয়ে থাকেন, তবে তিনি ঠিক করেননি। এ নিয়ে তদন্ত হলে সমস্যায় পড়তে পারেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ, জনগণের করের টাকায় প্রধানমন্ত্রী ব্রেকফাস্টের বিল মেটাতে পারবেন, এমনটা কোথাও লেখা নেই।

    Published by:Rohan Chowdhury
    First published: