• Home
  • »
  • News
  • »
  • features
  • »
  • RAY THE ANTHOLOGY SERIES HOW THE IMMORTAL WORKS BY SATYAJIT RAY HAVE BEEN REFRAMED ARC

RAY: লেবুর শুকনো খোসা সুবাসিত চা, খুশবখত-এর কাঁটায় সেরা ‘কি-লে-পা-টো-মা-নি-য়া’

রে : হঙ্গামা হ্যায় কিঁউ বরপা, ছবি-সংগৃহীত

RAY: সকলকে টেক্কা দিয়ে গিয়েছেন মনোজ বাজপেয়ী, গজরাজ রাও এবং রঘুবীর যাদব ৷ তাঁদের নৈপুণ্য, গজলের আবহ এবং মূল কাহিনির প্রতি তুলনামূলক আনুগত্যে সিরিজসেরা ‘হঙ্গামা হ্যায় কিঁউ বরপা’ ৷

  • Share this:

গোগ্রাসে বই পড়ার দিক দিয়ে সাদৃশ্য নেই বিপিনবিহারী চৌধুরী এবং ইপ্সিত রামা নায়ারের মধ্যে ৷ ছয়ের দশকের শেষ দিকে কিশোর পাঠকদের জন্য একজন উন্নাসিক, কেরিয়ারসর্বস্ব কর্পোরেটকে যেভাবে জন্ম দেওয়া যায়, সেভাবেই সত্যজিৎ রায়ের (Satyajit Ray) কলমে এসেছিলেন বিপিন চৌধুরী ৷ বিপত্নীক, নিঃসন্তান এই চরম পেশাদার পারিপার্শ্বিক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকতে নিজেকে ডুবিয়ে রাখতেন বইয়ে ৷

সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের (Srijit Mukherji) ইপ্সিত নিজেকে বিচ্ছিন্ন করেন না ৷ বরং আরও সকলের মাঝে বিচরণ করেই তুলে ধরেন নিজের শ্রেষ্ঠত্ব ৷ অসামান্য স্মৃতি ও শ্রুতিধর এই কর্পোরেট শিরোমণি ভুলেই গেলেন কিছু বছর আগে তিনি অজন্তা গুহায় বেড়াতে গিয়ে আলাপ হওয়া এক সুন্দরীর নাম রেখেছিলেন ‘কেভ গার্ল’ ৷ সেই গুহাকন্যার শরীর থেকে হাত সরাতেই পারছিলেন না ৷  তাঁর দামী ক্যামেরা ভরা ছিল শুধু সেই সুন্দরীর ছবিতেই ৷

‘ফরগেট মি নট’-এ আলি ফজল

গল্পে সত্যজিৎ রাঁচির অনুষঙ্গ এনেছিলেন উন্মাদ হয়ে যাওয়ার আতঙ্কের প্রতীকস্বরূপ ৷ বিপিনের আতঙ্ক ছিল, তিনি হয়তো তাঁর ভাইয়ের মতো পাগল হয়ে যাবেন৷ শেষ অবধি ঠাঁই হবে রাঁচির উন্মাদাশ্রমেই ৷ পাগলামি ও পাগলাগারদ এড়াবেন বলেই বহুদিনের ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তিনি রাঁচি যাননি ৷ অবশ্য তাঁর পরিণতি এত ভয়ঙ্কর হয়নি ৷ কিন্তু  ইপ্সিতের হয়েছে ৷

কার প্রতিশোধস্পৃহায় ইপ্সিতের সাজানো জীবন তাসের ঘরের মতো চুরমার হয়ে গেল ? সেটা ‘বিপিন চৌধুরীর স্মৃতিভ্রম’-এর পাঠকমাত্রই বুঝতে পারবেন ‘ফরগেট মি নট’ শুরু হওয়ার কিছু ক্ষণের মধ্যে ৷ কিন্তু পাঠকের সন্দেহ যার উপর পড়বে, সে ষড়যন্ত্রের একজন যন্ত্রী মাত্র ৷ আসল নাটের গুরু ইপ্সিতের খুব কাছেরই অন্য একজন ৷ কৈশোরের বিপিন চৌধুরী বড় হয়ে ইপ্সিত হয়েছে ৷ সেটাই হয়তো তার অপরাধ ৷ ছবির শেষে তার বিকারগ্রস্ত হাতে ধরা তারই প্রিয় একগুচ্ছ ‘ফরগেট মি নট’ (Forget Me Not) মনে করিয়ে দেয় কাঠঝুমরির ‘বিষফুল’-কে ৷

স্যান্ডউইচভরা টিফিনবাক্স নিয়ে অফিসে যাওয়া সাহেবি কেতার বিপিনবিহারী চৌধুরী বই কেনার জন্য কলেজ স্ট্রিটে যেতেন না ৷ নিউ মার্কেটের নির্দিষ্ট দোকানই ছিল তাঁর পছন্দ ৷ নিকুঞ্জ সাহা কিন্তু কলেজ স্ট্রিটের ফুটপাতেই পেয়েছিলেন মেকআপ সম্বন্ধে সেই অমোঘ বইখানি ৷ বইয়ের দোকানের ছাপোষা সেলসম্যান, চেহারায় সেরকম কোনও বিশেষত্ব না থাকা নিকুঞ্জর জীবন পাল্টে গিয়েছিল তার জ্যাঠামশাইয়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তির জোরে ৷ তবে সম্পত্তির বৈভবের থেকেও তাঁর চর্যা আমূল বদলে যাওয়ার পিছনে অন্যতম অনুঘটক ছিল সেই ফুটপাতের বই ৷

নিকুঞ্জর মতো সৃজিতের ইন্দ্রাশিস শাহও নিতান্তই সাধারণ ৷ তিনি অবশ্য সম্পত্তি ও বই দুই-ই পান তার ঠাকুমার কাছ থেকে ৷ ছোট থেকেই ইন্দ্রাশিস তার ঠাকুমার খুব কাছের ৷ বাইরের সকলের কাছে ‘পাগল’ সেই বৃদ্ধা ছিলেন প্রখ্যাত মেকআপ শিল্পী ৷ হলিউডকে যোগান দিতেন মেকআপ ৷ ইন্দ্রাশিসের অত যশের প্রয়োজন বা ইচ্ছে কোনওটাই নেই ৷ সে প্রতিশোধ নিতে পেরেই খুশি ৷ অফিসের বস এবং পছন্দের কিন্তু শুধু নিজের করে কাছে না পাওয়া বিশেষ নারীই তার প্রতিহিংসার শিকার ৷ ষড়রিপুর চৌষট্টি ঘরের খেলায় তাদের বিপরীতে সহজেই কিস্তিমাত হয়ে গেল ৷ এ বার ইন্দ্রাশিসের অভীষ্ট আরও বড় ৷

‘বহুরূপিয়া’-য় কে কে মেনন

নিকুঞ্জ সাহা তো বড় হয়ে ইন্দ্রাশিস শাহ হয়ে গিয়েছে ৷ পীরের কাছে পরাজয় তিনি সহ্য করবেন কেন? নিকুঞ্জ সাহা সাধুর কাছে ধরা পড়ে ঠিকানাই পাল্টে ফেলেছিলেন ৷ আর ফিরে যাননি সাধক কালিকানন্দর কাছে ৷ অবচেতনে থাকা দুষ্কৃতীর আদলে সাজিয়েছিলেন নিজেকে ৷ ইন্দ্রাশিস স্বেচ্ছায় সাজেন মোস্ট ওয়ান্টেড অভিযুক্ত ধর্ষকের চেহারার আদলে ৷ কিন্তু নিখুঁত ছদ্মবেশের পরেও ধরা পড়ে যান পীরের কাছে ৷ ‘বহুরূপী’-র নিকুঞ্জ সাহার দুঃস্বপ্নই সত্যি হয়ে যায় ‘বহুরূপিয়া’-র (Bahurupiya) ইন্দ্রাশিসের ক্ষেত্রে ৷ অপরাধীর রূপই থিতু হয়ে যায় তার চেহারায় ৷ ঠিক যেমন অক্রূর চৌধুরী ভর করেছিলেন নবীনের ভুতোর উপর ৷ অথবা যেমন ইমলিবাবার বালকিষণ বেছে নিয়েছিল ধূর্জটিবাবুকে ৷ কিংবা মৃগাঙ্কবাবু স্বচ্ছন্দ বোধ করেছিলেন মর্কটসম আচরণে ৷

বিনা পরিশ্রমে বিশাল সম্পত্তির মালিক হয়ে যাওয়াই কি কাল হল ইন্দ্রাশিসের? বারীন ভৌমিককে কিন্তু রীতিমতো স্ট্রাগল করতে হয়েছিল ৷ তার পরই নিজেকে শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন আধুনিক ও নজরুলগীতির জগতে ৷ একদিন রেসের মাঠে বাজি জেতার টাকায় পটনায় বিয়েবাড়ি যাওয়ার জন্য তিনি প্রথম শ্রেণির কামরায় সওয়ার হয়েছিলেন ৷ সেই বারীন ভৌমিকই প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর উদ্যোক্তাদের খরচে ফার্স্ট ক্লাস কামরায় দিল্লি চলেছেন গান শোনাতে ৷

মধ্যবিত্ত পরিবারের বহু জিনিস চেয়েও না পাওয়ার নিরাশা থেকেই বারীন ভৌমিক কি চুরি করেছিলেন ‘চ’-এর ট্র্যাভেল ক্লক? সে বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি সত্যজিৎ ৷ তবে অভিষেক চৌবের (Abhisehk Chaubey) রাজু কিন্তু না পাওয়া থেকেই লোভের বশ ৷ বন্ধুর বাড়িতে খেলতে গিয়ে সাধের খেলনা চুরি দিয়ে হাতেখড়ি ৷ বাড়তে থাকে চুরি করা খেলনার সম্ভার ৷ ক্রমে প্রয়োজনে নয়, অভ্যাসের বশেই হাতসাফাই করতে থাকে সে ৷

চুরিসফর এসে থামে রেলগাড়িতে সহযাত্রীর ‘খুশবখত’ হাতিয়ে ৷ শখের ওই বুকপকেট ঘড়ি নাকি সহযাত্রীর সৌভাগ্যের প্রতীক ৷ জীবনযুদ্ধে ওটাকেই হাতিয়ার করলেন রাজু ৷ বিশ্বাসে মিলিয়ে যাওয়া জীবনে ওই ঘড়িই তাঁকে নিয়ে গেল গজলের কাছে ৷ এর পর তীব্র বিবেকদংশনে রাজু গিয়েছিলেন হাকিমের কাছে ৷ বৃদ্ধ হাকিম তাঁকে গলা মিলিয়ে উচ্চারণ করালেন অদ্ভুত অসুখের নাম ৷ যেখানে মানুষ দরকারে নয়, বরং চুরি করে অদরকারের শখে ৷

হাঙ্গামা হ্য়ায় কিঁউ বরপা-য় মনোজ বাজপেয়ী ও গজরাজ রাও

হাকিমের পরামর্শে চুরির নেশা ভুলে তিনি আশ্রয় খোঁজেন গজলের নেশায় ৷ স্ট্রাগলার রাজু থেকে প্রখ্যাত গজলশিল্পী মুসাফির আলি হয়ে যাওয়ার পরও ‘খুশবখত’ তাঁর সঙ্গী সব সুরেলাসফরে ৷ কিন্তু সেই অসুখের নামটা যেন কী? মনেই পড়ে না মুসাফিরের ৷ অথচ ট্রেনের সহযাত্রীই যে একদশক আগের খুশবখত-মালিক, সে বিষয়ে সব সন্দেহ দূর করে দিয়েছে ‘চায়ি নুমি বসরা’৷

ফার্স্ট ক্লাস কামরাতেও লেবুর শুকনো খোসা লিকারে মিশিয়ে তবেই চাসেবন করেন তিনি ৷  পুরনো সেই অভ্যাস তিনি বজায় রেখেছেন ৷ যেমন বিশেষ জোর দিয়ে ‘র চা’ বলার আদবও ভুলে যাননি বারীনের সহযাত্রী ‘চ’৷

বারীন ও মুসাফির, দু’জনেই একই সহযাত্রীর সঙ্গে দশ বছর পরে তাঁদের কাকতালীয় দ্বিতীয় রেলসফরে ফিরিয়ে দিয়েছেন চুরি করা জিনিস ৷ আবার নিজের মহার্ঘ্য খুইয়েওছেন সেই সহযাত্রীর কাছে ৷ কিন্তু দু’জনেরই অসুখের নামটাই যে মনে পড়ল না!

রে--শতবর্ষে শ্রদ্ধার্ঘ্য স্রষ্টাকে 

বারীনকে তার উচ্চপদস্থ খুড়তুতো দাদা মনে করিয়ে দিলেন ৷ আর ‘হঙ্গামা হ্যায় কিঁউ বরপা’ (Hungama Hai Kyon Barpa) পাড়ি দিয়ে মুসাফির আলিকে তার পুরনো অসুখের নাম মনে করিয়ে দিল আত্মা শুদ্ধিকরণের দোকানের কর্মচারী ৷ কিন্তু ছোকরা কর্মচারীর আধুনিক উচ্চারণে ‘ক্লেপ্টোম্যানিয়া’ নয়৷ মুসাফিরের কানে অনুরণিত হতে থাকে সেই হাকিমের সঙ্গে পাঠ করা ‘কি-লে-পা-টো-মা-নি-য়া’!

‘রে’ অ্যান্থোলজি সিরিজে ‘হঙ্গামা হ্যায় কিঁউ বরপা’-য় রেলের কামরায় দু’জনের মদ্যপান মনে করিয়ে দেয় ‘সোনার কেল্লা’-য় নকল ডক্টর হাজরা ও মন্দার বোসের ‘চোখে ছানি নয়, পেটে পানি পড়ার’ দৃশ্য ৷ সত্যজিৎ কোলাজ ঘুরেফিরে এসেছে ‘স্পটলাইট’-এও ৷ এখানে নায়ক বিক্রম অরোরার পরনে ‘ভূতের রাজা’-র টিশার্ট ৷ যে ছবির শ্যুটিং তিনি করছেন, তার নাম ‘চিড়িয়াঘর’৷ ‘গণশত্রু’-র চরণামৃত বিতর্কও এসেছে ঘুরেফিরে ৷ কিন্তু সত্যজিতের ‘স্পটলাইট’-এর (Spotlight) সঙ্গে বসন বালার (Vasan Bala) ছবির বিষয়গত বা ভাবগত সাদৃশ্য কার্যত নেই ৷

‘স্পটলাইট’-এ হর্ষবর্ধন কপূর 

গল্পের প্রতারক কালীকিঙ্কর ঘোষালের জায়গায় এখানে ভণ্ড সাধিকা ‘দিদি’৷ গল্পে নায়ক অংশুমান চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখাই হয়নি নকল শতায়ুর ৷ আবার, ছবির ভিকি গল্পের অংশুমানের মতো মঞ্চ ছেড়ে পালিয়ে যান না ৷ বরং, শেষ অবধি লড়ে আবার স্পটলাইট ফিরিয়ে নেন নিজের উপর ৷ কিন্তু তাঁর সাফল্যের পিছনে থাকে ‘দিদি’-র অবদানও ৷ গুপীবাঘার মতো গান গেয়ে সকলকে সম্মোহিত করে দেওয়ার দৃশ্যকল্পও হাজির এখানে, কিন্তু অনুপস্থিত স্বয়ং সত্যজিৎই ৷

তা হলে একে ‘ট্রিবিউট’ বলব কেন? প্রশ্ন পরিচালক সাগ্নিক চট্টোপাধ্যায়ের ৷ তাঁর কথায়, ‘‘ গল্প থেকে ছবি করলে পরিবর্তন আসবেই ৷ আমি মাস্টার অংশুমান করছি৷ সেখানেও বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছি ৷ কিন্তু ধ্বংসাত্মক পরিবর্তন করে স্রষ্টাকে অপমান করা অমার্জনীয় অপরাধ৷’’ আরও যোগ করলেন, ‘‘সত্যজিৎ-সহ পুরো রায় পরিবার তিলে তিলে শিশু কিশোরদের জগতকে তৈরি করেছেন ৷ বাচ্চাদের এবং জগতের উপর সত্যজিৎ রায়ের একটা শ্রদ্ধা ছিল ৷ কৈশোর ঘিরে যে মূল্যবোধ ও সম্ভ্রম তৈরি করেছিলেন সত্যজিৎ, তাকে ন্যক্বারজনক জায়গায় নামিয়ে আনা হয়েছে ৷’’ যাঁরা সত্যজিৎ পড়েননি কিন্তু ‘রে’ দেখলেন, তাঁদের কী ধারণা হবে তাঁর লেখা নিয়ে? আক্ষেপ ফেলুদাকে নিয়ে তথ্যচিত্রের পরিচালক হিসেবে জাতীয় পুরস্কারজয়ী সাগ্নিকের ৷ সন্দীপ রায়ের পরিচালনায় তোপসে হওয়া শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় এখন ‘রে’ দেখেননি ৷ তবে জানালেন, ‘নিশ্চয়ই দেখব’৷

দেখবেন বা ইতিমধ্যেই দেখেছেন অসংখ্য সত্যজিৎপ্রেমী ৷ কিন্তু তাঁর কলমের জগতে বিচরণ করার সুখস্মৃতি রোমন্থন করে অথবা স্মৃতিবিজড়িত হওয়ার ইচ্ছে নিয়ে নেটফ্লিক্সে ‘রে’ দেখতে শুরু করলে হতাশ হতে হবে ৷ সাতের দশকে তাঁর ‘সোনার কেল্লা’ ও ‘জয় বাবা ফেলুনাথ’ তো দূর অস্ত্৷ পরবর্তীতে ‘সত্যজিতের গপ্পো’ সিরিজের সঙ্গেও সাদৃশ্য নেই ৷ বরং ভেবে নেওয়া ভাল যে পাঠকের সঙ্গে সঙ্গে বয়স বেড়ে গিয়েছে গল্পের চরিত্রদেরও ৷ তাই যে জিনিসগুলি থেকে সত্যজিৎ সযত্নে দূরে রেখেছিলেন তাঁর চরিত্রদের, জীবনের সেই অন্ধকার দিকগুলিরই মুখোমুখি তাঁরা, তাঁদের পাঠকদের মতোই ৷

অভিনয়ে নিজের সেরাটুকু উজাড় করে দিতে কার্পণ্য করেননি আলি ফজল, কে কে মেনন, হর্ষবর্ধন কপূর, বিদিতা বাগ, শ্বেতা বসু প্রসাদ, রাধিকা মদন ৷ তবে সকলকে টেক্কা দিয়ে গিয়েছেন মনোজ বাজপেয়ী, গজরাজ রাও এবং রঘুবীর যাদব ৷ তাঁদের নৈপুণ্য, গজলের আবহ এবং মূল কাহিনির প্রতি তুলনামূলক আনুগত্যে সিরিজসেরা ‘হঙ্গামা হ্যায় কিঁউ বরপা’ ৷

‘রে’ মুক্তির আগেও প্রথম থেকেই সত্যজিতের ছোটগল্প উপভোগ করতেন কিশোরদের পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবকরাও ৷ আদিরসের মতো চটজলদি স্বাদবর্ধক পরিহার করেও তাঁর রচনাকে সব পাঠকদের কাছে সুখপাঠ্য করে তোলা যায়, সেই বিরল কৃতিত্বে কালজয়ী সত্যজিৎ ৷ অনুরাগীদের আশা, সত্যজিতের কোষাগার থেকে আরও অসংখ্য মণিমুক্তো দিয়ে ওয়েবসিরিজের অলঙ্কার তৈরি হোক ৷ কিন্তু সেগুলো যেন ঔরঙ্গজেবের আংটি এবং ভার্জিনিয়া শকুন্তলা রেনল্ডসের কণ্ঠহারের মতোই সুন্দর হয় ৷ তাদের মধ্যে চুম্বকশক্তি যেন থাকে আদিত্য সিংহ রায়ের তলোয়ারের মতোই ৷

Published by:Arpita Roy Chowdhury
First published: