corona virus btn
corona virus btn
Loading

প্যানডেমিক ও শঙ্কুর আশ্চর্য ভ্যাকসিন

প্যানডেমিক ও শঙ্কুর আশ্চর্য ভ্যাকসিন

‌সত্যজিতের শতবর্ষে দেওয়া এক উপহার মাত্র এই গল্পটি। তাঁর অমর সৃষ্টির কাছে আমরা নগন্য। শুধু একবার তাঁকে ফিরে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে এই গল্পে।

  • Share this:

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

আবার কেন ডায়েরি লিখছি, তার কারণ পরে কখনও বলব না হয়। অনেক প্রশ্নের উত্তর হয়ত আমাকে দিতে হবে, তাই পরে সময় করে সেসব কথা বলা যাবে। কিন্তু এখন একটা অন্য কথা লিখতেই হচ্ছে। বিজ্ঞান, এই এত উন্নতির পরেও প্রকৃতির কাছে নিতান্তই বালক। না হলে আজকের দিনটা আমাদের দেখতে হত না। গত জানুয়ারি মাস থেকে প্রচণ্ড তাণ্ডব শুরু হয়েছে পৃথিবী জুড়ে। প্রথমে চিনে, তারপর ইউরোপে। সেই জন্যই ভয় করছে খুব। এই বুঝি আমার খোঁজ পড়ল। আমি যে বেঁচে আছি, দেশে বা দেশের বাইরে খুব বেশি কেউ সে কথা জানে না। আমেরিকার যুবক বিজ্ঞানী এরিক, তার সঙ্গে এখন মাঝে মাঝে কথা হয়। সে আমাকে জানিয়েছে সব। বলেছে, ছোঁয়াচে রোগ। হাঁচি, কাশি, গলা ব্যথা হয়ে একাকার হচ্ছে সব। কাতারে কাতারে লোক মরতে শুরু করেছে। আমেরিকাতে এখনও তেমন বড় কিছু হয়নি, কিন্তু রোগের প্রকোপ অল্প বিস্তর শুরু হয়েছে। আমি বাড়ি থেকে বাইরে যাই না, তাই বুঝতে পারি না কিছুই। প্রহ্লাদকে খবরের কাগজ আনতে বলেছিলাম, আর ইন্টারেনেটে দেখতেই বুঝলাম, এ জিনিস ভোগাবে। স্যান্ডার্স আর ক্রোলকে কিছু বলতে পারছি না, কারণ বিশ্বের বিজ্ঞানীমহল এখনও জানে আমি মরে ভূত হয়ে গিয়েছি। মনে হচ্ছে এবার সত্যি সত্যিই মারণ রোগে প্রাণ যাবে। আর শেষ রক্ষা করতে পারব না। মিরাকিউরাল এই রোগের গঠন জানে না, কাজ করবে কি না বোঝা শক্ত। রোগ যদি ধরে একবার তাহলে শেষ। তাই নিজের শেষটা লিখে রেখে যাচ্ছি। আমি জীবিত আছি। মানে ছিলাম। গিরিডিতেই।

২৫ ফেব্রুয়ারি

শুনেছিলাম স্প্যানিশ ফ্লুয়ের কথা। এ তো দেখছি সেই মারণ রোগের মতোই। চিন একে নাম দিয়েছে করোনা ভাইরাস। বলছে, প্যানডেমিক। প্রহ্লাদকে বলেছি, বেশি বাইরে না যেতে। বাড়িতে রোগ বয়ে আনলে আর রক্ষে থাকবে না। দরকার মতো পেটে বটিকা ইন্ডিকা পড়লেই তো হল। এখন বেশিরভাগ সময় কম্পিউটারের সামনে বসে কাটছে, বুঝতে চেষ্টা করছি ব্যপারটা কী!‌ ভাইরাসের সঙ্গে যদি মানব শরীরের হঠাৎ বন্ধুত্ব হয়ে যায়, তাহলে কী কেলেঙ্কারি হতে পারে, একবার তা নিয়ে ক্রোলের সঙ্গে অনেক কথা হয়েছিল!‌ নাহ, এ তো একেবারে নতুন। এমন রোগের কথা আগে তো শুনিনি। এরিককে বলেছি, এ জিনিস আমার জ্ঞানের বাইরে। এরিক বিশ্বাস করতে চাইছে না। আমি বলেছি, একটু ধৈর্য ধরতে। আমাকে আর একটু পড়াশোনা করতে হবে। আমেরিকায় লাখ লাখ লোক এই রোগে আক্রান্ত হতে শুরু করেছে। সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দোকান, বাজার, সব। কী জানি, বুঝতে পারছি না।

১ মার্চ

চিনে মড়ক লেগেছে। এ রোগ চিনা। আমি হাতে কলমে দেখতে পাচ্ছি না, তাই বুঝতেও পারছি না। কিন্তু রোগের প্রকৃতি যে ভয়ঙ্কর, সে খবর শুনেই বোঝা যাচ্ছে। আগে গ্রাম বাংলায় যেমন প্লেগে গাঁ উজাড় হত, এ ঠিক তেমন। শুধু চিন না, ইরান, ইউরোপেও ঢুকে পড়েছে। ব্রাজিলের কফি এনে রেখে দিয়েছিলাম, স্মারক হিসেবে। সেই কফির শিশিটা খুলে ফেলেছি। কী জানি, আর কোনওদিন যদি খেতে না পারি।

১০ মার্চ

এরিক কাল রাত ১২ টায় কাঁদতে কাঁদতে ফোন করেছিল। এলাকার পর এলাকা, একেবারে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে আমেরিকায়। ইতালি, ইংল্যান্ড, সর্বত্র একই অবস্থা। ভাবছিলাম, একবার সুযোগ পেলে পরীক্ষা করে দেখা যেত, যদি কিছু লাভ হয়!‌ এবার জেনেটিক টাইপ বুঝতে পারলে, অনেক কিছু করা সম্ভব!‌ বলব সবাইকে?‌ আমি বেঁচে আছি?‌

১৭ মার্চ

গতকাল ফোন এসেছিল। আমি ধরিনি, প্রহ্লাদ বলল, কী এক সরকারি বাবু ফোন করে মিরাকিউরালের খোঁজ করছিল। ও বলে দিয়েছে ওসব ও জানে না। এতবছর বাদে, কার আবার মনে পড়ল আমাকে?‌ এসব ভাবতে ভাবতে বাড়ির পিছনের দিকে জানলায় বসে কফি খাচ্ছিলাম। হঠাৎ বাইরে চেঁচামেচি শুনলাম। এ কি!‌ আবার কে এল? ভিতরের ঘর থেকে লুকিয়ে দেখলাম, বেশ কয়েকজন ‌স্যুট বুট পরা লোকে এসে প্রহ্লাদের সঙ্গে বেজায় তর্ক জুড়েছে। পরে জিজ্ঞাসা করতে বুঝলাম ওরাও এসেছিল মিরাকিউরালের খোঁজে। ওষুধ না পাওয়া যায়, যদি ফর্মুলা পাওয়া যায়। প্রহ্লাদ বলে‌ছে, ওসব গঙ্গায় ভাসিয়ে দিয়েছে। এই জন্য প্রহ্লাদ আমার সঙ্গে এতবছর টিকে গেল। ওর কাছে কচি লাউ, জিওলের মূল্য আমার এসব হাবিজাবি কাগজপত্রের থেকে অনেক বেশি। তাই ফট করে গঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়ার কথাটা বলে ফেলতে পেরেছে।

২৫ মার্চ

মিরাকিউরালের জন্য ওরা আমাকে পাগলের মতো খুঁজছে। আমি জানি লোকে মরছে, কিন্তু এই ওষুধ যদি ওদের হাতে পড়ে, তাহলে সর্বনাশ হবে। ওষুধ ওদের চাই...কেউ আমাকে নিরাপত্তা দেবে না, কারণ, আমি যে আছি, সেটাই তো কেউ জানে না। তাই বাঁচতে বাধ্য হয়ে যোগাযোগ করেছিলাম এক বন্ধুর সঙ্গে। শুনেছিলাম, ওদের দেশে নাকি এই রোগে তেমন কাবু করতে পারেনি। ও প্রথমে বিশ্বাসই করতে চায়নি, ঘাবড়ে গিয়েছিল। মরা মানুষের ফোন পেলে ঘাবড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক। তারপর বুঝিয়ে বলার পর একঘণ্টা কথা বলেছে। ও বলেছে, এর ওষুধ আবিস্কার নাকি আমি ছাড়া সম্ভব নয়। কিন্তু এখানে এই গিরিডিতে বসে ওষুধের কাজ করব কী করে?‌ ও বললো, ‘‌তোমাকে এদেশে নিয়ে আসব। চিন্তা করো না। শুধু একটা ছদ্মবেশ জোগাড় করো। রাস্তায় লোকে চিনতে পারলে কিডন্যাপ করে নেবে। বড় বড় ওষুধের কোম্পানি কোটি কোটি টাকা লাগিয়ে দেবে তোমার পিছনে। ইটস ভাইটাল প্রফেসর, প্লিজ, কাম শার্প।’‌

১ এপ্রিল

বাড়ি তালা দিয়ে নিউটন আর প্র‌হ্লাদকে নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকার এক দেশে এসে লুকিয়ে আছি। আমাকে নিয়ে এসেছে ডি জুয়ান। আমার বন্ধু, কিউবার চিকিৎসক। সত্যি বলছি, প্যানডেমিক এমন ভয়ঙ্কর জানতাম না। তাড়াতাড়ি এমন কিছু একটা বানাতে হবে যাতে এই পৃথিবী অভিশাপ থেকে মুক্তি পায়। কাল জুয়ানের সঙ্গে ওর ল্যাবে যাবো। গিরিডির কথা মনে পড়ছে খুব। দেশে ফিরতে পারবো তো?’

২ এপ্রিল

আজ ল্যাবে গিয়েছিলাম। কিউবার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এমন উন্নত, তা জানতাম না। দেখে মুগ্ধ হলাম। কিন্তু মুশকিল হল অন্য!‌ আমি বেঁচে থাকতেও পারি, এমন একটা কথা রটে গেছে বাজারে। লোকজোন খোঁজ শুরু করেছে। জুয়ান বলছে, বিজ্ঞানীদের মধ্যে একটা আলোচনা শুরু হয়েছে আমাকে নিয়ে। আর বোধহয় বেশিদিন অন্তরালে থাকা যাবে না। ওষুধের ব্যপারটা কিছুই এগোয়নি। সবে বুঝতে শুরু করেছি এই বজ্জাত রোগের কারসাজিটা।

২ এপ্রিল, রাত সাড়ে বারোটা

কেলেঙ্কারি হয়ে গিয়েছে!‌ জুয়ানের বাড়িতে কারা যেন সব এসেছিল। তাঁরা আমার ছবি দেখিয়ে বলেছে, ভারত থেকে ইমপুট আছে ওদের কাছে। আমি দেশ থেকে পালিয়ে এখানে এসেছি। জুয়ান এমন ভাব করেছে, যেন চেনেই না। আমি প্রহ্লাদ আর নিউটন ওদের ভিতরের করে একেবারে আলমারির ভিতরে লুকিয়ে বসেছিলাম। যদি ভিতরে এসে ওরা সার্চ করে?‌ জেলে পুরবে তো?‌ করেনি। মাঝখান থেকে নিউটন লাফ দিয়ে বারন্দায় চলে গিয়ে দু’‌বার ম্যাঁও ম্যাঁও করেছে এসেছে। ভাগ্যিস, বেড়ালের ভাষা সারা পৃথিবীতেই এক। ওরা যদি বুঝতে পারতো এ বাঙালি বেড়াল, তাহলে তো.‌.‌.‌ওরা চলে যাওয়ার পর দেশের কয়েকটা খবরের ওয়েবসাইটে লেখা দেখলাম, আমি নাকি ফিরে এসেছি। ওষুধ বানাতে। লুকিয়ে কিউবা চলে গিয়েছি। কী করে জানলো এরা?‌ ওদিকে খবরে দেখলাম, দেশে লোকে খেতে পাচ্ছে না। বাজার, ঘাট, ব্যবসা বন্ধ!‌ ভাতেও মারবে দেখছি এ রোগ!‌

৩ এপ্রিল

ভাইরাসের জেনেটিক টাইপ নিয়ে অনেকগুলো কাজ করে ফেলেছি। লিখে লিখে পরীক্ষা করছি। কম্পোনেন্টগুলো বুঝতেই অনেকটা সময় চলে যাচ্ছে। তবে এঁদের এখানে যন্ত্রপাতি খুব ভাল। সহজে কাজ করা যায়। শুনলাম ভারতেও নাকি লোক মরতে শুরু করেছে। আমেরিকার মতো ভসব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কাল রাতে নিউটন হঠাৎ খুব চেঁচাতে শুরু করেছিল। কেন কে জানে, হয়ত নতুন জায়গা, তাই!‌ এদিক থেকে প্রহ্লাদ ভাল। সারাদিন চুপচাপ বসে থাকে। বিশেষ ঝামেলা নেই। কিন্তু একটা অজানা ভয় আমাকে সারাদিন যেন তাড়া করে বেড়ায়। কী জানি, যদি কিছু একটা আবিস্কার করেও ফেলি, তারপর সবার হাতে এই ওষুধ পৌঁছবে তো?‌ গরিবমানুষ ওষুধ খেয়ে বাঁচবে তো?‌

১৪ মে

ইচ্ছা করেই এতদিন কিছু লিখিনি। মন দিয়ে কাজ করছিলাম। কাজ হয়েছে। ভ্যাকসিন মিলেছে। তৈরি করা হয়েছে ল্যাবে। প্রথমটায় নিউটনের ওপর পরীক্ষা করেছিলাম। বেচারা দু’‌দিন ধূম জ্বর নিয়ে কুঁইকুঁই করেছে। তারপর সেরে উঠে দিব্যি চাঙ্গা হয়ে গিয়েছে। তারপর প্রয়োগ করা হয়েছে জুয়ানের বন্ধুর শরীরে। সে তাগড়া জোয়ান ছেলেটার শরীরেও কাজ করেছে ভ্যাকসিন। একটা ওষুধও বানিয়েছি। সেটাও কাজ করছে। জুয়ানকে বলেছি আমার নাম না করে সে যেন বলে, এসব তার কীর্তি। আমি দেশে ফিরে শান্তিতে আবার অজ্ঞাতবাসে চলে যেতে চাই। এই ওষুধ নিয়ে কাড়াকাড়ি হবে আমি জানি। কিন্তু জুয়ানকে বলেছি, আগে ওর দেশের হাতে দিতে, আর ভারতে একই দিনে একসঙ্গে পাঠাতে। তারপর এখানে ল্যাবে যে ওষুধ তৈরি হবে তা সমান ভাগে সবাইকে ভাগ করে দিতে। আর আমার শর্ত একটাই, কেউ একটাকাও এর জন্য নিতে পারবে না। যা করতে হবে, সব দেশের সরকারকে করতে হবে। মানুষের থেকে টাকা নেওয়া চলবে না। ওষুধের নাম দেওয়া যায়নি এখনও, যুৎসই একটা নাম পাচ্ছি না। ভাবছি প্রহ্লাদকে জিজ্ঞাসা করব!‌ ওকে একটা নাম দিতে বললে কেমন হয়?‌

২০ জুন, গিরিডি

কী কাণ্ড!‌ এতদিন বাদে ফিরে দেখি, বাড়ি একেবারে তছনছ হয়ে গিয়েছে। আমার গবেষণাগারে কেউ ঢুকতে পারেনি। টাকা পয়সা, দামি জিনিস কিছুই খোওয়া যায়নি। কিন্তু নির্বোধের দল হাতের কাছে কাগজপত্র যা পেয়েছে, নিয়ে পালিয়েছে। খুঁজে পেতে দেখলাম, তেমন কিছু হারায়নি। চোরে কি আর এসবের মূল্য বোঝে নাকি? ওদিকে জুয়ান ওষুধটা কিউবা মারফত দেশে দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে। ভাল হয়েছে আমেরিকার হাতে প্রথমেই ওষুধটা পড়েনি। হতচ্ছাড়ারা পেলে চড়া দামে বিক্রি করত। ভারতেও এসেছে ওষুধ। অনেকেই সেরে উঠছেন। ড্রাগ কন্ট্রোল বোর্ড এত দ্রুত ছাড়পত্র দেয় না, কিন্তু কিউবার চিকিৎসকরা বিশেষ পরিস্থিতিতে নিয়ম পাল্টাতে বাধ্য করেছেন। মনের মধ্যে একটা অদ্ভুত শান্তি হচ্ছে আমার। অনেকদিন এমন শান্তি পাইনি। অনেকেই আমাকে বলতেন, কেন আমার আবিস্কার আমি মানবসভ্যতার হিতে সকলের কাছে পৌঁছে দিইনি। আগেরগুলো কারখানায় বানানো সম্ভব ছিল না। এটা সম্ভব, তাই সুযোগ পেয়ে পৌঁছে দিলাম।

২১ জুন

সর্বনাশ করেছে জুয়ান!‌ আমার ছবি, নামধাম সুদ্ধ সবাইকে বলে বেরিয়েছে। কী মুশকিল বলো দেখি। বাড়িতে এবার আবার লোকের ভিড় শুরু হয়েছে। হাজার একটা প্রশ্ন করছে সবাই। ক্রোল তো ফোন করে কাঁদতেও শুরু করেছিল। যাক গে, এখন অনেক কিছু জবাব দিতে হবে। কিছু হয়ত লিখতেও হবে। সরকার থেকে রোজ হাজার একটা চিঠি চাপাটি আসছে। প্রহ্লাদ মাঝখান থেকে কিছুই বুঝতে পারছে না। খালি মাঝে মাঝে জিজ্ঞাসা করে, এতবছর হল, আমরা এখনও যেমন কে তেমনই আছি?‌ কই বয়স তো বাড়ল না?‌ কী করে?‌ আমি মুচকি হেসে বলি, ও তোকে বুঝতে হবে না। কিন্তু সবাই তো হাসিতে ভুলবে না। কী বলব?‌ সত্যিটা বলা ঠিক হবে?‌

যাক গে, দেশের মানুষের একটা উপকার অন্তত করতে পারলুম, এই অনেক। ব্রাজিলের কফিটা তুলে রাখতে হবে, আবার মৃত্যুর গন্ধ পেলে নামিয়ে নেওয়া যাবে খন!‌

Published by: Uddalak Bhattacharya
First published: May 2, 2020, 7:13 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर