Home /News /explained /
Explained: ইন্টারনেট ছাড়াই মোবাইলে এবার ডিজিটাল টিভি, বড় পরিবর্তন আসছে দেশে, জেনে নিন বিশদে !

Explained: ইন্টারনেট ছাড়াই মোবাইলে এবার ডিজিটাল টিভি, বড় পরিবর্তন আসছে দেশে, জেনে নিন বিশদে !

কোনও ইন্টারনেট ডেটা ব্যবহার না করেই, বাফারিং ছাড়া কনটেন্ট স্ট্রিম করা যাবে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: টেলি কমিউনিকেশন বিভাগ (DoT) এবং প্রসার ভারতী (Prasar Bharati) এমন একটি প্রযুক্তি চালু করার সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে যাতে ইন্টারনেট (Internet) সংযোগ ছাড়াই সরাসরি মোবাইল ফোনে (Mobile Phone) ভিডিও এবং অন্যান্য ধরনের মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট (Multimedia Content) সম্প্রচার করা যাবে। এই প্রযুক্তিকে বলা হচ্ছে 'ডায়রেক্ট-টু-মোবাইল' (Direct-To-Mobile)। এই প্রযুক্তি ব্রডব্যান্ড এবং স্পেকট্রামের ব্যবহার আরও উন্নত করে তুলতে পারে।

ডায়রেক্ট-টু-মোবাইল সম্প্রচার কী?

প্রযুক্তিটি ব্রডব্যান্ড এবং ব্রডকাস্টের সংমিশ্রণের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে, যা ব্যবহার করে মোবাইল ফোন টেরিস্ট্রিয়াল ডিজিটাল টিভি (Terrestrial Digital TV) রিসিভ করতে পারে। বিষয়টা ঠিক ফোনে এফএম (FM) শোনার মতো। যেখানে ফোনের মধ্যে একটি রিসিভার রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি (Radio Frequencies) ট্যাপ করতে পারে। ডি২এম ব্যবহার করে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট সরাসরি ফোনে বিম করা যেতে পারে। এ হেন প্রযুক্তির নেপথ্যে যে চিন্তা-ভাবনা কাজ করছে, তা হল যে এটি সম্ভবত নাগরিক-কেন্দ্রিক তথ্য সম্পর্কিত বিষয়বস্তু সরাসরি সম্প্রচার করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও ভুয়ো খবরের মোকাবিলা করতে, জরুরি সরকারি সতর্কতা জারি করতে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা প্রদানের জন্য এটি ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। তা ছাড়া এটি মোবাইল ফোনে লাইভ খবর, খেলাধুলো ইত্যাদি সম্প্রচার করতে ব্যবহার করা যাবে। কোনও ইন্টারনেট ডেটা ব্যবহার না করেই বাফারিং ছাড়াই কনটেন্ট স্ট্রিম করা যাবে।

উপভোক্তা ও ব্যবসার উপরে এই প্রযুক্তির কী প্রভাব হতে পারে?

উপভোক্তাদের জন্য এই ধরনের প্রযুক্তির অর্থ হল তারা ভিডিও অন ডিমান্ড (Video On Demand) বা ওভার দ্য টপ (OTT) কনটেন্ট প্ল্যাটফর্ম থেকে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট অ্যাক্সেস করতে সক্ষম হবে, আর তার জন্য ইন্টারনেট খরচ করতে হবে না। এই প্রযুক্তির ব্যবহার করে গ্রামীণ এলাকার লোকজন সীমিত বা কোনও ইন্টারনেট অ্যাকসেস ছাড়া ভিডিও কনটেন্ট (Video Content) দেখতে পাবে। দেশে ইন্টারনেট ব্যবহার দিন দিন বাড়তে থাকার কারণে নতুন নতুন প্রযুক্তির প্রয়োজন হচ্ছে, স্মার্টফোন কনটেন্ট ব্যবহারের প্রাথমিক মাধ্যম হয়ে উঠেছে। ভারতে ইন্টারনেট ট্রাফিকের ৮২ শতাংশ ভিডিও-সম্পর্কিত ট্রাফিক (Video-Related Traffic)। প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১.১ মিলিয়ন মিনিটের ভিডিও স্ট্রিম বা ডাউনলোড করা হয়। প্রতি মাসে আনুমানিক ২৪০ এক্সাবাইট ডেটা খরচ হয়। ব্যবসার জন্য এই প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান সুবিধা পাবে টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি। তারা তাদের মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে ভিডিও ট্রাফিক সম্প্রচার নেটওয়ার্কে অফলোড করতে সক্ষম হবে, এর ফলে সংস্থাগুলো তাদের খরচসাপেক্ষ মোবাইল স্পেকট্রাম (Mobile Spectrum) কমাতে পারবে। এটি মোবাইল স্পেকট্রামের ব্যবহারকেও উন্নত করবে এবং ব্যান্ডউইথ মুক্ত করবে। যা কল ড্রপ কমাতে, ডেটার গতি বাড়াতে সাহায্য করবে।

সরকার কী করছে?

ব্যবহারকারীদের স্মার্টফোনে সরাসরি সম্প্রচার পরিষেবা দেওয়ার জন্য একটি স্পেকট্রাম ব্যান্ডের সম্ভাব্যতা জানার জন্য কমিটি গঠন করেছে বলে জানিয়েছেন টেলিযোগাযোগ বিভাগের (DoT) সচিব কে রাজারামন (K Rajaraman)। তিনি বলেন, "কানেকটিভিটির ক্রমবর্ধমান প্রয়োজনীয়তা মেটানোর সমাধান হল একটি অভিন্ন নেটওয়ার্ক তৈরি করা। ব্যান্ড 526-582 MHz মোবাইল এবং ব্রডকাস্ট উভয় পরিষেবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিভাগ এই ব্যান্ড বিষয়ে খুঁটিনাটি ভালো করে বোঝার জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। পারসোনালাইজড বিষয়বস্তু ব্রডব্যান্ডের মাধ্যমে একের পর এক মোডে পাঠানো যেতে পারে, তবে জেনেরিক কনটেন্ট এক বা একাধিক মোডে সম্প্রচার বা মাল্টিকাস্ট নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পাঠানো যেতে পারে।" এই মুহুর্তে এই ব্যান্ডটি টিভি ট্রান্সমিটারের জন্য সারা দেশে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক ব্যবহার করে। সরকারি সম্প্রচারকারী সংস্থা প্রসার ভারতী গত বছর প্রযুক্তির সম্ভাবনা পরীক্ষা করার জন্য আইআইটি কানপুরের (IIT Kanpur) সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।

প্রযুক্তির রোলআউটের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো কী কী?

এখনও এই প্রযুক্তি একেবারেই তার প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তাই প্রসার ভারতীর সিইও শশী শেখর ভেম্পতি (Shashi Shekhar Vempati) বলেছেন যে ভারতীয় গ্রাহকরা আজকাল আর তাদের বাড়িতে হার্ডওয়্যারের ঝামেলা চায় না। তবে, মোবাইল অপারেটরদের (Mobile Operator) মতো মূল স্টেকহোল্ডারদের রাজি করানো এই প্রযুক্তি চালু করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের (Ministry of Information & Broadcasting) সচিব অপূর্ব চন্দ্র (Apurva Chandra) বলেছেন, প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যাপ্তি হলে পরিকাঠামো এবং কয়েকটি নিয়ন্ত্রক নীতিরও পরিবর্তন করতে হবে।

First published:

Tags: D2M Technology

পরবর্তী খবর