Home /News /explained /
Ukraine-Russia War | Explained : রাশিয়ান তেলের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা! এর কী প্রভাব পড়তে পারে গোটা বিশ্বে

Ukraine-Russia War | Explained : রাশিয়ান তেলের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা! এর কী প্রভাব পড়তে পারে গোটা বিশ্বে

US President Joe Biden

US President Joe Biden

Ukraine-Russia War | Explained : বৃহস্পতিবারই ইউএস হাউস রাশিয়ান তেল আমদানি নিষিদ্ধ করার বিল পাস করেছে।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: ইউক্রেনে (Ukraine) আগ্রাসের কারণে রাশিয়া (Russia) থেকে কয়লা (Coal), তেল (Oil) ও গ্যাস (Gas) আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা (Ban) জারি করল আমেরিকা (United States)। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে আমেরিকার কোনও সরকারি বা বেসরকারি সংস্থা রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল, নির্দিষ্ট পেট্রোলিয়াম পণ্য, তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এবং কয়লা নতুন করে কিনতে পারবে না। এছাড়াও আমেরিকান কোনও সংস্থা রাশিয়ায় পাওয়ার সেক্টরে (Power Sector) বিনিয়োগ করতে পারবে না। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ (Ukraine-Russia War) শুরুর পর থেকেই রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারির সম্ভাবনা ঘোরাফেরা করছিল। কিন্তু এই পদেক্ষেপের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে (International Market) তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে বলে এই প্রস্তাব প্রথমে খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল।

যদিও মার্কিন কংগ্রেসের চাপের মুখে পড়ে সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলল আমেরিকা। মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (Joe Biden) বলেছেন, "আমরা রাশিয়ার তেল-গ্যাস ও জ্বালানির সব ধরনের আমদানি নিষিদ্ধ করছি। তার মানে মার্কিন বন্দরে রাশিয়ান তেল আর গ্রহণযোগ্য হবে না এবং আমেরিকান জনগণ ভ্দাদিমির পুতিনকে (Vladimir Putin) আরেকটি শক্তিশালী ধাক্কা দেবে।" বাইডেন জানিয়েছেন যে, এর সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি গ্যাসের দাম বাড়তে থাকলেও রাশিয়ার তেলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য বাইডেনের উপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন ডেমোক্র্যাটরা। বৃহস্পতিবারই ইউএস হাউস রাশিয়ান তেল আমদানি নিষিদ্ধ করার বিল পাস করেছে।

তবে, রাশিয়ার থেকে তেল ও গ্যাস আমদানিতে এখনও নিষেধাজ্ঞা চাপায়নি ইউরোপীয় ইউনিয়ন (European Union)। কারণ, রাশিয়া থেকে আমদানি করা তেলের উপর গভীরভাবে নির্ভরশীল ইউরোপের দেশগুলি। তাই যে কোনও পদক্ষেপ নিতে হবে অত্যন্ত সতর্কভাবে। রাশিয়ান তেল আমদানিতে যে কোনও নিষেধাজ্ঞা ইতিমধ্যেই উভয় মহাদেশে তেল এবং পেট্রলের দাম আকাশচুম্বী করেছে। ২০১৪ সালের পর সবচেয়ে দামি হয়েছে অপরিশোধিত তেল (Crude Oil)। যাতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ব আমজনতা।

রাশিয়ান তেলের উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব: ২০০৮ সালের পর প্রথমবারের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের (Gasoline) দাম সর্বোচ্চ হয়েছে। তার মধ্যেই বাইডেন প্রশাসন তেল আমদানির উপর নিষেধাজ্ঞা সহ রাশিয়ার উপর আরও নানা নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ক্রমবর্ধমান চাপের সম্মুখীন হচ্ছিল। সোমবার, জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ স্কোলজ (Olaf Scholz) স্পষ্ট করেছেন যে তার দেশ রাশিয়ান তেল ও গ্যাসের বৃহৎ গ্রাহক, তাই কোনও নিষেধাজ্ঞায় যোগ দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। জবাবে আমেরিকা ইঙ্গিত দিয়েছিল যে তারা একাই বা অন্য মিত্রদের সঙ্গে মিলে নিষেধাজ্ঞা চাপাতে পারে।

আরও পড়ুন- রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কী কী অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে? বিশদে জানুন

রাশিয়ার তেল এবং পরিশোধিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA) একা পদক্ষেপ নিলে মস্কোর (Moscow) উপর প্রভাব সম্ভবত ন্যূনতম হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া থেকে খুবই অল্প তেল আমদানি করে। মস্কোর কাছ থেকে কোনও প্রাকৃতিক গ্যাস কেনে না আমেরিকা। রাশিয়া থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০,০০০ ব্যারেল তেল আমদানি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। যা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল রফতানির মাত্র ৫ শতাংশ। গত বছর মার্কিন তেল এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানির প্রায় ৮ শতাংশ রাশিয়া থেকে এসেছিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখন তেলের জন্য সৌদি আরব (Soudi Arabia) এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির (UAE) উপর বেশি নির্ভর করতে পারে। অন্য দিকে, রাশিয়া তেল বিক্রির জন্য তাকিয়ে থাকবে ভারত (India) ও চিনের (China) দিকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তারা যে পরিমাণ তেল বিক্রি করত, সেই পরিমাণ তেল এখন ভারত ও চিনকে বিক্রি করতে চাইবে মস্কো। রিস্টাড এনার্জির (Rystad Energy) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্লদিও গালিম্বার্টি (Claudio Galimberti) বলেছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ বাজারে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। তেলের দাম বেড়ে যাবে। তবুও যদি রাশিয়াকে বিশ্ব বাজার থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে ইরান (Iran) এবং ভেনেজুয়েলার (Venezuela) মতো দেশগুলিকে তেলের উৎস হিসাবে স্বাগত জানানো হতে পারে।" হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি (Jen Psaki) বলেছেন, "বাইডেন প্রশাসনের কর্তাদের একটি দল গত সপ্তাহেই ভেনিজুয়েলা গিয়েছিল। সেখানে অবশ্যই তেল-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।"

রাশিয়ান তেলে নিষেধাজ্ঞা কোথায় ও কীভাবে প্রভাব ফেলবে?

এক মাস আগে বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেল বিক্রি হয়েছিল ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলার। এখন, ১৩০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। কারণ ক্রেতারা রাশিয়ান অশোধিত তেল কিনছে না, অনেকই ভবিষ্যতে আরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে। তেল বিপণন সংস্থা শেল (Shell) মঙ্গলবার বলেছিল যে তারা রাশিয়ান তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস কেনা ও রাশিয়ায় পরিষেবা দেওয়া বন্ধ করে দেবে। রাশিয়ার থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় ইউক্রেনের বিদেশমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেবা (Dmytro Kuleba) শেল-র সমালোচনা করেছিলেন।

ইতিমধ্যেই বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে রাশিয়ান তেলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে বা ক্রেতারা যদি রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল না কিনতে চায়, তবে অপরিশোধিত তেলের দাম ১৬০ ডলার, এমনকি ২০০ ডলার প্রতি ব্যারেল পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেতে পারে।

রাশিয়ান তেল রফতানি কি ইতিমধ্যেই কমছে?

নিষেধাজ্ঞা চাপানোর আগেই কয়েকটি মার্কিন রিফাইনার রাশিয়ান কম্পানির সঙ্গে চুক্তি ছিন্ন করেছে। রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পণ্যের আমদানি কমে গিয়েছে। তেল ও গ্যাস শিল্পের বৃহত্তম লবিং গ্রুপ আমেরিকান পেট্রলিয়াম ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ম্যাকচিয়ারোলা বলেছেন, "আমরা রাশিয়ার সঙ্গে নিজে থেকেই রাশিয়ার তেল আমদানি কমিয়ে দিয়েছি।" ইউএস এনার্জি ডিপার্টমেন্টের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহেই রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের আমদানি শূন্যে নেমে এসেছিল।

ইউরোপ কি নিষেধাজ্ঞা চাপাবে?

রাশিয়ার তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নিষেধাজ্ঞা ইউরোপের জন্য বেদনাদায়ক হবে। বিদ্যুৎ এবং শিল্পে ব্যবহারের জন্য ইউরোপের প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং তেলের প্রায় এক চতুর্থাংশ সরবরাহ করে রাশিয়া। ২০২১ সালে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়া থেকে ১৫৫ বিলিয়ন ঘনমিটার প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করেছে, যা মোট গ্যাস আমদানির প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ৪০ শতাংশ। ইউরোপীয় কর্মকর্তারা তাদের নির্ভরতা কমানোর উপায় খুঁজছেন। রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক (Alexander Novak) ইতিমধ্যেই হুমকি দিয়েছেন যে জার্মানির নর্ড স্ট্রিম ২ (Nord Stream 2) পাইপলাইন বন্ধ করার প্রতিশোধ হিসেবে নর্ড স্ট্রিম ১ (Nord Stream 1) গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের চালান বন্ধ করার সমস্ত অধিকার রাশিয়ার হাতে থাকবে। তিনি যোগ করেছেন, "আমরা এখনও এই সিদ্ধান্ত নিইনি। কারণ এর থেকে কেউ উপকৃত হবে না।"

আরও পড়ুন- বুস্টার ডোজ থেকে পাওয়া সুরক্ষা কতক্ষণ স্থায়ী হয়? বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

প্রাকৃতিক গ্যাসের চেয়ে তেলের উৎস পরিবর্তন করা সহজ। অন্যান্য দেশ তেলের উৎপাদন বাড়িয়ে ইউরোপে পাঠাতে পারে। কিন্তু অনেক তেলের জোগান দিতে হবে। ফলে চাহিদা বাড়লে দেশগুলি দাম আরও বাড়িয়ে দেবে। রাশিয়া ইউরোপকে যে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করে তা প্রতিস্থাপন করা সম্ভবত স্বল্প মেয়াদে অসম্ভব। রাশিয়া বেশিরভাগ প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি ইউরোপে সরবরাহ করে পাইপলাইনের মাধ্যমে। রাশিয়ার থেকে গ্যাস না কিনলে ইউরোপ অন্য দেশ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানি বাড়াতে পারে। তবে সেই পরিকাঠামো এখনও নেই। কারণ, এত দ্রুততার সঙ্গে পাইপলাইন পাতার কাজ অসম্ভব।

জানুয়ারিতে, আমেরিকান এলএনজি রফতানির দুই-তৃতীয়াংশ ইউরোপে গিয়েছিল। এসএন্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসর তথ্য অনুসারে, এলএনজি ভর্তি কিছু জাহাজ এশিয়ার দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু ইউরোপে যাওয়ার জন্য ঘুরে যায়। কারণ সেখানকার ক্রেতারা বেশি দাম দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। যদিও মার্কিন তেল এবং গ্যাস উৎপাদকরা আরও প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য খনন চালাতে পারে। যদিও এর জন্য কয়েক বছর সময় এবং কয়েক বিলিয়ন ডলার মূল্য লাগবে।

ক্রমবর্ধমান অপরিশোধিত তেলের দাম কীভাবে ভারতীয় গ্রাহকদের প্রভাবিত করবে?

ভারতে তেলের দাম প্রায় ৪ মাস একই রয়েছে। যদিও অপরিশোধিত তেলের দামের বৃদ্ধি ঘটলে বেশিদিন আর ভারতে তেলের দাম এক থাকবে না। উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, মণিপুর এবং গোয়ায় নির্বাচন শেষ হলেই তেলের দাম বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ভারতে তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়। বিপণন মার্জিন স্থির থাকার জন্য অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ডলার বৃদ্ধির জন্য পেট্রল এবং ডিজেলের দাম লিটারে প্রায় ৫২ পয়সা বাড়াতে হবে। গত নভেম্বরে পেট্রল এবং ডিজেলের দাম সংশোধিত হওয়ার পর থেকে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৫০ ডলার বেড়েছে। বর্তমানে দিল্লিতে লিটার প্রতি পেট্রলের দাম ৯৫ টাকা ৪১ পয়সা। ডিজেল প্রতি লিটার ৮৬.৬৭ পয়সায় খুচরা বিক্রি হচ্ছে।

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published:

Tags: Russia Ukraine War

পরবর্তী খবর