Home /News /explained /
Long coronavirus: এখনও যুদ্ধ জারি, ভুগছেন অনেকেই! করোনা পরবর্তী এই ৭ লক্ষণ নিয়ে সাবধান হন এখনই!

Long coronavirus: এখনও যুদ্ধ জারি, ভুগছেন অনেকেই! করোনা পরবর্তী এই ৭ লক্ষণ নিয়ে সাবধান হন এখনই!

সেরে উঠলেও এখনও অনেকের শরীরেই কিন্তু নানা ধরনের রোগের বা যন্ত্রণার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: আমরা ইতিমধ্যেই করোনা মহামারীর প্রাথমিক রেশ কাটিয়ে উঠেছি। তবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হওয়ার পরে সেরে উঠলেও এখনও অনেকের শরীরেই কিন্তু নানা ধরনের রোগের বা যন্ত্রণার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে।

লং কোভিড কী?

অনেক ক্ষেত্রে করোনা আক্রান্ত রোগীরা জানতে পর্যন্ত পারেন না যে তাঁরা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বা হয়েছিলেন, এঁদের উপসর্গহীনের আওতায় ফেলা হয়েছে। ভাইরাস ছড়ানোর ক্ষেত্রে এঁরাই সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ভূমিকা নেন বলে মনে করা হয়। আবার অনেকের ক্ষেত্রেই এই রোগের লক্ষণ সুস্পষ্ট ভাবে দেখা যায়। এঁদের মধ্যে এমন মানুষও রয়েছেন যাঁরা সেরে ওঠার পরেও শরীরে নানা ধরনের সমস্যা অনুভব করেন। বিশেষজ্ঞরা এটিকেই লং কোভিড (Long COVID) বা পোস্ট কোভিড সিন্ড্রোম (Post COVID Syndrome) হিসাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। লং কোভিড সিনড্রোমের ক্ষেত্রে কাশি, ক্লান্তি থেকে শুরু করে শ্বাসকষ্ট এবং গন্ধ ও স্বাদহীনতা সহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে। ইউকে-র ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসেস অনুসারে করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠা অনেক ব্যক্তিই ব্রেন ফগের সমস্যায় ভোগেন। তবে এই সমস্যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।

ব্রেন ফগ কী?

ব্রেন ফগকে নির্দিষ্ট ভাবে কোনও রোগের তালিকায় ফেলা যায় না। বরং এটিকে অলস বা ধীর চিন্তা-ভাবনা করার অবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। এটি এমন এক ধরনের অবস্থা যা ব্যক্তির একাগ্র চিন্তা-ভাবনা নষ্ট করে, কাজে অমনোযোগী করে তোলে ও কর্মহীনতা তৈরি করে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কিন্তু ব্রেন ফগের সমস্যা অস্থায়ী এবং এটি নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যায়। তবে কোভিডের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হতে পারে। এটি ব্যক্তির প্রাথমিক সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার পরে কয়েক সপ্তাহ বা এমনকী কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ২০২০ সালে পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, প্রায় ২৮% মানুষের ক্ষেত্রে যাঁরা কোভিড-১৯ সংক্রমণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তাঁরা ১০০ দিনেরও বেশি ধরে এই সমস্যায় ভুগেছেন।

কারা এই সমস্যায় বিপদসীমার মধ্যে রয়েছেন?

সম্প্রতি এনএইচএস জানিয়েছে যে, করোনাভাইরাস নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মানুষরাই যে শুধুমাত্র এই সমস্যায় ভুগছেন এমনটা নয়। এমনকী বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বয়স্করা নয়, অল্পবয়সীদের ক্ষেত্রেও ব্রেন ফগের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। অক্টোবর ২০২১-এ যেএএমএ নেটওয়ার্ক ওপেনে প্রকাশিত একটি সমীক্ষা কোভিড থেকে সেরে ওঠার পর ৩৮ থেকে ৫৯ মাস বয়সী রোগীদের নিউরোলজিক্যাল ফাংশন পরীক্ষা করে দেখেছে। সমীক্ষা বলছে এদের মধ্যে প্রায় ২৮% ক্ষেত্রে রোগীরা ব্রেন ফগের মতো সমস্যায় ভুগছেন। এর মধ্যে মেমোরির সমস্যা, প্রসেসিং স্পিড, কগনেটিভ ডিফিকাল্টি, মনোযোগের সমস্যা এবং অন্যান্য নানা সমস্যা রয়েছে।

কীভাবে বোঝা যাবে ব্রেন ফগের সমস্যা রয়েছে কি না?

এনএইচএস-এর মতে ব্রেন ফগের ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ- ১. দুর্বল মনোযোগ ২. ঘন ঘন বিভ্রান্তি ৩. চিন্তা-ভাবনা ধীর হয়ে আসা ৪. সিদ্ধান্ত নিতে সমস্যা বা চিন্তার অস্পষ্টতা ৫. বিস্মৃতি ৬. চেনা শব্দ মনে করতে না পারা ৭. মানসিক অবসাদ

ব্রেন ফগ কি কোভিড থেকেই হয়? এনএইচএস অনুযায়ী ব্রেন ফগের সমস্যায় ব্যক্তি নিজে থেকেই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে। অন্যান্য সংক্রমণ, মাথায় সামান্য আঘাত বা মেনোপজের সময়ও এই ধরনের উপসর্গ দেখা যায়। যাদের মধ্যে বিষণ্ণতা, উদ্বেগ বা মানসিক চাপ থাকে তারাও এই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে পারে।

লং কোভিড সিনড্রোম বলতে কী বোঝায়?

মায়ো ক্লিনিক লং কোভিডকে এমন একটি অবস্থা হিসাবে বর্ণনা করে যেখানে কোভিড পরবর্তীতেও ব্যক্তি কোভিডের লক্ষণগুলি অনুভব করতে থাকে। সে ক্ষেত্রে যে সকল উপসর্গ দেখা দিলে লং কোভিড সিনড্রোম হয়েছে বলে ধরে নিতে হবে, তা হল- ১. ক্লান্তি ২. কাশি ৩. জয়েন্টে ব্যথা অনুভব করা ৪. অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নেওয়ার সময় সামান্য অথচ যথেষ্ট শ্রম সহকারে শ্বাস নেওয়া ৫. বুকে ব্যথা অনুভূত হওয়া ৬. স্মৃতিশক্তি, একাগ্রতা বা ঘুমের সমস্যা ৭. পেশিতে ব্যথা অনুভূত হওয়া ৮. দীর্ঘকালীন মাথা ব্যথার সমস্যা ৯. খুব দ্রুত বা তীব্র হৃদস্পন্দন অনুভব করা ১০. চারপাশের গন্ধ বা খাবার খাওয়ার সময় যথাযথ স্বাদ না পাওয়া ১১. ক্রমশ হতাশা বৃদ্ধি বা সামান্য ঘটনায় উদ্বেগ অনুভব করা ১২. প্রায়শই জ্বরে ভোগা ১৩. উঠে দাঁড়ালে হঠাৎ মাথা ঘোরা ১৪. শারীরিক বা মানসিক কোনও কাজের পরে শরীর খারাপ লাগা

First published:

Tags: Long coronavirus

পরবর্তী খবর