• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • EXPLAINED | Difference between Dengue Malaria and Chikungunya: দাপট বাড়ছে মশার, ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া-চিকুনগুনিয়ার পার্থক্য এবং প্রতিরোধ জেনে সতর্কতা নিন!

EXPLAINED | Difference between Dengue Malaria and Chikungunya: দাপট বাড়ছে মশার, ডেঙ্গু-ম্যালেরিয়া-চিকুনগুনিয়ার পার্থক্য এবং প্রতিরোধ জেনে সতর্কতা নিন!

EXPLAINED | Difference between Dengue Malaria and Chikungunya

EXPLAINED | Difference between Dengue Malaria and Chikungunya

প্রাথমিক পর্যায়ে রোগের পার্থক্য করা কঠিন হতে পারে। তাই এই রোগগুলি, রোগগুলির উপসর্গ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে বিশদে জানতে হবে। (EXPLAINED | Difference between Dengue Malaria and Chikungunya)

  • Share this:

#কলকাতা: মশাবাহিত জ্বর, বিশেষ করে ম্যালেরিয়া (Malaria), ডেঙ্গু (Dengue) এবং চিকুনগুনিয়া (Chikungunya) সম্প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদি নিয়ন্ত্রণ না করা হয় তবে এই রোগগুলি রোগীর মৃত্যুর কারণ হতে পারে। ম্যালেরিয়া অ্যানোফিলিস মশা (Anopheles Mosquito) দ্বারা সৃষ্ট ( EXPLAINED | Difference between Dengue Malaria and Chikungunya)। অন্যদিকে, ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া হল এডিস মশা (Aedes Mosquito) দ্বারা ছড়ানো সংক্রমণ। যদিও ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া উভয়ই পোকামাকড়-বাহিত ভাইরাল রোগ, ম্যালেরিয়া হল প্লাজমোডিয়াম (Plasmodium) দ্বারা সৃষ্ট একটি পরজীবী ব্যাধি এবং এটি সংক্রামিত মশার মাধ্যমে ছড়ায় ( EXPLAINED | Difference between Dengue Malaria and Chikungunya)। ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া, এই তিনটি রোগের উপসর্গগুলির মধ্যে মিল রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগের পার্থক্য করা কঠিন হতে পারে। তাই এই রোগগুলি, রোগগুলির উপসর্গ ও প্রতিরোধ সম্পর্কে বিশদে জানতে হবে। ( EXPLAINED | Difference between Dengue Malaria and Chikungunya)

ডেঙ্গু কী?

ডেঙ্গু ফ্ল্যাভিভিরিডে (Flaviviridae) পরিবারের একটি ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট হয়। চারটি ভাইরাস রয়েছে যেগুলি সেরোটাইপস জাতীয়। সেগুলি হল ডিইএনভি ১ (DEN-1), ডিইএনভি ২ (DEN-2), ডিইএনভি ৩ (DEN-3) এবং ডিইএনভি ৪ (DEN-4)। এই ভাইরাসগুলিই প্রধানত ডেঙ্গুর জন্য দায়ী। ভাইরাসটির একটি সেরোটাইপে সংক্রমণ হলে সেই সেরোটাইপের বিরুদ্ধে রোগী আজীবন প্রতিরোধী ক্ষমতা অর্জন করে। কিন্তু অন্য সেরোটাইপের বিরুদ্ধে সাময়িক প্রতিরোধী ক্ষমতা অর্জন করে। পরবর্তীতে ভিন্ন সেরোটাইপের ডেঙ্গু ভাইরাস সংক্রমিত হলে রোগীর মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। ডেঙ্গু জ্বরকে হাড় ভাঙার জ্বরও বলা হয়। কারণ কখনও কখনও তীব্র পেশি এবং জয়েন্টে ব্যথা হয়, যাতে মনে হয় হাড় ভেঙে যাচ্ছে। প্রতি বছর প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মানুষ এই রোগের শিকার হয়, মৃত্যুর সংখ্যা ২২ হাজার।

আরও পড়ুন: ৫০ পেরোলেই সতর্ক হোন! শুধু মহিলারা নন, মারণ স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে পুরুষদেরও

ডেঙ্গুর উপসর্গ (Symptoms of Dengue Fever): ডেঙ্গু একটি মারাত্মক, ফ্লু-এর মতো রোগ, যা শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের হতে পারে ও মৃত্যুর কারণ হয়। ডেঙ্গুর উপসর্গ সাধারণত ২ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হয়। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন ডেঙ্গুকে দু'টি প্রধান শ্রেণীতে শ্রেণিবদ্ধ করেছে- ডেঙ্গু (উপসর্গ সহ /হীন) এবং মারাত্মক ডেঙ্গু। সতর্কতামূলক উপসর্গ সহ বা ছাড়াই ডেঙ্গুর উপ-শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে, যাতে সঠিক চিকিৎসা হয় ও মারাত্মক ডেঙ্গু হওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়।

ডেঙ্গুর উপসর্গ: খুব মাথাব্যথা, চোখের পিছনে ব্যথা, পেশি এবং জয়েন্টের ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, গ্রন্থি ফোলা, ফুসকুড়ি ইত্যাদি।

মারাত্মক ডেঙ্গুর উপসর্গ: সাংঘাতিক পেটে ব্যথা, ক্রমাগত বমি, দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস, মাড়ি থেকে রক্তপাত, ক্লান্তি, অস্থিরতা, রক্তবমি ইত্যাদি।

ম্যালেরিয়া (Malaria): ম্যালেরিয়া হল প্লাজমোডিয়াম নামক পরজীবী দ্বারা সৃষ্ট একটি প্রাণঘাতী মশাবাহিত সংক্রামক রোগ, যা সংক্রামিত মহিলা অ্যানোফিলিস মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয়। মানবদেহের লিভারে এই পরজীবী সংখ্যা বৃদ্ধি করে, রক্ত প্রবাহে প্রবেশ করে এবং তার পরে লোহিত রক্তকণিকাকে সংক্রামিত করে। ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাপী এই মশাবাহিত রোগে প্রায় ২২৯ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হয়েছে।

ম্যালেরিয়ার উপসর্গ (Symptoms of Malaria): ম্যালেরিয়ার উপসর্গ দু'টি ভাগে বিভক্ত- সাধারণ ম্যালেরিয়া এবং গুরুতর ম্যালেরিয়া।

আরও পড়ুন: ওপেন হার্ট সার্জারি নয়, হৃদরোগীর নিরাময়ে ট্রান্সক্যাথিটার এওর্টিক ভালভ রিপ্লেসমেন্ট আদতে কী?

সাধারণ ম্যালেরিয়ার উপসর্গ (Uncomplicated Malaria): ঠাণ্ডা লাগা বা কাঁপুনি সহ ঠাণ্ডার অনুভূতি, মাথাব্যথা, জ্বর এবং বমি, কখনও কখনও খিঁচুনি, ঘাম, ক্লান্তি।

মারাত্মক ম্যালেরিয়ার উপসর্গ (Severe Malaria): জ্বর এবং কাঁপুনি/ঠাণ্ডা লাগা, শ্বাসকষ্ট এবং গভীর শ্বাস, খিঁচুনি, রক্তাল্পতা, অস্বাভাবিক রক্তপাত, গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কর্মহীনতা এবং ক্লিনিকাল জন্ডিসের প্রমাণ।

চিকুনগুনিয়া: ‘চিকুনগুনিয়া’ শব্দের অর্থ ‘বাঁকা হাঁটা’। জ্বর এবং জয়েন্টে ব্যথা চিকুনগুনিয়ার উল্লেখযোগ্য উপসর্গ। সংক্রামিত মহিলা মশার কামড় থেকে চিকুনগুনিয়া ভাইরাস ছড়ায়। এডিস ইজিপ্টিাই, যাকে সাধারণত 'হলুদ জ্বর মশা' বলা হয়। সব চেয়ে বেশি প্রভাবিত স্থানগুলি হল এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগর লাগোয়া দেশগুলি।

চিকুনগুনিয়ার উপসর্গ (Symptoms of Chikungunya): চিকুনগুনিয়া রোগের ইনকিউবেশন পিরিয়ড ২ থেকে ৬ দিনের মধ্যে হলেও সাধারণত সংক্রমণের ৪ থেকে ৭ দিনের মধ্যে উপসর্গগুলি দেখা দিতে শুরু করে। উপসর্গগুলি হল- উচ্চ জ্বর, ট্রাঙ্ক বা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ভাইরাল ফুসকুড়ি, জয়েন্টে ব্যথা, মাথাব্যথা, খিদে কমে যাওয়া ইত্যাদি।

ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া এবং চিকুনগুনিয়ার মধ্যে মিল কী?

চিকুনগুনিয়া এবং ডেঙ্গু হল গ্রীষ্মমন্ডলীয় জ্বর, যাদের প্রায় সাধারণ উপসর্গ, কার্যকারক এজেন্ট (মশা-বাহিত ভাইরাল রোগ), ভৌগোলিক বন্টন এবং ইনকিউবেশন পিরিয়ড কম। অন্য দিকে, ম্যালেরিয়া হল একটি পরজীবী সংক্রমণ যাতে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গুর মতো একই রকম উপসর্গ দেখা যায়।

ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া এবং চিকুনগুনিয়ার চিকিৎসা কী ভাবে আলাদা?

অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া সৃষ্টি করে। তবে চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু হয় এডিস মশার কারণে। এছাড়াও, চিকুনগুনিয়া এবং ডেঙ্গু হল মশাবাহিত ভাইরাল সংক্রমণ, যেখানে ম্যালেরিয়া প্লাজমোডিয়াম নামে পরিচিত একটি পরজীবীর কারণে হয়। এই রোগগুলির চিকিৎসা পদ্ধতিও আলাদা।

ডেঙ্গু জ্বর, চিকুনগুনিয়া এবং ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের টিপস: ডেঙ্গু জ্বর এবং চিকুনগুনিয়া ছড়ানো এডিস মশা দিনে বেশি সক্রিয় থাকে, ম্যালেরিয়া ছড়ানো অ্যানোফিলিস মশা মূলত রাতে সক্রিয় থাকে। অতএব, এই রোগগুলির বিরুদ্ধে যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারা যায় তা হল, দিনে এবং রাতে মশার কামড় এড়ানোর চেষ্টা।

ডেঙ্গুর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (Preventive Measures for Chikungunya):

লম্বা-হাতা শার্ট এবং ফুল প্যান্ট পরা জানালার পর্দা, প্রতিষেধক, কীটনাশক সামগ্রী, কয়েলের ব্যবহার মশা যাতে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য বাড়ি বা অফিসের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে হবে জানালা বা দরজা নেটও ব্যবহার করা যায় বাড়িতে এবং আশপাশে জল জমে দিলে হবে না

চিকুনগুনিয়ার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (Preventive Measures for Chikungunya):

শরীর সঠিকভাবে ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরতে ভুললে হবে না মশা নিরোধক ব্যবহার বাড়ি ও অফিসের জানালা ও দরজায় নেট লাগাতে হবে বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে যাতে সেখানে মশা বংশবৃদ্ধি করতে না পারে

চিকুনগুনিয়ার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (Preventive Measures for Malaria):

শরীর সঠিকভাবে ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরতে হবে মশা নিরোধক ব্যবহার করা বাড়ি ও অফিসের জানালা-দরজায় নেট লাগাতে হবে বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যাতে সেখানে মশা বংশবৃদ্ধি করতে না পারে

আরও পড়ুন: বুকে ব্যথা আর জ্বালা-জ্বালা ভাব! হার্ট অ্যাটাক না হার্টবার্ন, বোঝা যাবে কী ভাবে?

এছাড়াও, পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা এবং পরিবর্তনের মাধ্যমে মশা যাতে ডিম পাড়তে না পারে তার ব্যবস্থা করা। কঠিন বর্জ্য সঠিকভাবে ফেলা এবং আবাসনে জল জমতে না দেওয়া। সপ্তাহে জলের পাত্র পরিষ্কার করা। বাইরে পড়ে থাকা খালি পাত্রে কীটনাশক প্রয়োগ।

ভারতের ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। যার মধ্যে রয়েছে কেরল, তেলঙ্গানা, মহারাষ্ট্র, উত্তরপ্রদেশ এবং ওড়িশার মতো রাজ্যগুলি। এই বছর, মশাবাহিত রোগে সংক্রমণের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের মতে, আর এ সবই হচ্ছে ডেঙ্গু ভাইরাসের নতুন ডি-২ স্ট্রেনের (D2 Strain) কারণে। যা ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের মধ্যে একটি। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা মেনে চলা এবং প্রতিরোধমূলক প্রোটোকল মেনে চলা সর্বোত্তম উপায়। এটি মনে রাখা উচিত যে ডেঙ্গু একটি সংক্রমণ হিসাবে রয়ে গিয়েছে যা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্মূল করা যায়। যতক্ষণ পর্যন্ত ভালো স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করা হয় ততক্ষণ পর্যন্ত এটি সম্পূর্ণ রূপে এড়ানো যায়।

Published by:Raima Chakraborty
First published: