Home /News /explained /
Explained: Covid 19 থেকে সেরে উঠে রোগীরা পড়ছেন Fibromyalgia-র কবলে, এই রোগের লক্ষণ ঠিক কি?

Explained: Covid 19 থেকে সেরে উঠে রোগীরা পড়ছেন Fibromyalgia-র কবলে, এই রোগের লক্ষণ ঠিক কি?

কোভিড ১৯ (Covid 19) রোগীদের ক্ষেত্রে একটি সমস্যা সব থেকে বেশি দেখা দিচ্ছে। তা হল ফাইব্রোমায়ালজিয়া (Fibromyalgia)।

  • Share this:

#কলকাতা: কোভিড  (Covid 19) থেকে সেরে উঠলেও রেহাই নেই। অনেকেই আছেন যাঁরা লং কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। যার প্রভাব থাকছে দীর্ঘ দিন। পাশাপাশি কোভিড থেকে সেরে উঠলেই যে সবাই সুস্থ হয়ে যাবেন এমনটাও নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে কোভিড থেকে সেরে উঠলেও শরীরে বেশ কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যার থেকে সেরে ওঠার জন্যও দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।

কোভিড রোগীদের ক্ষেত্রে একটি সমস্যা সব থেকে বেশি দেখা দিচ্ছে। তা হল ফাইব্রোমায়ালজিয়া (Fibromyalgia)। বর্তমানে অনেক দেশে কোভিড সংক্রমণ অনেকটা নিম্নমুখী। সেই সব দেশের ক্ষেত্রে কোভিড বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় সব দেশেই করোনা টিকা দেওয়া হচ্ছে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে। যার ফলে কিছুটা হলেও করোনার আক্রমণ থেকে মুক্তি পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু লং কোভিডে ভুগছেন অনেকে। লং কোভিডের অন্যতম লক্ষণ ফাইব্রোমায়ালজিয়া। যা গোটা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।

আরও পড়ুন - Xiaomi ভারতে নিয়ে এল নতুন 5G ফোন 11 Lite NE 5G, দাম কত, জানুন ফিচার্স

লং কোভিডের আরও একটি নাম হল পোস্ট কোভিড সিনড্রোম। কোভিড (Covid 19) মুক্তির পরেও লং কোভিডের আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না অনেকে। যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। লং কোভিডে আক্রান্তরা শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যায় ভুগছেন। সঙ্গে জ্বর, ক্লান্তি, দুর্বলতা, কাশি সহ একাধিক উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এরই সঙ্গে পোস্ট কোভিড সিনড্রোমে আরও একটি সমস্যায় ভুগছেন অনেকে। তা হল ফাইব্রোমায়ালজিয়া (Fibromyalgia)। এই সমস্যায় যিনি ভুগছেন তাঁর শরীরের বিভিন্ন পেশিতে ব্যথা অনুভব হচ্ছে। পাশাপাশি, শরীরে ব্যথা, ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, দুর্বলতা সহ একাধিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফাইব্রোমায়ালজিয়ার (Fibromyalgia) বিষয়ে যা যা জানা দরকার…

ফাইব্রোমায়ালজিয়া (Fibromyalgia) কী?

ফাইব্রোমায়ালজিয়া হল একটি ক্রনিক সমস্যা। যা মূলত পেশির যন্ত্রণা। এই রোগে যাঁরা আক্রান্ত হচ্ছে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন পেশিতে যন্ত্রণা অনুভূত হচ্ছে। তার সঙ্গে শরীরের একাধিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। যেমন ক্লান্তি, দুর্বলতা, বমি ভাব ইত্যাদি। পাশাপাশি আর্থারাইটিসের সমস্যায় ভুগছেন রোগীরা। অথচ সেই সব রোগীদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে কোভিডে (Covid 19) আক্রান্ত হওয়ার আগে তাঁরা এই ধরনের কোনও সমস্যায় ভুগতেন না। পাশাপাশি ফাইব্রোমায়ালজিয়া-তে যাঁরা আক্রান্ত হন তাঁদের শরীরের নরম টিস্যুর উপর প্রভাব পড়ছে। কোনও জয়েন্টের উপর প্রভাব পড়ছে না।

লং কোভিড রোগীদের ক্ষেত্রে ফাইব্রোমায়ালজিয়া কতটা প্রভাব ফেলতে পারে?

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা কোভিড থেকে সম্পূর্ণ সেরে উঠেছেন তাঁরা ফাইব্রোমায়ালজিয়া-তে আক্রান্ত হয়েছেন। এবং দীর্ঘ দিন ধরে মানব শরীরে বাসা করে থাকে সেটি। যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে যন্ত্রণা অনুভব করতে হয়। এবিষয়ে একটি গবেষণা করেছে ইতালির একটি সংস্থা। মূলত ওয়েব সার্ভের উপর ভিত্তি করে ওই গবেষণাটি করা হয়েছে এবং তার রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে।

আরও দেখুন - Video: বয়সের ভারে ঝুঁকে গেছে শরীর, হাতে লাঠি , ভবানীপুরের ভোটে হাজির ৭৫-র বৃদ্ধা

মোট ৬০০ রোগীর উপর করা ওই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রায় ৩০.৭ শতাংশ মানুষ ফাইব্রোমায়ালজিয়ায় ভুগছেন। কোভিড আক্রান্ত হওয়ার প্রায় ৬ মাস পরেও তাঁদের শরীরে ফাইব্রোমায়ালজিয়ার আক্রমণ হতে দেখা গিয়েছে। ওই ৩০.৭ শতাংশ মানুষের শরীরে পরীক্ষা করে ফাইব্রোমায়ালজিয়া-র সন্ধান পেয়েছে আমেরিকান কলেজ অফ রিউমাটোলজি (American College of Rheumatology)। ওই সমীক্ষার যে সমীক্ষকরা অংশগ্রহণ করেছিলেন তাঁরা লিখেছেন, “SARS-CoV-2 যে ভাবে অতিমারীর রূপ ধারণ করেছে ঠিক সেভাবে মনে করা হচ্ছে বাতের রোগ বিশেষজ্ঞরা এমনই ফাইব্রোমায়ালজিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টির মুখোমুখি হবেন।

fibromyalgia in long covid 19 patients also know remedies- Photo-Representative fibromyalgia in long covid 19 patients also know remedies- Photo-Representative

কী কারণে এই সমস্যা তৈরি হচ্ছে?

এবিষয়ে গবেষণা চালিয়েছে, দ্য ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ আর্থারাইটিস অ্যান্ড মাসকুলোস্ক্যালিট্যাল অ্যান্ড স্কিন ডিজিজ (The National Institute of Arthritis and Musculoskeletal and Skin Diseases)। তাদের পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে আমেরিকায় ১৮ বছর ও তার থেকে বেশি বয়সীরা বাতের সমস্যায় ভুগছেন এমন সংখ্যা প্রায় ৫ মিলিয়ন। এবং যাঁরা এই সমস্যায় ভুগছেন তাঁদের মধ্য ৮০ থেকে ৯০ শতাংশই মহিলা। মহিলাদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি। অন্য দিকে, কোভিড রোগীদের ফাইব্রোমায়ালজিয়া রোগ নিয়ে বলতে গিয়ে গবেষকরা জানিয়েছেন, কোভিডে আক্রান্ত রোগীদের ফাইব্রোমায়ালজিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পিছনে অনেকগুলি কারণ রয়েছে। এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর রোগীদের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলে জানিয়েছেন তাঁরা। যাঁদের শারীরিক ওজন তুলনামূলক ভাবে একটু বেশি অর্থাৎ যাঁরা একটু বেশি স্থুলকায় তাঁদের অনেকের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে তাঁরা কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পর ইনটেনসিভ কেয়ারে রাখতে হয়েছে। তাঁদের ক্ষেত্রে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন দেওয়ারও প্রয়োজন পড়েছিল। যার ফলে কোভিড থেকে সেরে ওঠার পর তাঁদের মধ্যে যখন লং কোভিডের উপসর্গ দেখা যায় সেসময় ফাইব্রোমায়ালজিয়াতেও আক্রান্ত হচ্ছেন তাঁরা। তবে কী কারণে ফাইব্রোমায়ালজিয়ায় কী কারণে আক্রান্ত হচ্ছেন সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কোনও কারণ পাওয়া যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি একটি জেনেটিক রোগ।

ফাইব্রোমায়ালজিয়ার উপসর্গ-

ফাইব্রোমায়ালজিয়ার অনেক উপসর্গ প্রকাশ হতে পারে। তার মধ্যে যে উপসর্গটি খুবই সাধারণ তা হল পেশিতে যন্ত্রণা। এর সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির ঘুম না হতে পারে, ক্লান্তি হতে পারে। সঙ্গে উদ্বেগ, মাথাব্যথা, হাত ও পায়ে অসাড়ত্ব  অনুভব হতে পারে।

ফাইব্রোমায়ালজিয়া থেকে কি সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়া সম্ভব?

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন ফাইব্রোমায়ালজিয়া থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। রোগের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন ভাবে এই রোগের চিকিসা করতে হবে। তবে সাধারণ ভাবে বেশ কয়েকটি নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা-

কী কী করতে হবে?

দৈনিক যোগ ব্যায়াম করতে হবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে যোগ ব্যায়াম করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ধ্যান বা মেডিটেশন (Meditation) করতে হবে।

শারীরিক বিভিন্ন থেরাপি (Physical Therapy) বা আকুপাংচার (Acupuncture) করতে এই সমস্যা থেকে সুরাহা পাওয়া সম্ভব।

নিয়মিত ব্যথার স্থানে বা গোটা শরীরে মাসাজ করতে হবে।

সুষম আহার করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কোভিড থেকে সেরে উঠতে সুষম আহার খুবই প্রয়োজন। প্রোটিন জাতীয় খাবারের পাশাপাশি কার্বোহাইড্রেট, ফ্যাট জাতীয় খাবার সঠিক পরিমাণে রাখতে হবে। প্রচুর সবজি খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

ধূমপান, মদ্যপান সম্পূর্ণভাবে বর্জন করতে হবে।

নির্দিষ্ট সময় ধরে ঘুমোতে হবে। কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা করে ঘুম দরকার।

তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার। একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকই এই রোগ থেকে মুক্তির সঠিক উপায় বলতে পারেন।

Published by:Debalina Datta
First published:

Tags: Coronavirus, Lifestyle

পরবর্তী খবর