DRDO’s Oral Drug: পাউডার জলে গুলে খেলেই কেল্লাফতে, কোভিড রোগীকে কী ভাবে ৩ দিনের মাথায় সুস্থ করে তুলছে DRDO-র ওরাল ড্রাগ 2-DG?

Photo Source: Twitter

ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনেরাল অফ ইন্ডিয়া (Drugs Controller General of India), সংক্ষেপে DCGI ১ মে থেকে সঙ্কটজনক রোগীদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছিল।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: অ্যাসিডের সমস্যা দূর করার পাউডার বা ORS পাউডার যেমন হয়, এটাও ঠিক তেমনই! স্যাশে খুলে নিয়ে এক গেলাস জলে মিশিয়ে নিলেই হল! তার পর সেটা পেটে যাওয়ার পর থেকেই দ্রুত শ্বাসকষ্ট কমতে শুরু করেছে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের। তিন দিনের মাথায় তাঁরা সেরে উঠছেন বলেও তথ্য পেশ করা হয়েছে সরকারি তরফে।

যে করোনাভাইরাসের মোকাবিলায় হিমসিম খাচ্ছে দেশ, ভ্যাকসিনের কার্যকারিতাও যেখানে প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট বলে প্রতিপন্ন হচ্ছে না, সেখানে এ হেন ওষুধের আবিষ্কার নিঃসন্দেহেই আশাজাগানো এক ব্যাপার। সোমবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং (Rajnath Singh) এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী ড. হর্ষ বর্ধন (Dr Harsh Vardhan) 2-deoxy-D-glucose বা সংক্ষেপে 2-DG নামের এই ওরাল ড্রাগের প্রথম ব্যাচ সারা দেশে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করে দিয়ে দেশের কৃতজ্ঞতাভাজন হয়েছেন। অবশ্য, ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনেরাল অফ ইন্ডিয়া (Drugs Controller General of India), সংক্ষেপে DCGI ১ মে থেকে সঙ্কটজনক রোগীদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছিল।

কারা তৈরি করেছে এই 2-DG ওরাল ড্রাগ?

রাজধানীর ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেসের (Institute of Nuclear Medicine and Allied Sciences) তরফে এই ওরাল ড্রাগ তৈরি করা হয়েছে। এটি ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (Defence Research and Development Organisation), সংক্ষেপে DRDO-র অধীন একটি ল্যাবরেটরি। এছাড়াও এই ওষুধ তৈরিতে হাত লাগিয়েছে হায়দরাবাদের ড. রেড্ডিজ ল্যাবরেটরিজ (Dr Reddy’s Laboratories), সংক্ষেপে DRL।

কী ভাবে এই ওষুধ কাজ করে?

করোনার প্রতিরোধে অনেক দিন ধরেই এমন কোনও ওষুধ তৈরির কথা ভাবা হচ্ছিল যা সরাসরি ফুসফুস তথা আক্রান্ত কোষগুলোর উপরে কাজ করে ভাইরাসের ধ্বংসলীলা প্রতিহত করতে পারবে। 2-DG বস্তুত সেই লক্ষ্যেই তৈরি করা হয়েছে। জানা গিয়েছে যে এই ওষুধের মলিকিউলগুলো শরীরে ভিতরে যাওয়ার পরে সরাসরি ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত কোষগুলোর উপরে কাজ করে, তাদের বৃদ্ধি প্রতিহত করে এবং পুরনো আক্রান্ত কোষগুলিকেও শক্তি সঞ্চয়ে বাধা দেয়। ফলে, সামগ্রিক ভাবেই ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কোষগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং রোগী সুস্থ হয়ে ওঠে।

কত দিন ট্রায়াল চলেছে এই ওরাল ড্রাগের?

২০২০ সালের এপ্রিল মাস থেকেই INMAS-DRDO-র বিজ্ঞানীরা হায়দরাবাদের সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি (Centre for Cellular and Molecular Biology), সংক্ষেপে CCMB-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে এর প্রথম ট্রায়ালটি শুরু করেন।

ওই বছরেই মে মাসে DCGI-এর অধীন সেন্ট্রাল ড্রাগস স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন (Central Drugs Standard Control Organization), সংক্ষেপে CDSCO করোনা-রোগীদের উপরে দ্বিতীয় ট্রায়াল পরিচালনা করে।

DRDO এবং তাদের ইন্ডাস্ট্রি পার্টনার DRL গত বছরের মে থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যেই দ্বিতীয় ট্রায়ালের আয়োজন করে। জানা গিয়েছে যে দ্বিতীয় ট্রায়ালের প্রথম পর্যায় দেশের ৬টি হাসপাতালে এবং দ্বিতীয় পর্যায় ১১টি হাসপাতালে পরিচালিত হয়েছিল।

এই দুই ট্রায়াল থেকে সংগৃহীত তথ্য মোতাবেকে DCGI ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ২০২১ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, গুজরাত, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, কর্নাটক আর তামিলনাড়ুর ২৭টি হাসপাতালের ২২০ জন কোভিড রোগীর উপরে এই ওরাল ড্রাগ প্রয়োগ করে। দেখা যায় যে দুই দিনের মাথাতেই তাদের শ্বাসকষ্ট কমে গিয়েছে এবং তিন দিনের মাথায় প্রায় সুস্থ হয়ে উঠছে রোগীরা। তাঁদের অক্সিজেনের উপরে নির্ভরশীলতা ক্রমশ কমেছে ৪২ থেকে ৩১ শতাংশ। ৬৫ বছরের উপরে বয়স যাঁদের, সেই সব রোগীর শরীরেও একই ভাবে কাজ করেছে 2-DG।

Published by:Siddhartha Sarkar
First published: