• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • Explained : অতি দ্রুত ওজন কমছে মানেই শরীরের মেদ ঝরছে, এই ধারণা কতটা সঠিক?

Explained : অতি দ্রুত ওজন কমছে মানেই শরীরের মেদ ঝরছে, এই ধারণা কতটা সঠিক?

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

Weight Loss : অনেক সময় দেখা যায় যে, স্বাস্থ্যকর ডায়েট মেনে এবং শারীরিক কসরত করে ওজন ধীরে ধীরে কমছে। সে ক্ষেত্রে বুঝতে হবে যে, শরীর থেকে মেদ ঝরছে।

  • Share this:

#কলকাতা: শরীরে একাধিক সমস্যার কারণ হতে পারে অতিরিক্ত ওজন। হার্টের সমস্যা থেকে শুরু করে কিডনি-- একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হন অনেকে। কিন্তু এর থেকে মুক্তি পেতে চান সকলেই। সুষম খাদ্য গ্রহণ থেকে শুরু করে শরীরচর্চা, বিভিন্ন প্রচেষ্টায় ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।আর তাতে শরীর থাকবে সুস্থ। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিন রুটিনমাফিক শরীর চর্চা করলে ওজন কমবে।

 

কিন্তু ওজন কমতে শুরু করলে প্রথম প্রথম দেখা যায়, ওজন দ্রুত কমছে, অথচ কিছু দিন পর থেকে আর ওজন কমছে না। এটা হওয়ার কারণ কী? আসলে দেহের ওজন কমার ক্ষেত্রে প্রথম দিকে মেদ ঝরে না, বরং শরীরের জলের ওজন কমতে থাকে। অন্য দিকে, অনেক সময় দেখা যায় যে, স্বাস্থ্যকর ডায়েট মেনে এবং শারীরিক কসরত করে ওজন ধীরে ধীরে কমছে। সে ক্ষেত্রে বুঝতে হবে যে, শরীর থেকে মেদ ঝরছে। অনেকেরই এই বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা থাকে না। তাই প্রথমেই জেনে নেব, আমাদের শরীরের জলের ওজন এবং মেদের পার্থক্যটা।

শরীরে জলের ওজন এবং মেদের ওজনের মধ্যে পার্থক্য:

 

যখন কেউ ওজন কমানোর বিষয়ে মনস্থির করেন এবং ওজন কমানোর লক্ষ্যে এগিয়ে যান, তখন সেই ব্যক্তি প্রথম প্রথম লক্ষ করেন যে, তাঁর ওজন কমছে এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর শরীরের ওজন নির্দিষ্ট মাত্রায় কমতে শুরু করে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা যায় যে, শরীরের ওজন অত্যধিক হারে কমতে শুরু করছে বা কমছে। এর কারণ, প্রথম দিকে যে পরিমাণ ওজন কমতে থাকে, তা আদতে জলের ওজন (Water weight)। ওজন কমানোর প্রক্রিয়ায় প্রথমে জলের ওজন কমে। কিন্তু শরীরের মেদের (Fat) পরিমাণ কমে না। মেদ যেমন অবস্থায় ছিল, তেমন অবস্থাতেই থাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কি এমন কোনও উপায় রয়েছে, যার মাধ্যমে কেউ সহজেই বুঝতে পারবেন এই বিষয়টা? অর্থাৎ কারওর শরীর থেকে জলের ওজন কমছে না শরীরে থাকা চর্বি কমার জেরে ওজন কমছে, সেটা তিনি বুঝবেন কী ভাবে? এই প্রতিবেদনে সেই বিষয়টি নিয়েই বিশদে আলোচনা করা হবে।

 

শরীরচর্চা করে শরীর থেকে জলের ওজন কমছে কিনা, তা বোঝার জন্য নির্দিষ্ট কোনও উপায় সেই অর্থে নেই। তবে যদি কারওর ওজন খুব দ্রুত বাড়ে-কমে এবং ওজন কমানোর চেষ্টা শুরুর পর যদি লক্ষ করা যায় যে, দ্রুত হারে ওজন কমছে, তা হলে বুঝে নিতে হবে সে ক্ষেত্রে জলের ওজন কমছে। আসলে মোটেই শরীরের চর্বি নষ্ট হচ্ছে না। ঠিক অন্য দিকটি যদি বিবেচনা করা যায় এবং দেখা যায় শরীরের ওজন অত্যন্ত ধীর গতিতে কমছে, তা হলে বুঝতে হবে যে, শরীরের চর্বি ঝরার ফলেই ওজন কমছে। এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর ওজন কমতে যেমন সময় লাগবে, তেমন ওজন কমার সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তিকেও রোগা দেখাবে।

আরও পড়ুন : শরীরচর্চা বন্ধ করে দিলে কী কী সমস্যা হতে পারে? জেনে নিয়ে সতর্ক হন এখনই!

 শরীরে জলের ওজন এবং ফ্যাট:

আমাদের শরীরের জলের ওজনের বিষয়ে আমরা প্রায় প্রত্যেকেই শুনেছি। ওজন মাপার কোনও যন্ত্রের মাধ্যমে ওজন করলে যে ওজন দেখা যায়, তা হল মোট ওজন। অর্থাৎ ওই ওজনের মধ্যে সংযুক্ত থাকে জল এবং মেদ বা চর্বির ওজন। অনেকে জানলে অবাক হবেন যে, আমাদের শরীরের মোট ওজনের বেশির ভাগ অংশই থাকে জলের ওজন হিসেবে। আর ওজন কমানোর শুরুর দিকে যে পরিমাণ ওজন কমে, তা হল জলের ওজন। চর্বির ওজন কমতে শুরু করে বেশ কয়েক দিন পর থেকে। যখন বিভিন্ন রকম শরীরচর্চা বা ব্যায়াম করা হয়, তখন শরীরের অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ হয়। এর ফলে গ্লাইকোজেন থেকে কিছুটা শক্তি সঞ্চয় করতে পারে শরীর। শর্করা যেখানে সঞ্চিত থাকে, তা হল গ্লাইকোজেন। গ্লাইকোজেন মূলত লিভার এবং শরীরের বিভিন্ন পেশিতে থাকে। প্রয়োজনের সময় লিভার ও পেশি থেকে তা বেরিয়ে আসে এবং প্রয়োজন মেটায়। তবে এই বিষয়ে জেনে রাখা দরকার যে, জল ধরে রাখতেও সক্ষম এই উপাদানটি। একটি গবেষণায় জানা গিয়েছে, এক গ্রাম গ্লাইকোজেনে প্রায় ৩ গ্রাম জল থাকে। শরীরচর্চার সময় বা জিম করার সময় শরীরের অত্যধিক পরিশ্রম হয়। সেই সময় গ্লাইকোজেনই ক্ষমতা জোগায়। কিন্তু তার পাশাপাশি গ্লাইকোজেনের মধ্যে থাকা জল ছেড়ে দেয়। এর জন্য জলের ওজন কমে যায় এবং শরীরের মোট ওজন অতি দ্রুত কমতে শুরু করে। কিন্তু আবার যখন গ্লাইকোজেন নতুন করে জল ধরে রাখতে শুরু করবে, তখন ওজন ফের বাড়তে শুরু করে।

চর্বি কমানো বনাম জলের ওজন কমানো:

 

শরীরের মোট ওজন অতি দ্রুত ওঠা-নামা করছে কি না, সেটা লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে শরীরের জলের ওজন। আর জলের ওজন বোঝার এটাই সহজ পথ। কারণ জলের ওজন কমে যাওয়া অত্যন্ত সাময়িক। দৈনিক শরীরচর্চার পরেই দেখা যাবে, ওজন কিছুটা কমেছে। আবার কিছু দিন পরে ওজন মাপালে দেখা যাবে, ওজন যেমন ছিল তেমনই রয়েছে। কারণ যে পরিমাণ জল শরীরে সঞ্চিত রয়েছে, তার উপর নির্ভর করে শরীরের মোট ওজন। এ ছাড়াও দৈনিক কত পরিমাণ জল পান করা হচ্ছে আর হরমোন কেমন কাজ করছে, তার উপরও নির্ভর করে শরীরের মোট ওজন নির্ভর করে। কিন্তু চর্বি বা মেদ যদি কমতে শুরু করে, তা হলে তা সময়সাপেক্ষ। অতি দ্রুত মেদ ঝরিয়ে ওজন কমানো সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন : টিকার সম্পূর্ণ ডোজ নিয়েও কোভিডে আক্রান্ত, কাদের সংক্রমণের সম্ভাবনা সব চেয়ে বেশি?

 

ওজন কমানোর সময়সীমা:

 

ওজন কিন্তু রাতারাতি কমানো সম্ভব নয়। এই প্রক্রিয়াটি যথেষ্ট সময় সাপেক্ষ একটি বিষয়। যদি কেউ ওজন কমানোর প্রক্রিয়া শুরু করেন এবং রাতারাতি ১ কেজি ওজন ঝরিয়ে ফেলেন, তা হলে বুঝতে হবে, যে পরিমাণ ওজন কমেছে, তা আদতে শরীরে থাকা জলের ওজন। তবে শরীর থেকে মেদ কমতে শুরু করলে তা বুঝতে কমপক্ষে ১ সপ্তাহ সময় লাগবে। ১ মাসের মধ্যে শরীরের মোট সঞ্চিত চর্বির ১ শতাংশ কমানো সম্ভব। সপ্তাহের হিসেব করলে দেখা যাবে যে, এক সপ্তাহে সর্বাধিক ১ থেকে ১.৫ কেজি ওজন কমানো সম্ভব। ঠিক একই ভাবে এক দিনে ওজন বাড়ানো সম্ভব নয়।

 

শরীরচর্চার পাশাপাশি সঠিক আহারের পরামর্শও দেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ওজন কমানোর জন্য যেমন নিয়মিত শরীরচর্চা করা দরকার, তেমন নিয়মিত সুষম খাবারও খাওয়া উচিত। খাদ্যতালিকা থেকে চর্বি জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে। রেড মিট, অতিরিক্ত ভাজাভুজি, বাইরের মশলাদার খাবার যতটা সম্ভব কম খেতে হবে। সবুজ শাক-সবজি খাওয়ার বিষয়ে জোর দেওয়ার কথাও বলেন তাঁরা। এর পাশাপাশি ঘি, মাখন, ফ্যাট জাতীয় খাবার, দুধ ইত্যাদি খাওয়া কমানোরও পরামর্শ দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা।

Published by:Arpita Roy Chowdhury
First published: