• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • Omicron Symptoms: করোনার অন্য প্রজাতির তুলনায় ওমিক্রনের উপসর্গগুলি কি তাড়াতাড়ি দেখা যায়?

Omicron Symptoms: করোনার অন্য প্রজাতির তুলনায় ওমিক্রনের উপসর্গগুলি কি তাড়াতাড়ি দেখা যায়?

Omicron Symptom: ওমিক্রনে আক্রান্ত হেল কী কী উপসর্গ দেখা যাচ্ছে সবার আগে! জেনে নিন।

Omicron Symptom: ওমিক্রনে আক্রান্ত হেল কী কী উপসর্গ দেখা যাচ্ছে সবার আগে! জেনে নিন।

Omicron Symptom: ওমিক্রনে আক্রান্ত হেল কী কী উপসর্গ দেখা যাচ্ছে সবার আগে! জেনে নিন।

  • Share this:

#নয়াদিল্লি: করোনাভাইরাসের নতুন ওমিক্রন (Omicron) প্রজাতি দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য আধিকারিকরা যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। প্রত্যেককে এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভারতে (India) আজ পর্যন্ত ২১৩ জনের শরীরে ওমিক্রনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ব্রিটেনে (Britain) হু-হু করে বাড়ছে দৈনিক সংক্রমণ। আশঙ্কা করা হচ্ছে দৈনিক সংক্রমণের সংখ্যা আগের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে।

সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি: যদিও আমরা সবাই এখন কোভিডের (Covid-19) সাধারণ উপসর্গগুলি, যেমন জ্বর, ক্লান্তি, ক্রমাগত কাশি এবং গন্ধ ও স্বাদ না পাওয়া সম্পর্কে সচেতন, তবে বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে ওমিক্রন প্রজাতিতে আক্রান্ত হলে উপসর্গগুলি ভিন্ন এবং অস্বাভাবিক হতে পারে।

আরও পড়ুন- WHO- এর ছাড়পত্র 'কোভোভ্যাক্স'-এ, কেন এই টিকা কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মাইলফলক?

সাউথ আফ্রিকান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (South African Medical Association) চেয়ারপার্সন অ্যাঞ্জেলিক কোয়েটজি (Angelique Coetzee) বলেছেন যে ওমিক্রনে হালকা সংক্রমণ হয়। আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুতর কোনও উপসর্গ দেখা যাচ্ছে না।

যাদের ওমিক্রনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, তারা হালকা জ্বর, গলা ব্যথা, ক্লান্তি এবং গায়ে ব্যথার কথা বলেছে। সাউথ আফ্রিকার স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, রাতের দিকে ঘাম হওয়া ও গায়ে ব্যথা ওমিক্রন সংক্রমণের উপসর্গ হতে পারে।

সাধারণভাবে কোভিডের ইনকিউবেশন পিরিয়ড: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, কেউ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে উপসর্গ প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচ থেকে ছয় দিন সময় লাগে। তবে আবার ১৪ দিন পর্যন্ত সময়ও নিতে পারে।

আরও পড়ুন- অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহারে আতঙ্কিত চিকিৎসক-মহল, সামনেই ওঁত পেতে বিপদ

এটা বিশ্বাস করা হয় যে কোভিড-সংক্রমিত ব্যক্তিরা উপসর্গ শুরু হওয়ার প্রায় দুই দিন আগে থেকে এবং পরবর্তী ১০ দিন পর্যন্ত অন্য়দের মধ্যে ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়াতে পারে। উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক, এটা সংক্রমণ বিস্তারের পথে বাধা হয় না। অর্থাৎ উপসর্গহীন আক্রান্তরাও সংক্রমণ ছড়াতে পারে।

ওমিক্রন প্রজাতি কি করোনার অন্যান্য প্রজাতিগুলির চেয়ে বেশি মারাত্মক?

বর্তমানে, নতুন প্রজাতির একাধিক মিউটেশন (Mutations) রয়েছে, স্পাইক প্রোটিনেই রয়েছে তিরিশের বেশি মিউটেশন। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক, তা শুধুমাত্র সংক্রমণের ক্ষেত্রে নয়, টিকার (Vaccine) কার্যকারিতার ক্ষেত্রেও। বর্তমানে উপলব্ধ কোভিড টিকাগুলি নতুন প্রজাতির বিরুদ্ধে ততটা কার্যকর প্রমাণিত নাও হতে পারে যতটা হওয়া উচিত। তবে, টিকা কার্যকর হবে কি না তা শুধুমাত্র সময়ই বলবে।

নতুন প্রজাতি সম্পর্কে আরও তথ্য জানার প্রয়োজন রয়েছে। তবে, মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক জানিয়েছে, ডেল্টা (Delta) প্রজাতির তুলনায় আরও তিনগুণ বেশি সংক্রামক করোনার নতুন স্ট্রেন ওমিক্রন।

এক বিবৃতিতে মন্ত্রক জানিয়েছে, "বর্তমান বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রমাণের উপরে ভিত্তি করে বলা যায়, ওমিক্রনের সংক্রমণ ক্ষমতা ডেল্টার তুলনায় তিনগুণ বেশি। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এখনও ডেল্টা আক্রান্তের সন্ধান রয়েছে। সেকারণেই রাজ্য স্তর, জেলা স্তর ও স্থানীয়ভাবে এই প্রজাতির মোকাবিলায় কঠোর বিধিনিয়ম আরোপ করুক প্রশাসন।"

পরিস্থিতি হাতের বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার আগে সচেতন হোক রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি এমনটাই চাইছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

ডেল্টা প্রজাতির সঙ্গে ওমিক্রনের পার্থক্য:

এক বিবৃতিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, "কোভিড-১৯ অতিমারীতে ক্ষতিকারক পরিবর্তনের ইঙ্গিত উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে। তাই বি.১.১.৫২৯-কে (B.1.1.529 ) উদ্বেগের একটি প্রজাতি (Variant Of Concern) হিসাবে মনোনীত করা হয়েছে। যার নাম ওমিক্রন। যদি ওমিক্রন দ্বারা কোভিডের আরেকটি বড় ঢেউ ঘটে, তাহলে পরিণতি গুরুতর হতে পারে।"

ডেল্টা প্রজাতির (Delta Variant) কারণে ভারতে দ্বিতীয় ঢেউ এসেছিল। তবে, নতুন এই প্রজাতিটির স্পাইক প্রোটিনে আরও মিউটেশন রয়েছে। করোনাভাইরাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই স্পাইক প্রোটিন। এর সাহায্যেই মানবকোষে প্রবেশ করে ভাইরাস।

ওমিক্রনের উপসর্গগুলি কি অন্যান্য প্রজাতির তুলনায় তাড়াতাড়ি দেখা যায়?

ওমিক্রনের সংক্রমণ অল্প সময়ের মধ্যে বিশ্বজুড়ে বেড়েছে। নতুন প্রজাতির উপসর্গগুলি কিছুটা আলাদা বলেও বলা হচ্ছে। কিন্তু এর মানে কি নতুন প্রজাতির ইনকিউবেশন পিরিয়ড স্বাভাবিকের চেয়ে কম? এই বিষয়ে জানতে গবেষণা এখনও চলছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ওমিক্রনের উপসর্গগুলি আগের প্রজাতিগুলির তুলনায় তাড়াতাড়ি দেখা যেতে পারে। ব্রিটেনের স্বাস্থ্য সচিব সাজিদ জাভিদের মতে, "স্বাস্থ্য সংস্থাগুলির সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ থেকে জানা যায় যে ডেল্টা প্রজাতির তুলনায় ওমিক্রন প্রজাতির সংক্রমণ এবং সংক্রামকতার মধ্যে সময় কম হতে পারে।" অর্থাৎ ওমিক্রন ছোট ইনকিউবেশন পিরিয়ডের সম্ভাবনাকে উচ্চতর সংক্রমণ হারের পিছনে একটি কারণ বলা হয়।

পরবর্তী ধাপ: কোভিড সংক্রমিত একজন ব্যক্তি উপসর্গ দেখা দেওয়ার প্রায় ২ দিন আগে এবং উপসর্গ দেখা দেওয়ার ১০ দিন পর্যন্ত সংক্রামক থাকেন। যার অর্থ এই সংক্রামক উইন্ডো চলাকালীন সংক্রমিত ব্যক্তি অন্য যে কাউকে সংক্রমিত করতে পারে। তাই যদিও কোনও কোভিড-সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শে কেউ আসে, তাহলে অবশ্যই কোয়ারান্টিন করতে হবে ও টেস্ট করাতে হবে।

রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কারও সংস্পর্শে যাওয়া যাবে না। রিপোর্ট পজিটিভ আসলে আইসোলেশনে যেতে হবে। এই সময়ে উপসর্গগুলির প্রতি নজর রাখতে হবে। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, অক্সিজেন লেভেল কম থাকলে অবিলম্বে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।

ওমিক্রন কি সত্যিই টিকার কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করবে?

বর্তমানে, নতুন প্রজাতির একাধিক মিউটেশন রয়েছে, স্পাইক প্রোটিনেই রয়েছে তিরিশের বেশি মিউটেশন। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক, তা শুধুমাত্র সংক্রমণের ক্ষেত্রে নয়, টিকার কার্যকারিতার ক্ষেত্রেও।

এখনও পর্যন্ত প্রকাশিত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে আইসিএমআর (ICMR)-র প্রধান চিকিৎসক সমীরণ পাণ্ডা (Samiran Panda) সম্প্রতি জানিয়েছেন যে বর্তমানে উপলব্ধ কোভিড টিকাগুলি নতুন প্রজাতির বিরুদ্ধে ততটা কার্যকর প্রমাণিত নাও হতে পারে যতটা হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেছেন যে টিকা কার্যকর হবে কি না তা শুধুমাত্র সময়ই বলবে। নতুন প্রজাতি সম্পর্কে আরও তথ্য জানার প্রয়োজন রয়েছে।

কোভিড-উপযুক্ত আচরণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ:

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আমাদের জীবনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। মানুষ অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। তাই নতুন প্রজাতি সামনে আসার পর কোভিড উপযুক্ত আচরণ (Covid-Appropriate Behaviour) মেনে চলা আগের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

টিকা নেওয়া ছাড়াও মাস্ক পরা, যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখা, কোভিড উপযুক্ত আচরণ অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতিমধ্যেই ভারতে থাবা বসিয়েছে ওমিক্রন। তাই আমাদের অবশ্যই সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

ওমিক্রন প্রজাতির আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দেশগুলিকে টিকাকরণে গতি বাড়াতে বলেছে। সরকারি তরফে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নজরদারি বাড়াতে হবে। নতুন করে উপযুক্ত কোভিড বিধিনিষেধ চাপাতে হবে।

বর্তমানে, ওমিক্রন প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক দেশই ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। দিল্লি এইমস-র ডিরেক্টর রণদীপ গুলেরিয়া বলেছেন, "ওমিক্রন খুবই সংক্রমণযোগ্য প্রজাতি। নিজেদের রক্ষা করার জন্য আমাদের দু'টি জিনিস করতে হবে, প্রথমটি হল টিকা নেওয়া এবং দ্বিতীয়টি হল কোভিডের উপযুক্ত আচরণ মেনে চলা।"

Published by:Suman Majumder
First published: