• Home
  • »
  • News
  • »
  • explained
  • »
  • Air Pollution | Explained : ঘরে-বাইরে বায়ুদূষণের জের, ক্রমেই বাড়ছে নিউমোনিয়া-সহ শ্বাসজনিত রোগের আশঙ্কা

Air Pollution | Explained : ঘরে-বাইরে বায়ুদূষণের জের, ক্রমেই বাড়ছে নিউমোনিয়া-সহ শ্বাসজনিত রোগের আশঙ্কা

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

Air Pollution | Explained : বায়ুর মান খারাপ হওয়ার কারণে হাঁপানি, নিউমোনিয়ার মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে।

  • Share this:

#কলকাতা: কোভিড পরিস্থিতির মধ্যেই বায়ুদূষণের (Air Pollution) চোখরাঙানি! বায়ুদূষণ যে হারে উত্তরোত্তর বাড়ছে, তাতে শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যায় (Respiratory Problems) আক্রান্ত হচ্ছে বহু মানুষ। আর দিল্লি ও তার আশপাশের অঞ্চলে প্রতি বছর এই সময়টায় দূষণ যেন একটা রুটিন হয়ে ওঠে। ঠিক দীপাবলির পর বাজি পোড়ানো এবং আশপাশের রাজ্যে চাষের খেতের আগাছা পোড়ানোর কারণে যে ধোঁয়া তৈরি হয়, তখন তার সঙ্গে কুয়াশা মিশে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। আর এই ধোঁয়াশার কারণে প্রতি বছর দিল্লির অবস্থা সঙ্গীন হয়ে ওঠে। কমতে থাকে দৃশ্যমানতা, ফলে সকালবেলাতেও নেমে আসে সন্ধ্যেবেলার মতো অন্ধকার। শুধু তা-ই নয়, এমন অবস্থায় শ্বাস নেওয়াও মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। আর এই বছর তো পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল, যা আগের বছরগুলির পরিস্থিতিকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। বায়ুর মান এতটাই খারাপ ছিল যে, স্কুল-কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং সরকারি দফতরের কর্মীদের ওয়ার্ক ফ্রম হোমের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

তবে যে জিনিসটা বেশি ভাবাচ্ছে, সেটা হল- অন্দরের বায়ুদূষণ। অর্থাৎ বাইরের সঙ্গে সঙ্গে ঘরের ভিতরেরও বাতাস দূষিত হয়ে উঠছে। ফলে এই দুই কারণে শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। এমনকী নিউমোনিয়ার (Pneumonia) আশঙ্কাও বাড়ছে।

বায়ুদূষণ কি নিউমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে?

সাধারণ ভাবে বায়ুদূষণের জেরে নানান ধরনের অসুখের আশঙ্কা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে বায়ুর মান খারাপ হওয়ার কারণে হাঁপানি, নিউমোনিয়ার মতো রোগের প্রকোপ বাড়ছে। এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার পিছনে শুধুমাত্র ভাইরাস অথবা ব্যাকটেরিয়াই দায়ী নয়। বাতাসে উপস্থিত দূষণকারী উপাদান বা পলিউট্যান্টের কারণেও মানবদেহের ফুসফুসে প্রদাহজনিত সমস্যা বাড়ছে। সময়ে চিকিৎসা না-করালে এর জেরে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। তাই জেনে নেওয়া উচিত যে, কী ভাবে বায়ুদূষণের মোকাবিলা করতে সতর্ক থাকতে হবে।

আরো পড়ুন- শীতে ওজন কমাতে হিমশিম খেতে হবে না! রোজ সকালে এক গ্লাস খেলেই বাজিমাত

নিউমোনিয়া কী এবং এটা কী ভাবে ছড়িয়ে পড়ে?

নিউমোনিয়া হল এক ধরনের সংক্রমণ। যার জেরে ফুসফুসে উপস্থিত বায়ু থলি বা অ্যালভিওলাইগুলিতে প্রদাহজনিত সমস্যা দেখা দেয় এবং ফ্লুয়িড জমতে শুরু করে। আসলে অ্যালভিওলাই হল প্রাথমিক কার্যকরী ইউনিট। ফলে ওই বায়ু থলিতে যখন মারাত্মক প্রদাহ হয়, তখন তার জেরে শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত জটিলতা তৈরি হয় এবং রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে সমস্যা দেখা দেয়। তবে সাধারণত যাঁদের শ্বাসজনিত সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। বিশেষ করে এটা ছোট শিশু অথবা প্রবীণ মানে পঁয়ষট্টির উপর যাঁদের বয়স, তাঁদের এই রোগ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

এ বার নিউমোনিয়ার মতো সংক্রমণ হয় সাধারণত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া এবং ফাঙ্গাসের কারণে। শুধু তা-ই নয়, কোনও সারফেসের সংস্পর্শে এলেও সেখান থেকে ভাইরাস এবং প্যাথোজেনের জেরে এই সংক্রমণ হতে পারে। আসলে ভাইরাস এবং প্যাথোজেন বাতাসে ঘুরে বেড়ায় এবং তার জেরে বাতাস সংক্রমিত হতে শুরু করে।

বায়ুদূষণ এবং নিউমোনিয়া কী ভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত?

নিঃসন্দেহে নিউমোনিয়া একটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ শ্বাসজনিত সংক্রমণ। ফলে বায়ু দূষণের মাত্রা বাড়লে নিউমোনিয়ার আশঙ্কাও বাড়তে শুরু করে। অনেকে হয়তো ভাবেন যে, সংক্রমণ এড়াতে ঘরে থাকাই শ্রেয়। কিন্তু বাইরের সঙ্গে সঙ্গে ঘরেও দূষিত বাতাস ঘোরাফেরা করে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বায়ুদূষণের সময় নিউমোনিয়া এবং মারাত্মক শ্বাসজনিত সমস্যার আশঙ্কা অনেকাংশে বেড়ে যায়। আর যা প্রাণঘাতীও হয়ে উঠতে পারে।

আরও পড়ুন- শীতে গর্ভবতী হলে প্রয়োজন অতিরিক্ত সতর্কতা! সুস্থ থাকতে এই ৬টি বিষয় মেনে চলুন

দূষণের জেরে শুধুমাত্র শ্বাসজনিত সমস্যা এবং ফ্লু-এর মতো সংক্রমণ বাড়েই না, এর কারণে দেহের ইমিউনিটিও কমতে শুরু করে। এ ছাড়াও বাতাসে উপস্থিত থাকা নানান ধরনের দূষণকারী উপাদানের কারণে ফুসফুস এবং শ্বাসনালিতে প্রদাহ শুরু হয়। আর ইমিউন সেল বা ইমিউন কোষের কার্যকারিতা ব্যাহত হতে থাকে। আসলে এই ইমিউন কোষগুলিই প্যাথোজেন এবং শ্বাসনালির প্রদাহের সঙ্গে লড়াই করে।

মারাত্মক দূষণের মাত্রার কারণে শ্বাসনালির ফিল্ট্রেশন মেকানিজম এবং বায়ু চলাচলের পথ ব্যাহত হয়। যার ফলে লোয়ার রেসপিরেটরি ইনফেকশন শুরু হয়ে যায়।

নিউমোনিয়া এবং এই রোগ সংক্রান্ত জটিলতা কাদের ক্ষেত্রে সব চেয়ে বেশি?

নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে জীবন সংশয়ের ঝুঁকি থেকে যায়। তাই যাঁদের আগে থেকেই শ্বাসজনিত সমস্যা রয়েছে, তাঁদের এই দূষণের জন্য সতর্ক হতে হবে। কারণ দূষণের জেরে তাঁদের জটিল উপসর্গ দেখা দিতে পারে এবং ফুসফুসের সমস্যাও দেখা দেয়। নিউমোনিয়ার জেরে হাসপাতালে ভর্তির হার খুবই বেশি এবং নিম্নলিখিত বয়সের মানুষদের সাবধান থাকতে হবে।

পাঁচ বছরের কম শিশু

যাঁদের বয়স ৬৫ বছরের বেশি

অন্তঃসত্ত্বা মহিলা

যাঁদের মারাত্মক শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত সমস্যা রয়েছে

সারা বিশ্বে শিশু মৃত্যুর কারণ হিসেবে নিউমোনিয়াকেই দায়ী করা হয়ে থাকে। তাই বায়ুদূষণের এই পরিস্থিতিতে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

কী কী উপসর্গ দেখে নিউমোনিয়া শনাক্ত করা যায়?

ঝুঁকির মাত্রা, সংক্রমণের পর্যায় অনুসারে বুঝতে হবে নিউমোনিয়া হয়েছে কি না। কখনও কখনও শুরুর দিকে এই রোগ মৃদু থাকে এবং পরে মারাত্মক ভাবে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। শ্বাসকষ্টের সঙ্গে, বুকে কফ জমা, গলায় সংক্রমণ-সহ নিম্নোক্ত উপসর্গগুলি দেখা যায়।

ঠাণ্ডা লাগা, জ্বর

কফের সঙ্গে কাশি

শ্বাসকষ্ট

শ্বাসপ্রশ্বাস অথবা কাশির সময় বুকের ব্যথা

গা-গোলানো, বমি

ক্লান্তি

জোরে জোরে শ্বাস বা হুইজিং (শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়)

দূষণের সময় নিজের শ্বাসযন্ত্রের স্বাস্থ্যের কী ভাবে খেয়াল রাখা উচিত?

আগেই বলা হয়েছে যে, যাঁদের শ্বাসজনিত অথবা ফুসফুসের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তবে তার মানে এটা নয় যে, যাঁদের তেমন কোনও সমস্যা নেই, তাঁদের ঝুঁকি একেবারেই নেই। আসলে বায়ুদূষণের কারণে শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ করাটাই সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। শ্বাসকষ্ট অনেক রকম আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয় এবং স্বাস্থ্যের নানান রকম ক্ষতিও করতে পারে। তাই দূষণের প্রভাব রুখতে এবং নিউমোনিয়া-সহ শ্বাসজনিত উপসর্গের জটিলতা এড়াতে কিছু সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। জেনে নেওয়া যাক, সেই সতর্কতাগুলির বিষয়ে।

সব সময় মাস্ক (তিন স্তর বিশিষ্ট কাপড়ের মাস্ক অথবা এন-৯৫ মাস্ক) পরে তবেই বাইরে বেরোতে হবে।

ঘরের ধুলো, বায়ু ছিদ্র (Air Vents) সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে, যাতে ঘরের ভিতরের বাতাসও বিশুদ্ধ থাকে।

ভোরের দিকে বাইরে বেরোনোর অভ্যেস এড়িয়ে চলতে হবে। শুধু তা-ই নয়, মারাত্মক কো-মর্বিডিটি থাকলেও ওই সময় বাইরে বেরোনো উচিত নয়।

যে হেতু নিউমোনিয়ার অন্যতম কারণ হল ফ্লু, তাই ঝুঁকি কমাতে ভ্যাকসিন নিতে হবে।

ধূমপানের মতো অভ্যেস ত্যাগ করতে হবে।

স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে হবে এবং ইমিউনিটি বাড়াতে হবে।

নিয়মিত ভাবে স্টিম ইনহেলেশন, উষ্ণ গরম জলে গার্গল এবং ডিটক্স পানীয় খাওয়া অভ্যেস করে নিতে হবে।

যদি উপসর্গ দেখা দেয়, তা হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে।

Published by:Swaralipi Dasgupta
First published: