corona virus btn
corona virus btn
Loading

‘ডিপ্রেশন হলে ছাদে গিয়ে একা একা বেবির সঙ্গে কথা বলতাম’, ন’মাসের অনুভূতি শেয়ার করলেন অঙ্কিতা

‘ডিপ্রেশন হলে ছাদে গিয়ে একা একা বেবির সঙ্গে কথা বলতাম’, ন’মাসের অনুভূতি শেয়ার করলেন অঙ্কিতা

‘‘মা হওয়ার এই সময়টা মা’কে কাছে পেলাম না । ঘরের চার দেওয়ালের মধ্যে থেকে ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম । ভাবতাম সৌমিত্রও আমাকে ভালবাসে না...... কেউ ভালবাসে না আমাকে।’’

  • Share this:

এই সময়টা প্রতিটা মেয়ের কাছেই খুব স্পেশ্যাল, খুব আলাদা হয় । যেন মনে হয় গোটা পৃথিবী একদিকে, আর আমার সন্তান একদিকে । নিজের ভিতরে যে প্রাণটা একটু একটু করে গড়ে উঠছে, কখন যেন সেই হয়ে ওঠে মায়ের অস্তিত্ব, মায়ের প্রাণ ভোমরা । তার উপর প্রথম সন্তান, মায়ের কাছে সবসময়ই বিশেষ হয় । একজন নারী’কে প্রথমবার পূর্ণতা দেয় সে । তবে করোনা পরিস্থিতিতে প্রেগন্যান্সি, সাধারণ সময়ের থেকে অনেক আলাদা । সব মিলিয়ে এই সময়টা কেমন কাটল ‘জড়োয়ার ঝুমকো’, ‘ভূমিকন্যা’-খ্যাত নায়িকা অঙ্কিতা মজুমদারের । কেমন অভিজ্ঞতা হল এই ন’মাসের... সেই গল্পই ভাগ করে নিলেন তিনি । শেয়ার করলেন প্রেগন্যান্সির কিছু অদেখা ছবিও । 

#গুয়াহাটি: প্রথমেই বলব খুব টেন্সড লাগছে । কারণ সময় এগিয়ে আসছে দ্রুত । বুঝতে পারছি আমাদের জীবনে খুব শীঘ্রই এক ছোট্ট প্রাণের আগমণ ঘটবে, যে কোনও দিন, যে কোনও সময় । আর তার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি মনে মনে । মা হিসাবে নিজেকে আরও পরিপূর্ণরূপে তৈরি করার চেষ্টা করছি আমি । ও হাসলে কী করব, কাঁদলে কী করব...ও তো বলতে পারবে না...কী করব তখন । শুধু এ সবই মনে হচ্ছে ।

কারণ ডেট একেবারে এগিয়ে এসেছে । শরীরটাও আজকাল খুব আনচান করছে, খানিকটা অস্বস্তিবোধ হচ্ছে । আজই ডাক্তারবাবু বাড়ি এসে দেখে গিয়েছেন আমাকে । বলছেন, বেবি একেবারে ম্যাচিওর করে গিয়েছে । যে কোনও সময় ডেলিভারি হতে পারে আমার। আমার এখন যা যা লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, সবই অ্যাডভান্স ডেলিভারির সিম্পটম । সাধের (২৮ অগাস্ট) পর থেকেই আমার শরীরটা একটু একটু খারাপ হতে শুরু করেছে । মাঝেমধ্যেই পেটে ব্যথা, মাথা ঘোরা বা আরও নানারকম সমস্যা হচ্ছে । শেষ মুহূর্তের কিছু টেস্ট দিয়েছিলেন ডাক্তারবাবু । আশার বিষয়, সেগুলো সব ঠিকই আছে । কিন্তু এখন একটু নার্ভাস লাগছে । ১০ সেপ্টেম্বর ডেট ফাইনাল করা হয়েছে । দেখা যাক কী হয়...

 সাধের দিন গুয়াহাটিতে শ্বশুরবাড়িতে আঙ্কিতা ।
সাধের দিন গুয়াহাটিতে শ্বশুরবাড়িতে আঙ্কিতা ।

গোটা প্রেগন্যান্সি পিরিয়ডের অভিজ্ঞতা বলতে বসলে হয়তো শেষ হবে না । আমি কনসিভ করেছি, সেটা প্রথম জানতে পারি জানুয়ারিতে । ব্যাস শুরু হয়ে যায় প্ল্যান করা । তখন তো পরিস্থিতি সব স্বাভাবিক ছিল । আগে ডায়েটের জন্য খাওয়া-দাওয়ায় বাধানিষেধ ছিল । প্রথম প্রেগন্যান্সিতে খুব খুশি হয়েছিলাম । প্ল্যান করলাম এ বার অনেক কিছু খেতে পারব, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে রেস্তোরাঁয় গিয়ে হুল্লোড় করব । এর মধ্যে সবচেয়ে স্পেশ্যাল ছিল আমাদের বেবিমুনের প্ল্যান । ৪-৫ মাসে আমি আর সৌমিত্র ঘুরতে যাব ঠিক করেছিলাম । সব পরিকল্পনা ভেস্তে গেল করোনার জন্য।

আমরা গৌহাটি এসেছিলাম আমার শ্বশুরমশাই আর শাশুড়ি মা’কে সুখবরটা দিতে । সেখানেই আটকে গেলাম আমরা । লকডাউন শুরু হয়ে গেল। আমার প্রেগন্যান্সির জন্য এত সুন্দর গৌহাটিটাও একটু ঘুরে দেখতে পারিনি । এই সময়টা আস্তে আস্তে খুব ডিপ্রেসড হয়ে গেলাম আমি । কিছুই ভাল লাগত না। ঘরবন্দী জীবন, সমস্ত পরিকল্পনাগুলো আস্তে আস্তে শেষ হয়ে যাচ্ছে । মনে হত সৌমিত্রও আমাকে ভালবাসে না । আমার শ্বশুরবাড়ির ছাদ থেকেই পাহাড় দেখা যায় । অপূর্ব সুন্দর দৃশ্য । মন খারাপ হলে একা একাই চলে যেতাম ছাদে । বেবির সঙ্গে কথা বলতাম আমি । তখন আস্তে আস্তে মনটা ভাল হয়ে যেত । কিন্তু ২৫ সপ্তাহ পর থেকে একটু একটু করে সবকিছু বদলাতে থাকে । যখন থেকে বেবির মুভমেন্টগুলো বুঝতে শুরু করি, সমস্ত যন্ত্রণা ভুলে গেলাম ।

 চকোলেট খেতে খেতে ওয়েব সিরিজে মগ্ন ।
চকোলেট খেতে খেতে ওয়েব সিরিজে মগ্ন ।

কিন্তু করোনার কারণে শুরু থেকেই সবকিছুতে খুব সাবধনতা অবলম্বন করতে হয়েছে । এই অবস্থাতে বাড়িতে যাঁরা কাজে আমাদের সাহায্য করতেন সবাইকে ছুটি দিয়ে দিতে হয় । আমার সুরক্ষার কথা ভেবেই শ্বশুর-শ্বাশুড়ি এটা করেছিলেন । তবে ভাল ব্যাপর হল নতুন মা-বাবার সঙ্গে এই ক’টা দিনে দারুণ একটা বন্ডিং তৈরি হয়ে গিয়েছে । আগে এই সুযোগটা হয়নি খুব একটা ।

তবে ইচ্ছা আছে খুব শীঘ্রই কলকাতা ফেরার । এ বছর না ফিরলেও পরের বছরের শুরুতেই হয়তো ফিরে যাব । কাজেও যোগ দেব খুব শীঘ্রই । কারণ কাজটা’কে ভীষণ মিস করছি । এখন শুধু চাই ভালয় ভালয় সে চলে আসুক আমাদের কাছে । ছেলে হোক বা মেয়ে, কোনও কিছুই চাহিদা নেই আমার । শুধু যেন সে ভাল মানুষ হয়... আর যেন তার মনে জীবনকে জানার কৌতূহলটা থাকে । আমাদের দেশ, বিশ্ব, পারিপার্শ্বিক পরিবেশকে চিনতে যেন আগ্রহী হয় সে । আর সত্যি বলতে আমি একদম চাই না সে অভিনয়ে আসুক, সৌমিত্রও চায় না ওঁর প্রফেশনে যাক । চাই শুধু বুদ্ধিদীপ্ত হোক সে ।

 বিয়ের দিন আঙ্কিতা-সৌমিত্র ।
বিয়ের দিন আঙ্কিতা-সৌমিত্র ।

আর সৌমিত্র’র কথা আর কী বলব । সবাই বলে আমরা নাকি খুব তাড়াতাড়ি বাবা-মা হচ্ছি । বিয়ের এক বছরের মধ্যেই আমি কনসিভ করেছি । আগে ভীষণ ভয় পেত এসব নিয়ে । অত ছোট একটা মানুষকে কীভাবে কোলে নেবে বুঝে পারত না । কাঁদলে কী করবে, আমাকে জিজ্ঞাসা করত । ওঁর মধ্যে অনেক প্রশ্ন । আর এ সব খুব এনজয় করেছি আমি । এখন শুধু দু’জনে মিলে নতুন অতিথির অপেক্ষায় ।

 উকুলেলে বাজিয়ে মন ভাল রাখার চেষ্টা ।
উকুলেলে বাজিয়ে মন ভাল রাখার চেষ্টা ।

সে দিন সৌমিত্র’কে মজা করে বলছিলাম, আর তো বেশিদিন নেই । চলো আরও একটু প্রেমটা করেনি। এরপর তো আমাদের মধ্যে আর একজন এসে যাবে, তখন হয়তো সুযোগ পাব না । এখন শুধু নতুন অতিথি আসার অপেক্ষায় দিন গুণছি আমরা ।

(ছবি সৌজন্যে: অঙ্কিতা মজুমদার পাল)

Published by: Simli Raha
First published: September 2, 2020, 1:34 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर