বিনোদন

?>
corona virus btn
corona virus btn
Loading

নেগেটিভ চরিত্র করেও যে এত ভালবাসা পাওয়া যায়, সেটা ‘পদ্মমণি’ না করলে বুঝতামই না: দিয়া

নেগেটিভ চরিত্র করেও যে এত ভালবাসা পাওয়া যায়, সেটা ‘পদ্মমণি’ না করলে বুঝতামই না: দিয়া

‘‘আমাদের মা, মানে দিতিপ্রিয়া আমাদের থেকে এত ছোট, যে ওঁকে বোনের মতোই ট্রিট করি আমরা । তবে আমি পদ্মমণির মতো জেদি ।’’

  • Share this:

স্বীকার করলেন রাসমণি’র বড় খুকি, অর্থাৎ পদ্মমণির মতোই তিনিও একটু জেদি । কিন্তু আড্ডা দিতে বসে মিষ্টি মেয়ে দিয়া চক্রবর্তী ভুলেই গেলেন তাঁর তারকা সুলভ গাম্ভীর্য্য । ভিতরের প্রাণচ্ছ্বল, হাসিখুশি মেয়েটা মন খুলল সিমলি রাহার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ।

প্র: শুরুটা তো অনেক ছোটবেলায় হয়েছিল, কি করে পুরোটা সামাল দিতে...মানে পড়াশোনা, অভিনয় সবটা একসঙ্গে কী করে সামলাতে?

উ: একদমই । ক্লাস সেভেন থেকে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু আমার । কিন্তু দেখো, ছোটবেলায় যখন কোনও কিছুর জন্য আমরা স্ট্রাগল করি, তখন অতটাও আমাদের সেই বিষয়টার বোধ জন্মায় না । আমিও খুব স্বাভাবিকভাবেই এটা করেছিলাম । আর সে সময় মা-বাবা এমন ভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল, আমি তাই খুব সাবলীলভাবেই সময়টা উতরে গিয়েছিলাম । বাধা এসেছিল অনেক, কিন্তু দৃঢ় স্তম্ভের মতো বাবা-মা সবসময় আমার সঙ্গে ছিলেন । এভাবেই ১০ বছর যে কোথা দিয়ে কেটে গেল বুঝতেই পারিনি ।

প্র: এখন তো পড়াশোনা শেষ, এ বার কি পুরোপুরি অভিনয়ে মন দেওয়া?

উ: হ্যাঁ, পড়াশোনা মোটামুটি শেষ। আমি ড্রামা নিয়ে রবীন্দ্রভারতী থেকে পাশ করেছি । কিন্তু আমি আসলে পড়তে খুব ভালবাসি । লকডাউনে দেখছিলাম ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে কিছু পড়া যায় কিনা । একটু সুযোগ পেলেই আবার নতুন করে কোনও একটা বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করব ভাবছি।

প্র: কিভাবে এই পেশায় এলে?

উ: আসলে কোনও প্ল্যান ছিল না । হঠাৎই খবর পেলাম, নতুন মুখের জন্য অডিশন হচ্ছিল একটা । মা সেখানে নিয়ে গিয়েছিলেন । ওখানেই সিলেক্ট হয়ে যাই । তারপর ধীরে ধীরে কাজ শুরু করি । তখন ছোট বলে বাচ্চা মেয়েদের চরিত্র করতাম । ১৫-২০ দিনের কাজ থাকত । আবার বসে থাকতাম । আবার ডাক পেলে যেতাম । তখন এরকমই ছিল । কাজটা করতে খুব ভাললাগত আমার । আস্তে আস্তে এটাই প্যাশন হয়ে গেল।

 ‘সুবর্ণলতা’ ধারাবাহিকে ।
‘সুবর্ণলতা’ ধারাবাহিকে ।

প্র: অনেকদিন ধরে রাসমণি’তে বড় খুকির চরিত্রে অভিনয় করছো, পরে অন্য কোনও চরিত্রে যখন মানুষ তোমাকে দেখবেন, মানিয়ে নিতে অসুবিধা হবে না তো?

উ: হ্যাঁ অনেক দিন হল । দু’বছর । কিন্তু রাসমণি’তে পদ্মমণীর এই চরিত্রটা না করলে বুঝতেই পারতাম না যে, নেগেটিভ চরিত্র করেও মানুষের এত ভালবাসা পাওয়া যায় । দর্শকদের কাছে এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ । তবে পরের চরিত্র যাই করি না কেন, সকলের যাতে সেটাও খুব ভাল লাগে তার চেষ্টা সবসময় করব ।

প্র: এই বয়সে এরকম বয়স্ক একজন মহিলার চরিত্রে রয়েছে তুমি, হ্যাঁ বলেছিলে কেন?

উ: আসলে যখন দু’বছর আগে রাসমণি’তে আমি অভিনয় শুরু করি, তখন কিন্তু চরিত্রটার বয়স বেশি ছিল না । সে কিশোরী মেয়ে ছিল । তারপর ধীরে ধীরে তার বয়স বাড়ে । এটা এমন একটা চরিত্র, যেখানে সমস্ত বয়সের শেডটা ধরতে পেরেছি আমি । শুধু আমি নয়, আমরা সকলেই । এটা কিন্তু অনেক বড়ো একটা পাওয়া। তবে হ্যাঁ, এটা আমার কাছে একটা চ্যালেঞ্জের মতো । এত কম বয়সে এত বয়ষ্ক একটা চরিত্র’কে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা মুখের কথা নয় ।

প্র: দিয়ার সঙ্গে কি পদ্মমণির কোনও মিল আছে, নাকি দিয়া আর পদ্মমণি সম্পূর্ণ আলাদা?

উ: হ্যাঁ, একটা মিল আছে । পদ্মমণির মতো আমিও ভীষণ জেদি আর একগুঁয়ে । তবে আপাতত দৃষ্টিতে সিরিয়ালটা দেখে যদি মনে হয়, পদ্মই প্রধান ভিলেন, তা কিন্তু নয় । ও সত্যি কথাটা বলে দেয়, কিছু ক্ষেত্রে ও হয়তো বঞ্চিত । সে জন্য ঝামেলা-অশান্তি করে। সেই জায়গা থেকে বলতে গেলে, আমরা সবাই তো নিজেদের প্রাপ্য মর্যাদা চাই । হ্যাঁ, হয়তো সে ক্ষেত্রে পদ্ম’র সঙ্গে আমার চরিত্র খানিকটা মেলে ।

প্র: সেটে তো অনেক ঝগড়া করতে হয়, আর ব্যক্তিগত জীবনে সব থেকে ঝগড়া কার সঙ্গে?

উ: না, ব্যক্তিগত জীবনে খুব বেশি ঝগড়া কারও সঙ্গে নেই । তবে মায়ের সঙ্গে খুটিনাটি নিয়ে লেগেই থাকে । সব মা-মেয়ের মধ্যেই বোধহয় এটা হয় ।

প্র: বড় খুকি তো সামাজিক অনুশাসনের ব্যাপারে ভীষণ কঠোর, কিন্তু দিয়া কতটা?

উ: হ্যাঁ, পদ্ম তো ভীষণ কঠোর । কিন্তু আমি দিয়া, একেবারেই কঠোর নই । আমার মনে হয়, প্রত্যেকের নিজের জীবন, নিজের মতো করেই বাঁচা উচিত । আসল কথা হল, জীবনটাকে উপভোগ করা । যে ভাবে তুমি খুশি থাকবে, সেটাই করা উচিত ।

প্র: দিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব বেশি অ্যাক্টিভ নয়, এটা কেন?

উ: এটা ঠিক (হাসি) । আসলে নিজে, নিজের মধ্যেই থাকতে আমি একটু ভালবাসি । খুব কম সংখ্যক বন্ধু আছে আমার । আর যাঁরা আছে, তাঁদের সঙ্গেই শুধু আমি হ্যাং আউট করি । এ ছাড়া খুব একটা ব্যক্তিগত জীবন সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরতে ভালবাসি না আমি ।

প্র: পর্দায় তোমার মা তো তোমার থেকে আসলে অনেকটাই ছোট...দিতিপ্রিয়ার সঙ্গে দিয়ার কি রকম সম্পর্ক?

উ: আসলে রাসমণি’র সবকিছুই উল্টো । যাঁরা যাঁর থেকে বড়, তাঁরা বয়সে ছোট’র রোলে । যেমন দিতিপ্রিয়া আমাদের থেকে সবথেকে ছোট, কিন্তু ও আমাদের মায়ের চরিত্র করে । আবার মথুরবাবু আমাদের থেকে বড়, আমাকে বড়দি বলে ডাকে। দিতিপ্রিয়া আমাদের থেকে এত ছোট, যে ওঁকে বোনের মতোই ট্রিট করি আমরা । ও ভীষণ ছটফটে । আমরা সবাই সেটে দারুণ মজা করি । আর দিতিপ্রিয়া ৩ বছর ধরে রাসমণি করছে । আমরা তার এক বছর পর এসেছি । কিন্তু কখনও এরকম ফিলও হয়নি । আমরা একদম একটা পরিবারেরই মতো ।

প্র: রানী রাসমণি- পরবর্তী পরিকল্পনা গুলো কী কী? কী করতে চাও এরপরে?

উ: আপাতত রাসমণি নিয়েই আছি । এটা শেষ হলে আরও ভাল কোনও চরিত্রের অপেক্ষা তো অবশ্যই করব। তার উপর অন্য কোনও প্লাটফর্মে কাজ করারও ইচ্ছা রয়েছে । ওয়েব বা সিনেমা । তবে সবকিছু তো আমাদের হাতে থাকে না, দেখা যাক কী হয় ।

প্র: দিয়ার জীবনে স্পেশ্যাল কেউ কবে আসবে?

উ: জীবনে স্পেশ্যাল কেউ আসার জন্য, ভাগ্যের খুব দরকার হয় । এটা আমি বিশ্বাস করি । মনে হয়, গত এক বছর ধরে আমি খুব লাকি । হয়তো যাঁরা বোঝার তাঁরা এতেই বুঝে যাবেন। (হাসি)

Published by: Simli Raha
First published: September 21, 2020, 1:33 PM IST
পুরো খবর পড়ুন
अगली ख़बर